এক দেশ-এক বিধান-এক নিশান-এক প্রধান, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে শ্যামাপ্রসাদকে সম্মান দিয়েছিল মোদী সরকার

528
এক দেশ-এক নিশান-এক প্রধান, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে শ্যামাপ্রসাদকে সম্মান দিয়েছিল মোদী সরকার
এক দেশ-এক নিশান-এক প্রধান, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে শ্যামাপ্রসাদকে সম্মান দিয়েছিল মোদী সরকার

এক দেশ-এক নিশান-এক বিধান-এক প্রধান; কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার বিরুদ্ধে; দাবি তুলেছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে আর্টিকেল ৩৭০ ও ৩৫এ বাতিল করে সেই শ্যামাপ্রসাদকেই; বিশেষ সম্মান দিইয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরে আর্টিকেল ৩৭০ এর বিরোধীতা করে; শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রথম বলেছিলেন; যে এক দেশে দুই আইন, দুই প্রধান ও দুই নিশান চলবে না। ১১ই মে ১৯৫৩ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী; শ্রীনগর প্রবেশ করলে গ্রেফতার হন। পরে এক রহস্যজনক পরিস্থিতিতে শ্রীনগরেই; তাঁর মৃত্যু হয় ২৩শে জুন ১৯৫৩ সালে।

কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের; কাশ্মীর থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা। হিন্দুদের পবিত্র অমরনাথ তীর্থযাত্রা; কাটছাঁট করে সবাইকে কাশ্মীর উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার; পরামর্শ দেওয়া হয়। এবার কাশ্মীর থেকে তুলে দেওয়া হয় ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েও দেন সংসদে।

আরও পড়ুনঃ ৬৮ বছর পরেও রহস্যে মোড়া শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু ও নেহেরু শেখ আবদুল্লার ভুমিকা

সম্মান পান স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী; ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা; বাঙ্গালী হিন্দুদের জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে ভেঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টিকারী, কাশ্মীরকে ভারতের অভিন্ন অঙ্গরাজ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য; আজীবন আন্দোলনকারী ভারত কেশরী ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ আছে, নেহেরু ও শেখ আবদুল্লার চক্রান্তে; কাশ্মীরেই রহস্যময়ভাবে খু’ন করা হয়েছিলেন তাঁকে।

আর্টিকেল ৩৭০ অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরে; ভারতীয় দণ্ডবিধি বা IPC( Indian Pinal Code) কাজ করত না; এখানে RPC( Ranbir Pinal Code) অনুযায়ী; সমস্ত কাজ হত। ভারতের সমস্ত রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর; কিন্তু কাশ্মীরের বিধানসভার মেয়াদ ছিল ছয় বছর। আর্টিকেল ৩৭০ অনুযায়ী; কাশ্মীরের লোকেদের দ্বিনাগরিকত্ব ছিল। একটি ভারতের; এবং আরেকটি কাশ্মীরের। আর্টিকেল ৩৭০ অনুযায়ী, এখানে হিন্দু ও শিখরা সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও; কোন সংরক্ষণ এর সুবিধা পেত না।

আরও পড়ুনঃ বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির কি ভূমিকা ছিল

আর্টিকেল ৩৫এ অনুযায়ী নিয়ম ছিল, ভারতের কোন নাগরিক জম্মু কাশ্মীরে সম্পত্তি কিনতে পারবে না; বাড়ি তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু কাশ্মীরের নাগরিকরা ভারতের যে কোন রাজ্যে; জায়গা কিনতে পারবে। আর্টিকেল ৩৫এ অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরে জন্ম হলে; তবেই কাশ্মীরের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। তবে তার জন্য নিয়ম আছে। ১৯৫৪ সালে ১৪ই মে এর ১০ বছর আগে থেকে; সেই রাজ্যে বাস করছে এমন লোকই কাশ্মীরের স্থায়ী নাগরিক।

কাশ্মীরের আজ যে এই অবস্থা; তার জন্য প্রধান কারন ছিল আর্টিকেল ৩৭০ এবং আর্টিকেল ৩৫এ। কাশ্মীরকে এই বিশেষ রাজ্যের তকমা দিয়েছিল; ভারতের সংবিধান। ১৪ই মে ১৯৫৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ; আর্টিকেল ৩৫এ কে যুক্ত করেন সংবিধানে। এবার রাষ্ট্রপতি রমানন্দ কোবিন্দের হাত ধরে; তা উঠে যায় ভারতীয় সংবিধান থেকে।

আরও পড়ুনঃ বেমালুম উধাও হয়ে যান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু

সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হলে; সংসদদের দ্বারা সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করতে হয়। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর সরকার; এই প্রস্তাব সংসদের সামনে রাখেই নি। সোজা রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠিয়ে দেয়। রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার এর মাধ্যমে; একে সংবিধানে যুক্ত করেন। জহরলাল নেহেরুর একটা ভুল, দেশকে ৭০ বছর ধরে; রাজনৈতিক অস্থিরতায় ফেলে রেখেছে। মনে করেন অনেকেই।

জহরলাল নেহেরু ও শেখ আবদুল্লার, এই আর্টিকেল ৩৭০ ও আর্টিকেল ৩৫এ; প্রবর্তন এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং জোর করে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁর দাবী ছিল; “এক দেশ, এক নিশান, এক বিধান ও এক প্রধান”। তখন নিয়ম ছিল, ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া; কাশ্মীরে প্রবেশ করা যাবে না। শ্যামাপ্রসাদ জোর করে কাশ্মীরে প্রবেশ করলে; তাঁকে গ্রেফতার করে আবদুল্লার পুলিশ। এরপর ২৩ জুন ১৯৫৩ তে শ্রীনগরে, পুলিশি হেফাজতে; রহস্যময়ভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর মৃত্যু হয়।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই দাবী মানতে ও জহরলাল নেহেরুর সেই ভুলের খেসারত মেটাতে; উদ্যোগী হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা তুলে দিয়ে, ভারতবাসীর আশা পূরণ করেছে মোদী সরকার; মত রাজনৈতিক মহলের। তবে বিরোধীদের চরম সমালোচনার মধ্যে; পরে মোদী সরকার। তবে সিদ্ধান্ত যে ঐতিহাসিক; তা বলছেন সবাই। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্মান পেয়েছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর কাশ্মীর নিয়ে; এক দেশ-এক নিশান-এক বিধান-এক প্রধান এর আজীবনের লড়াই। তবে, এক দেশ-এক নিশান-এক বিধান-এক প্রধান; শ্যামাপ্রসাদের লড়াই আজও চলছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন