২৮ বছর পরেও খুঁজে পাওয়া যায়নি, ২১ শে জুলাইয়ের ১৩ তম শহিদ কে

1140

প্রতি বছর ২১ জুলাই দিনটি, শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসে; তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের বার্ষিক সাধারণ সমাবেশও; হয় এই দিনেই। যে কোনও উদযাপনের জন্য, এই ২১ জুলাই দিনটিকেই; বেছে নেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কেন? কী ঘটেছিল; এই ২১ জুলাই? ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালে জানা যায়; তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের অনেক আগেই ঘটেছিল এই ২১ জুলাই। তবে রাজ্যে একমাত্র বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের পিছনে; ও তারপরে রাজ্যের ক্ষমতা দখলে; এই ২১ জুলাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। তবে, ২৮ বছর পরেও খুঁজে পাওয়া যায়নি; ২১ শে জুলাইয়ের ১৩ তম শহিদ কে।

সালটা ১৯৯৩। রাজ্যে ক্ষমতায় তখন; জ্যোতি বসুর সরকার। সেই সময় ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দেন; তৎকালীন যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য, সচিত্র ভোটার আইডির দাবিতে; এই কর্মসূচি পালনের ডাক দেয় যুব কংগ্রেস। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে, প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছিল; তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন; সেই সময়ের যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ আন্দোলন; বিক্ষোভে পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ ইতিহাসে পড়ানো হয় না, আফগানদের পরাজিত করে ভারত ভূমি রক্ষা করেছিলেন নাগা সন্ন্যাসীরা

সেই দিনের ওই কর্মসূচীতে, পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন; ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী। ১৯৯৯ সালে তৃণমূলের জন্মের পরে, প্রতিবছর ২১ শে জুলাই; ১৩ জন শহিদেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে জনসভা করে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ভোট লুঠের প্রতিবাদে; এই সভা হওয়ার কথা ছিল সেবছরের ১৪ জুলাই। কিন্তু ১২ জুলাই প্রাক্তন রাজ্যপাল নুরুল হাসানের মৃত্যুর জন্য; কর্মসূচী নেওয়া হয় ২১ জুলাই। সেই থেকে এই দিনেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে; এই সভা আয়োজিত হয়ে আসছে।

সেদিন পুলিশের গুলিতে ‘শহিদ’ হয়েছিলেন; বন্দনা দাস, মুরারী চক্রবর্তী, রতন মণ্ডল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ রায়, অসীম দাস, কেশব বৈরাগী, শ্রীকান্ত শর্মা, দিলীপ দাস, রঞ্জিত দাস, প্রদীপ দাস, মহম্মদ খালেক, ইনু। অনেক লিস্টে ১৩ তম নামের জায়গায় ‘অ্যানোনিমাস’ লেখা আছে। তৃণমূলের ওয়েবসাইটে এখনও; ওই ১৩ নম্বর জায়গার পাশে লেখা আছে ‘অ্যানোনিমাস’। অর্থাৎ অজানা; কেন তাঁর পরিচয় গোপন আছে; এতদিন পরেও?

এক নজরে ১৩ জন শহিদঃ
১ বন্দনা দাস
২ মুরারী চক্রবর্তী
৩ রতন মণ্ডল
৪ কল্যান ব্যানার্জি
৫ বিশ্বনাথ রায়
৬ অসীম দাস
৭ কেশব বৈরাগী
৮ শ্রীকান্ত শর্মা
৯ দিলিপ দাস
১০ রঞ্জিত দাস
১১ প্রদীপ দাস
১২ মহম্মদ খালেক
১৩ ইনু/ ‘অ্যানোনিমাস’

পুলিশের গুলিতে নিহত এই ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীকে, শ্রদ্ধা জানাতেই; তারপর থেকে ২১ জুলাই দিনটি ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা শুরু হয়। কিন্তু আজও জানা যায়নি; ১৩ তম শহিদ ‘অ্যানোনিমাস’ বা ইনুর পরিচয় কি?

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন