ঠাকুর দেখতে যাওয়ার আগেই জেনে নিন, কোন পুজোর কি থিম

911
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার আগেই জেনে নিন, কোন পুজোর কি থিম/The News বাংলা
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার আগেই জেনে নিন, কোন পুজোর কি থিম/The News বাংলা

যত দিন যাচ্ছে; থিম পুজো হয়ে উঠছে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক এবং দুর্গাপুজো হয়ে উঠছে; শিল্পকার্য দেখানোর এক বিরাট মঞ্চ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়; শিল্পীর ধারণায় কিছু থিম এত জটিল হয় যে; অত অল্প সময়ে সাধারণের পক্ষে দেখে বোঝা সম্ভব হয়না। তাই পুজোয় যারা থিম দেখে যারা বুঝতে ভালোবাসেন; তাদের অবগতির জন্য দেওয়া হল কিছু পুজোর থিম। যদিও এমন কিছু থিম থাকে যেগুলো খুব সহজ ও চিত্রাকর্ষক। যতগুলো পুজো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে; সেগুলো আপনাদের সামনে রাখা হল। অবশ্যই এটা আপনার এবার পুজোর প্ল্যানিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

হাতিবাগান : নলিন সরকার স্ট্রীট; “কর্মই হোক মানুষের পরিচয়” ধর্ম নয় কর্মই। মানুষের অস্তিত্ব এটাকেই দেখানো হবে; বিভিন্ন প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মাধ্যমে। সিকদারবাগান সর্বজনীন; জল সংরক্ষণের ভাবনা নিয়ে গড়ে উঠছে; এবারের থিম “যত্নে রাখুন রত্ন পাবে”। মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে; অসংখ্য ট্যাগ কল এবং পাইপের মাধ্যমে। কাশীবোস লেন; জল সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে কাশি বোস লেন; এর এবারের থিম “বিন্দু বিন্দু দিয়ে গড়ব সিন্ধু”। দেখানো হবে পুরনো সভ্যতার জলের ট্যাঙ্ক এবং শুকিয়ে যাওয়া নদী।

হাতিবাগান নবীনপল্লী; “লাইফলাইন ” বিভিন্ন রোগ নিয়ে সচেতনতা হল; এই পুজোর প্রধান থিম। মন্ডপ সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে; চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম। এছাড়া একটি থ্রিডি ঝরনা ও যোগ ব্যায়ামের কয়েকটি কসরত দেখানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ রাস্তার ভিড় এড়িয়ে ঠাকুর দেখুন, কোন মেট্রো স্টেশনে নেমে কি কি পুজো দেখবেন

শোভাবাজার : আহিরীতলা সর্বজনীন; মণ্ডপটি অভ্যন্তর তৈরি হয়েছে গুজরাটের প্রাচীন স্থাপত্য রানি কি ভাব এর অনুকরণে। অন্যদিকে সমস্ত মণ্ডপটি মাধ্যমে; জল সংকটের একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আহিরীতলা যুবকবৃন্দ; পরিবেশ দূষণ। কুমোরটুলি পার্ক; “উঁকিঝুঁকি” ভিনগ্রহীদের চোখে দুর্গাপুজো। কুমোরটুলি সর্বজনীন; “কল্পতরু”। বাগবাজার সর্বজনীন; সাবেকি। জগৎ মুখার্জি পার্ক; বেনারসের ঘাট তৈরি করা হবে; থাকবে লাইভ আরতির ব্যবস্থা।

টালা : টালা বারোয়ারি- “সোনায় মোড়া ৯৯”; সোনালী ঘাস যা পাওয়া যায় আমাজন আফ্রিকা এবং ভারতের কিছু সীমিত জায়গায়। তা দিয়েই; তৈরি হচ্ছে এবারের পুজোর মন্ডপ সোনার বাংলা।

শিয়ালদহ ও এমজিরোড : মহম্মদ আলী পার্ক; কর্নাটকের একটি মন্দিরের আদলে; তৈরি করা হচ্ছে এবারের প্যান্ডেল। তবে প্রতিবার যে স্থানে পুজো হয়; এবার সেখানে না হয়ে; পুজো হবে তারাচাঁদ স্ট্রিটে।

কলেজ স্কোয়ার; রাজস্থানের উমেদ ভবন এর আদলে; তৈরি হচ্ছে এবারের মন্ডপ। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার; মায়াপুরের সুবৃহৎ বৈদিক প্লানেটরিয়াম মন্দির এর অনুকরণে; তৈরি হবে প্যান্ডেল। অন্যদিকে প্রতিমা তৈরি হবে; প্রায় ৫০ কেজি সোনা দিয়ে।

গিরিশপার্ক ও মানিকতলা : সিমলা ব্যায়াম সমিতি; বুলেনের সাজে; সেজে উঠবে দুর্গা প্রতিমা। লালাবাগান নবাঙ্কুর; ক্ষুধার্তের পাশে; দাঁড়ানোর বার্তা থাকবে থাকবে খাবার নষ্টকারী কাল্পনিক অসুর।

দমদমপার্ক ও নাগেরবাজার : দমদম তরুণসংঘ; দ্রুত বেড়ে চলা কংক্রিটের জঙ্গলল; কিভাবে পৃথিবীর সামাজিক ও প্রাকৃতিক জগতের ক্ষতি করছে তাই নিয়েই এবারের থিম “২০১৯ এ ২০৯১”। দমদম পার্ক তরুণ দল; মূলত বৃহন্নলাদের জীবন নিয়ে এবারের পুজোর থিম। কামারডাঙ্গা; ১১০ কেজি রুপোর প্রতিমা।

লেকটাউন ও বাগুইহাটি : শ্রীভূমি স্পোর্টিং; প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে; বর্তমান সভ্যতার মেলবন্ধন। বাগুইহাটি ইউনাইটেড ক্লাব; প্রতিদিনের জীবনে; বাঁচার এবং এগিয়ে যাওয়ার যে নীতি; তাকে নিয়েই এবারের থিম “সবটাই রাজনীতি”।

সল্টলেক : সল্টলেক একেব্লক; টেকনোলজি এবং ফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা; কিভাবে আমাদের বর্তমান জীবনকে প্রভাবিত করছে; তা নিয়েই গড়ে উঠবে এবারের থিম “মোহ”। সল্টলেক এজেব্লক; ওয়ারলি নামক আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিল্পকলায়; তারা মন্ডপকে সাজাচ্ছে। সল্টলেক এফডি ব্লক; গালিভার ট্রাভেলস সেই বিখ্যাত গল্প এবং তার সেই লিলিপুটের জগৎ হলো; এবারের সল্টলেক এফডি ব্লক এর থিম।

খিদিরপুর, চেতলা ও আলিপুর : ২৫ পল্লী; দহনের জ্বালায় জ্বলছে পৃথিবী। চেতলা অগ্ৰনী; “কলকাতা চলিছে নড়িতে নড়িতে”; ফুটে উঠবে পুরনো কলকাতা; পুরনো লেটারবক্স; ভায়োলিন প্লেয়ার; জনপ্রিয় বাঙালি চরিত্র; আঁকায় হাওড়া ব্রিজ; ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল; বিড়লা প্লানেটরিয়াম ইত্যাদি। সুরুচি সংঘ; “অয়ম্ আরম্ভ হতভায় ভবতু”।

রাসবিহারী; গড়িয়াহাট; ঢাকুরিয়া ও টালিগঞ্জ : দেশপ্রিয় পার্ক; এখানে চালচিত্রে রঙিন দুনিয়ায় ফুটে উঠবে চন্ডীপাঠ। বাদামতলা আষাঢ় সংঘ; “বিন্দুতেই শুরু বিন্দুতেই বিলীন”; মহাবিশ্বের সূচনা; বিগব্যাং এবং মহামায়ার শক্তি নিয়ে এবারের থিম।

৬৬ পল্লী; কারিগর এবং শ্রমিক; এদের থিমের মূল বিষয়। মণ্ডপে থাকবে নৌকার কাঠামো। মুদিয়ালি ক্লাব; “সাজিয়ে পুজোর ডালি রংয়ের হাটে মুদিয়ালি”; আলো এবং গ্লাস পেইন্টিং; এর মাধ্যমে ফুটে উঠবে শিল্প।

শিব মন্দির; যত দিন যাচ্ছে ক্ষীণ হয়ে আসছে আমাদের মধ্যেকার সামাজিক বন্ধন। সে বিষয়টি সামনে রেখে এবারের শিবমন্দির সর্বজনীন থিম “বন্ধন”। ত্রিধারা সম্মিলনী; নারী ক্ষমতায়ন কে কেন্দ্র করে; এবারের থিম “দৃষ্টিকোণ নাকি দৃষ্টিবিভ্রম”। ম্যাডক্স স্কোয়ার; সাবেকি।

বালিগঞ্জ কালচারাল; চা-বিস্কুট, ফেলুদা তোপসে, কিংবা উত্তম-সুচিত্রা ইত্যাদির মতো অতি পরিচিত জুড়িগুলি নিয়েই এবারের থিম “যুগলবন্দী”। সমাজসেবী; সমাজের শ্রমিকশ্রেণীর শ্রমের মর্যাদা কে তুলে ধরতে এবারের সমাজসেবীর থিম “কুর্নিশ”।

হিন্দুস্থান পার্ক; “নবরস” অর্থাৎ অনুভূতি প্রকাশের নয়টি ভঙ্গিমাকে তুলে ধরা হবে। সঙ্গে থাকবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন নৃত্য শৈলী। যোধপুর পার্ক; মাটি দিয়ে তৈরি শিব মন্দির।

৯৫ পল্লী; প্লাই টালি গোবর এসব দিয়ে তৈরি এবারের মন্ডপ। এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ দুর্গা মায়ের প্রতিমা। একডালিয়া এভারগ্রীন; হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত মহাদেবের জাটলি মন্দিরের অনুকরণে তৈরি হবে এবারের একডালিয়ার প্যান্ডেল।

নাকতলা ও গড়িয়া : নাকতলা উদয়ন সংঘ; কলসি,বাঁশ এবং শব্দের মাধ্যমে মানব জন্মের প্রকৃত বোধকে তুলে ধরা হবে। পঞ্চদুর্গা; মায়ের পাঁচটি রূপ দেখানো হয়। এছাড়া নারকেলের খোলাকে রং করে করে; অনন্য এক শিল্প নিদর্শন সৃষ্টি করা হয়েছে। নবদুর্গা; এখানে মায়ের নটি রূপকে দেখানো হয়। এবারে এখানে এক কাল্পনিক মন্দির তৈরি করা হচ্ছে এবং শান্তির বার্তা প্রচার করতে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মূর্তি রাখা হয়েছে।

সন্তোষপুর লেকপল্লী; পলিউশন এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং-কে ফুটিয়ে তোলা প্লাস্টিক, নষ্ট পাইপ, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং সর্বোপরি প্লাস্টিক অসুরের মাধ্যমে। থাকবে অ্যামাজনের দাবানলের আবহ। মন্ডপ সজ্জায় ব্যবহার করা হবে বরফ।

ত্রিকোণ পার্ক; সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষের সাথে নিম্নবিত্ত মানুষের মেলবন্ধন। রাজডাঙ্গা নবোদয় সংঘ; সাম্প্রতিককালের এনআরসির আবহে বাংলাভাগ এবং উদ্বাস্তু সমস্যাকে সামনে রেখে; এবারের থিম “উদ্বাস্তু এক ফিনিক্স পাখির নাম”।

কসবা : বোসপুকুর শীতলা মন্দির; “খুঁজে দেখো আপন আলো”; বই খাতা পেন্সিল জ্যামিতি বক্স এবং সর্বোপরি বিশাল এক পেনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে শিক্ষার বিস্তারকে।

বেহালা; হরিদেবপুর ও ঠাকুরপুকুর : বেহালা নতুন দল; পরিচর্যার অভাবে ভগ্নপ্রায়, প্রাচীন মহালক্ষ্মীর একটি মন্দির কে নিয়ে এবারের থিম “মহালক্ষ্মীর মায়ায় ভরা রেকনেউলের পরম্পরা”।

হরিদেবপুর ৪১ পল্লী; আমাদের জীবনে খবরের প্রভাব অপরিসীম। বর্তমান যুগে আমরা বাস করছি খবরের স্তরে।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে এবারের হরিদেবপুর ৪১ পল্লীর থিম “আগন্তুক”। ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক; মূলত আলপনা কে শিল্প করে গড়ে উঠবে এবারের এসবি পার্কের মণ্ডপটি।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন