কার্নিভ্যাল তুমি কার, মা দুর্গার না মুখ্যমন্ত্রী মমতার

892
কার্নিভ্যাল তুমি কার, মা দুর্গার না মুখ্যমন্ত্রী মমতার/The News বাংলা
কার্নিভ্যাল তুমি কার, মা দুর্গার না মুখ্যমন্ত্রী মমতার/The News বাংলা

মানব গুহঃ রেড রোডে কার্নিভালের নাম করে; মুখ্যমন্ত্রী আসলে নিজের প্রচার করছেন। গত তিন বছর ধরেই এটা বিরোধীদের অভিযোগ। চার বছরে পা দিয়েও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। রেড রোড থেকে পুজো উদ্যোক্তাদের ট্যাবলো; এবারও সর্বত্র শুধু তাঁরই হাসিমুখ। মমতার হাসিমুখে চাপা পড়তে চলেছে স্বয়ং মা দুর্গাও। প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠে গেছে; কার্নিভ্যাল তুমি কার; মা দুর্গার না মুখ্যমন্ত্রী মমতার!

পুজোর কার্নিভ্যাল কিছু নতুন নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিয়ে এই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে; ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তুমি কার? বাংলা সিনেমার? বাংলার সিনেমা প্রেমিকদের? না, শুধুই ‘তাঁর’? কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এর সময়; তাঁর হাসিমখের বড় বড় কাট আউট দেখা যায় নন্দন চত্বর ছাড়িয়ে গোটা কলকাতা জুড়ে। তেমনই রেড রোড কার্নিভ্যাল জুড়ে; এখন শুধুই মুখ্যমন্ত্রী মমতার মুখ।

আরও পড়ুনঃ দুর্গা পুজোয় পুলিশ প্রশাসনের রাজনীতি, মমতার কার্নিভ্যাল বয়কট পুজো উদ্যোক্তাদের

কোথায় নেই তিনি? রেড রোডের সর্বত্র। কার্নিভ্যালে আসা প্রত্যেকটি পুজোর ট্যাবলোতে তাঁর কাট আউট মাস্ট। রেড রোডে দুর্গা পুজোর আন্তর্জাতিক কার্নিভ্যাল; বাংলার দুর্গা পুজোকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যাচ্ছে! না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যাচ্ছে? সে প্রশ্ন গত তিন বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে।

প্রায় ৮০ টি পুজো এবার থাকবে; রেড রোডে কার্নিভালে। প্রত্যেক পুজোর জন্য বরাদ্দ ৩ টি করে ট্যাবলো। তবে তাঁর হাসিমুখের কাট আউট থাকছে সব ট্যাবলোতেই। ওটাই যে অলিখিত নিয়ম। রেড রোডে দুর্গা পূজার কার্নিভ্যাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিস্ক প্রসূত। বাঙালির সেরা উৎসবকে ভারতের দরবারে ও বিশ্বের আঙিনায়; পৌঁছে দেবার জন্য ‘তাঁর’ চিন্তাধারা অসাধারণ; প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সর্বত্র ‘তাঁর’ হাসিমুখের কাট আউট; ‘তাঁর’ ভাবনা-চিন্তা-প্রয়োগের পুরোটাই গঙ্গার জলে বিসর্জন দিতে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ সংস্কৃতির পাশাপাশি দুর্গা পুজো কার্নিভ্যাল তুলে ধরবে সমাজে মধ্যবিত্ত ও কোটিপতির তফাৎ

বিশ্বের দরবারে বাঙালির দুর্গাপুজোকে তুলে ধরতে; ‘তাঁর’ হাসিমুখের কার্নিভ্যাল দেখবে গোটা বাংলা। সব পুজো কমিটির শুরুর গাড়িতেই থাকবে; ‘তাঁরই’ হাসিমুখের কাট আউট। কে বলবে ‘তাঁকে’; কার্নিভালের মাধ্যমে বাংলার পুজোকে বিশ্বের দরবারে তুলে আনতে গেলে; সর্বত্রই ‘তাঁর’ মুখ বসানোর স্বভাব ত্যাগ করতে হবে। কার্নিভ্যালকে নিজের প্রচারের আওতা থেকে বাদ দিতে হবে। নিজের হাসি মুখ কমাতে না পারলে; এই কার্নিভ্যাল বাংলার মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে। কোনদিন তা আন্তর্জাতিক হবে না।

ঠিক তেমনই; ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সর্বত্রই নিজের মুখ না দেখিয়ে; ফিল্ম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পোস্টারে ছবি থাকাটাই বাঞ্ছনীয়; বারবার বলেছেন ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা। না হলে কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; নামেই আন্তর্জাতিক থেকে যাবে, কাজে নয়।

যুব বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে দুর্গা পুজো; কার্নিভ্যাল থেকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; কারণে অকারনে সব জায়গায় সর্বত্রই ‘তাঁর’ হাস্যকর হাসিমুখ; সত্যি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে আম বাঙালির। সর্বত্র ‘তাঁর’ হাসিমুখের ছবি; কিন্তু এবার বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ‘সর্বঘাটে কাঁঠালি কলা’র মত; ‘তাঁর’ হাসিমুখ নিয়ে এবার প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

বিসর্জনের আগে প্রতিমা ফিরে দেখার; ও কার্নিভ্যালের নামে দুর্গা পুজো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ; রীতিমতো প্রশংসিত হয়েছে রাজ্যের পাশাপাশি গোটা দেশে। শহরবাসীর কাছেই শুধু নয়; কার্নিভ্যালের কদর বেড়েছে বিদেশি অতিথিদের কাছেও। বাংলার দুর্গা পুজোকে সারা বিশ্বের দরবারে; পৌছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেখতে দেখতে চতুর্থ বছরে পৌছে গেল পুজো কার্নিভাল।

থাকবে কলকাতা, হাওড়া ও উত্তর চব্বিশ পরগনার পুজো কমিটিগুলি। গতবারের মতো এবারও বিসর্জনের কার্নিভাল দেখতে; উপস্থিত থাকবেন বিদেশি পর্যটকরা। সেখানে শুধুই নিজের মুখ প্রদর্শন না করে; দুর্গা পুজোকেই বেশি গুরুত্ব দিলে; তবেই আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় সাড়া ফেলা যাবে যাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর মুখ্যমন্ত্রীর নিজের মুখের ভিড়ে মা দুর্গা আবদ্ধ থাকলে; সেটা নিজের প্রচার ছাড়া আর কিছুই হবে না। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন; তত তাড়াতাড়ি তাঁর মঙ্গল; বলছে বাংলার আমজনতা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন