সংস্কৃতির পাশাপাশি দুর্গা পুজো কার্নিভ্যাল তুলে ধরবে সমাজে মধ্যবিত্ত ও কোটিপতির তফাৎ

387
দুর্গা পুজোর পাশাপাশি কার্নিভ্যাল তুলে ধরবে সমাজব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত ও কোটিপতির তফাৎ/The News বাংলা
দুর্গা পুজোর পাশাপাশি কার্নিভ্যাল তুলে ধরবে সমাজব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত ও কোটিপতির তফাৎ/The News বাংলা

শেষ হয়েও শেষ নয়। বাঙালির দুর্গা পুজো এখনও শেষ হয় নি। দুর্গা পুজো কার্নিভ্যাল হয়ে তবেই শেষ হবে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। আগামী ১১ অক্টোবর রেড রোডে; দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যালের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রের খবর; এ বছর শহরের ৭৯টি এবং সংলগ্ন জেলা থেকে আরও কয়েকটি প্রতিমা আসবে ওই উৎসবে। আর অবাক লাগলেও; সংস্কৃতির পাশাপাশি দুর্গা পুজো কার্নিভ্যাল তুলে ধরবে সমাজে মধ্যবিত্ত ও কোটিপতির তফাৎ।

পুজোর লড়াইয়ে সবসময় থাকে বিগ বাজেট ও ছোটো বাজেটের পুজোর লড়াই। বাঙালির দুর্গা পুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার কার্নিভ্যালেও সেই টাকার লড়াই অব্যাহত। কার্নিভ্যালে অংশগ্রহণ করতে ছোটো ও মাঝারি বাজেটের পুজোগুলির নাভিশ্বাস। কারণ, খুব কম করে হলেও; কার্নিভ্যালে অংশগ্রহণ করতে এক একটি পুজো উদ্যোক্তাদের খরচ প্রায় ১ লাখ টাকার উপর।

কার্নিভ্যালের জন্য যে ট্রলার ভাড়া করতে হয়; তার ভাড়াই ৪০ হাজার টাকা। ফুল মালা ও ফ্লেক্স দিয়ে সাজানর খরচা আরও ১০ হাজার। দুর্গা ছাড়া অন্যান্য ঠাকুর নিয়ে যাবার আলাদা গাড়ির খরচাও আরও কয়েক হাজার। জেনারেটর, সাজানোর লাইট নিয়ে আরও ১০ হাজার। পুজো উদ্যক্তাদের গাড়ি ভাড়া; টিফিন, ঠাকুর তোলা নামানো কুলি ভাড়া, ট্রলারের ড্রাইভারের খরচা নিয়ে সবচেয়ে কম যে খরচ তাও ১ লাখ টাকার উপর। আর একটু জমকালো অনুষ্ঠান করতে গেলে; মিনিমাম কয়েক লাখ টাকা খরচা।

ফলে পুজোর শেষে ছোটো ও মাঝারি বাজেটের পুজোগুলোর কাছে; এটা সত্যি মাথা ব্যাথার কারণ। কার্নিভ্যালে তাই ৮০ টি পুজোর মধ্যে অর্থনৈতিক তফাৎ পরিষ্কার লক্ষ্য করা যাবে। সুরুচি বা চেতলা অগ্রণী বা অন্যান্য বিগ বাজেটের পুজো যেখানে জমকালো অনুষ্ঠান করে বাংলা, ভারত ও বিশ্বকে চমকে দিতে তৈরি; অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজোগুলি কোনরকমে কার্নিভ্যালে হাঁটতে তৈরি।

ফলে বলাই যায়; দুর্গা পুজোর পাশাপাশি এই কার্নিভ্যাল তুলে ধরবে; সমাজব্যবস্থায় নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও কোটিপতির তফাৎ। ১০ টি পুজো যখন রেড রোড কাঁপিয়ে কার্নিভ্যালে যাবে; অর্ধেকের বেশি পুজো তখন যাবে নিজেদের মান সম্মান বাঁচিয়ে; বাংলার মুখ উজ্জ্বল করতে। আন্তর্জাতিক কার্নিভ্যালেও কি বাংলার একদিকে আলোকিত ও একদিকে জীর্ণ সমাজ ব্যবস্থার ছবি ফুটে উঠবে?

সন্তোষপুর লেক পল্লীর মত বড় পুজোও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশঙ্কায়; কার্নিভ্যালের টাকা জোগাড় হবে তো? এই সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসার উপায় কি? একটা রাস্তার কথা বলেছেন; আর্থিক কারণে সমস্যায় পরা সন্তোষপুর লেক পল্লীর পুজো উদ্যোক্তা সোমনাথ দাস। তাঁর মতে; “রাজ্যের ২৮ হাজার পুজোকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে; ৭০ কোটি টাকা খরচা না করে, পুজোগুলিকে ১৫ হাজার টাকা করে দিয়ে; বাকি ২৮ কোটি টাকা কার্নিভ্যালের জন্য খরচা করতে পারত রাজ্য সরকার।

তাহলে পুজোর কার্নিভ্যালে বাংলার অর্থনীতিক বিভেদ ফুটে উঠতো না। পুজোর কার্নিভ্যালে গরিব কোটিপতি বা বিগ বাজেট ও ছোটো বাজেটের তফাৎ ভারত ও বিশ্বের সামনে ফুটে উঠত না। সত্যি আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠত পুজোর কার্নিভ্যাল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন