বিশ্বমানের যুবভারতী থেকে দূরে সরছে বাঙালির ফুটবল, ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান যাচ্ছে নদিয়া

271
বিশ্বমানের যুবভারতী থেকে দূরে সরছে বাঙালির ফুটবল/The News বাংলা
বিশ্বমানের যুবভারতী থেকে দূরে সরছে বাঙালির ফুটবল/The News বাংলা

বাংলায় যুব বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে দুই বছর ধরে; যুবভারতী স্টেডিয়ামের আমূল সংস্কার করেছে রাজ্য সরকার। খরচ হয়েছে প্রায় ১২১ কোটি টাকা। যাতে গোটা স্টেডিয়ামের ভোলই একেবারে বদলে গিয়েছে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন হয়েছে বিশ্বমানের। সব উন্নত হয়েছে; শুধু দেশের ফুটবল রাজধানী কলকাতা থেকে বা যুবভারতী থেকেই; দূরে সরছে বাঙালির ফুটবল। আই লিগ খেলতে ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান যাচ্ছে নদিয়া; বিশ্বমানের যুবভারতী থেকে দূরে সরছে কলকাতার ফুটবল।

যুবভারতীর গোটা স্টেডিয়ামে; বসানো হয়েছে বাকেট সিট। কৃত্রিম ঘাসের জায়গায় এসেছে বার্মুডা ঘাস। চারটে ড্রেসিংরুমেরই আমূল সংস্কার করা হয়েছে। আলাদা করে তৈরি করা হয়েছে; রেফারিজ রুম আর বল বয় রুম। নতুন করে তৈরি করা হয়েছে মিডিয়া সেন্টার। এখন তিন তিনটে ভিআইপি বক্স রয়েছে যুবভারতীতে।

আরও পড়ুনঃ বরের জন্মদিনের রাতে কেন ঘুমের ওষুধ খেলেন নুসরত

কিন্তু তা হলে কি হবে! কিন্তু ফুটবল কোথায়? আই লিগের ম্যাচ খেলতে; যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে; সুদুর নদিয়ার কল্যাণীতে যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। কলকাতা থেকে কেন দূরে যাচ্ছে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী? এখানেই জমে উঠেছে গল্প।

আগে দুই প্রধানের ম্যাচ থাকলে; যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য সরকারকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হত ক্লাবগুলোকে। আর এবার কর্পোরেট ক্লাব হওয়ায় বা ক্লাব কোম্পানি হওয়ায়; সল্টলেক স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে গেলে দিতে হবে ১৫ লাখ টাকা। এরপর আছে পুলিশ ও আনুসাঙ্গিক খরচা। তাই ইস্টবেঙ্গল এবার; আই লিগের ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নদিয়াতে।

স্টেডিয়াম ফি ১৫ লাখ টাকা; পুলিশ ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ নিয়ে যা দাঁড়াচ্ছে; তা ডার্বি ছাড়া আই লিগের অন্যান্য ম্যাচে খরচ করতে রাজি নয় ইস্টবেঙ্গল। কোম্পানি হওয়ায় এই টাকা দিতে হবে ক্লাবকে; পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য। ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার The News বাংলা কে পরিষ্কার জানিয়েছেন; “ডার্বি ছাড়া বাকি ম্যাচে; এত খরচা বহন করতে রাজি নয় কোয়েস ইস্টবেঙ্গল; তাই কল্যাণী স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হয়েছে”।

একই রাস্তায় হাঁটছে মোহনবাগান ক্লাবও। তারাও যাচ্ছে নদিয়া। তবে মোহনবাগান এখনও কোন কর্পোরেটের সঙ্গে যুক্ত না হতে পারায়; কম টাকা খরচা করেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলার সুযোগ পেলেও; পুলিশ খরচা ও অন্যান্য খরচা যা হচ্ছে; তা ডার্বি ছাড়া অন্য কোন ম্যাচে খরচা করতে রাজি নয় মোহনবাগানও। মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসু The News বাংলা কে পরিষ্কার জানিয়েছেন; “রাজ্য সরকার ঠিকই করছে; কর্পোরেট ক্লাব থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভাড়া ১৫ লাখ নিয়ে। তবে সেটা ছাড়াও আনুষঙ্গিক খরচা যা হচ্ছে; তাতে আমরাও নদিয়া যাচ্ছি”।

আর্থিক দায় কমাতে দুই প্রধান আই লিগে দুটো ডার্বি ছাড়া; বাকি সব ম্যাচ কল্যাণী স্টেডিয়ামে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আই লিগে ইস্টবেঙ্গল তাদের হোমগ্রাউন্ড হিসেবে; কল্যাণী স্টেডিয়ামকে দেখিয়েছে। মোহনবাগানও একই পথের পথিক।

যুবভারতীতে ডার্বি বাদ দিলে; দুই টিমের অন্য ম্যাচে দর্শকই হয় না। ১০-১২ হাজার দর্শকে বড্ড ফাঁকাফাঁকা দেখায় গ্যালারি। তার থেকেও বড় কথা যুবভারতীতে ম্যাচ করলে; নিরাপত্তা ও আয়োজনে বিশাল খরচ। যার অর্ধেকও হবে না কল্যাণীতে ম্যাচ করলে। এখন কল্যাণীতে ফ্লাডলাইট হয়ে গিয়েছে। তাই সেখানে রাতে ম্যাচ করতেও অসুবিধে নেই। তা ছাড়াও স্টেডিয়ামের মাঠ ছাড়া; কল্যাণীতে দুটি আলাদা উন্নতমানের প্র্যাক্টিস মাঠ রয়েছে।

সবমিলিয়ে কলকাতা থেকে সরছে ফুটবল। তবে এখনও রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে দুই প্রধান; ও ফুটবলপ্রেমী মানুষ। তবে আইএসএল এ যুবভারতী-র জন্য; এটিকে-র কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয় রাজ্য সরকার। ফলে আই লিগে কোয়েস্ট ইস্টবেঙ্গলের কাছ থেকে কি করে কম টাকা নেবে? প্রশ্ন তুলেছেন; মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসু। সবমিলিয়ে ডার্বি ছাড়া; দুই প্রধানের সমর্থকদের কল্যাণী ছুটতে হবে; আই লিগে নিজের নিজের প্রিয় দলের ম্যাচ দেখার জন্য।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন