অর্থনৈতিক সংকটে নির্মলা, অর্থদফতরে প্রণব ও মনমোহনের অভাব টের পাচ্ছে ভারত

180
অর্থনৈতিক সংকটে নির্মলা সিতারামন, অর্থদফতরে প্রণব মুখার্জি ও মনমোহন সিংয়ের অভাব টের পাচ্ছে ভারত/The News বাংলা
অর্থনৈতিক সংকটে নির্মলা সিতারামন, অর্থদফতরে প্রণব মুখার্জি ও মনমোহন সিংয়ের অভাব টের পাচ্ছে ভারত/The News বাংলা

মানব গুহঃ দেশের অর্থনৈতিক মহল বলছে; দেশে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। আর যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে; নরেন্দ্র মোদী সরকার ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এর আগেও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দায়; সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ; আমেরিকাকেও কেঁপে যেতে দেখেছে অর্থনৈতিক মহল। কিন্তু সেই আঁচ ভারতবাসীর গায়ে লাগে নি। যে দুজন মানুষ তাঁদের বুদ্ধি ও চিন্তাধারা দিয়ে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন; তাঁরা আজ ক্ষমতা থেকে অনেক দূরে। অর্থদফতরে প্রণব মুখার্জি ও মনমোহন সিংয়ের অভাব টের পাচ্ছে ভারত।

একজন মনমোহন সিং। ২২ মে ২০০৪ থেকে ২৬ মে ২০১৪; ১০ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। এছাড়াও ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ভারতের যোজনা কমিশনের সহ অধ্যক্ষ; এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। অর্থমন্ত্রী হিসাবে কার্যকালে ১৯৯১ সালে; ভারতীয় অর্থনীতির পুনর্গঠনের ফলস্বরূপ লাইসেন্স রাজ প্রথার অবলুপ্তির ক্ষেত্রে; তাঁর অবদান বিশেষভাবে প্রসংশিত হয়।

আরও পড়ুনঃ দিদির দ্বিচারিতা, বাংলায় এনআরসি চাই দাবী নিয়ে সংসদ মাথায় তুলেছিলেন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্যজন প্রণব মুখার্জি। মনমোহন সিংহের প্রথম সরকারে তিনি ছিলেন বিদেশমন্ত্রী। দ্বিতীয় সরকারে প্রণব মুখোপাধ্যায় পুনরায় অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব পান। ১৯৮০-এর দশকে তিনি এই মন্ত্রকেরই দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৬ জুলাই; তিনি সরকারের বার্ষিক বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটে তিনি কয়েকটি কর সংস্কারের প্রস্তাব রাখেন। যেমন, ‘অস্বস্তিকর’ ফ্রিঞ্জ বেনেফিট ট্যাক্স ও কমোডিটিজ ট্র্যানজাকশান ট্যাক্সের অবলোপন ইত্যাদি। তাঁর আমলেই গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স বা জিএসটি শুরু করার চেষ্টা হয়; যার প্রশংসা করেন বিভিন্ন কর্পোরেট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর ও বিক্রম কতদিন দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখতে পারবে, দেশে চাকরি যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের

অর্থনীতিবিদ্যা অণুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে; অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ধীর গতি অথবা বাণিজ্যিক আবর্তন-এর সংকোচনকে মন্দা বলা হয়। মন্দার সময় বড় অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ধরন; একই রকম থাকে। মন্দার সময়; জাতীয় গড় আয় (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা GDP); চাকরি; বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যয়; উত্পাদন ক্ষমতার ব্যবহার; পারিবারিক আয়; ব্যবসায়িক লাভ এবং মুদ্রাস্ফীতি; এ সব কিছুই অনেক কমে যায়; এই সময় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং বেকারত্বের হার বেড়ে যায়। যেটা এখন ভারতের ক্ষেত্রে হচ্ছে।

সরকার নানা প্রকার সম্প্রসারণমূলক কাজকর্ম যেমন; বৃহদাকার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে; টাকার জোগান বৃদ্ধি করে; সরকারি খরচ বৃদ্ধি করে এবং করের পরিমাণ কমিয়ে মন্দার মোকাবিলা করার চেষ্টা করে। যেটা করার চেষ্টা করছে মোদী সরকার। কিন্তু এখানেই ব্যর্থ নির্মলা সিতারামন; যা সামাল দিতে পেরেছিলেন প্রণব মুখার্জি ও মনমোহন সিং।

আরও পড়ুনঃ সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে নামার স্বপ্ন, মন্দির যাওয়া ও কান্না নিয়েই ব্যস্ত বাম

১৯৯১ সালে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাও; মনমোহন সিং-কে অর্থমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করেন। সেই সময় ভারত এক অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন ছিল। মনমোহন সিং সেই সময় ভারতীয় অর্থনীতিকে; সমাজবাদী অর্থনীতি থেকে মুক্ত পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে পরিবর্তিন করেন। এই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ব্যবস্থা; ব্যক্তি মালিকানাধীন বানিজ্যের স্থায়িত্য ও উন্নতির পরিপন্থী; প্রত্যক্ষ্য বৈদেশিক পুঁজি নিবেশের পথে বাধা সৃষ্টিকারী লাইসেন্স রাজ ব্যবস্থার অবলুপ্তিতে সহায়তা করে। সরকারী ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির ব্যক্তি মালিকানাধীনে; পরিনত করার প্রক্রিয়ার শুরু হয়। এই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ভারতের বার্ষিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার-কে; শতকরা ৩ থেকে বাড়িয়ে শতকরা ৮-৯ তে নিয়ে যেতে বিশেষ সহায়তা করে।

২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত; যতগুলো আর্থিক মন্দার কব্লে পড়েছে ভারত; তা থেকে বেড়িয়ে আসার রাস্তা বের করেছেন অর্থদফতরে প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। কারণ দুজনেই বিশ্বের অর্থনীতিকে; নিজেদের নখদর্পণে রেখেছিলেন। আর এখানেই মার খেয়ে গেছেন নির্মলা সিতারামন। অর্থমন্ত্রী হিসাবে প্রণব ও মনমোহনের ধারেকাছেও যেতে পারবেন না তিনি; এমনটাই মত অর্থনীতি মহলের। আর তাই এই অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরোতে; নির্মলা সীতারামনে ভরসা নেই ভারতের; অর্থদফতরে প্রণব মুখার্জি ও মনমোহন সিংয়ের অভাব টের পাচ্ছে দেশ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন