দুই বিখ্যাত নায়িকার সঙ্গে ব্যর্থ প্রেম, পাক মহিলার প্রেমে সায়রার সঙ্গে বিচ্ছেদও হয় দিলীপের

2371
দুই বিখ্যাত নায়িকার সঙ্গে ব্যর্থ প্রেম, পাক মহিলার প্রেমে সায়রার সঙ্গে বিচ্ছেদও হয় দিলীপের
দুই বিখ্যাত নায়িকার সঙ্গে ব্যর্থ প্রেম, পাক মহিলার প্রেমে সায়রার সঙ্গে বিচ্ছেদও হয় দিলীপের

গোটা দেশকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন; বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কিং’। তবে সিনেমার পর্দায় ট্র্যাজেডির নায়ক দিলীপ কুমারের; ব্যক্তিগত জীবন ছিল বরাবরই রঙিন। অবিভক্ত ভারতের পেশোয়ারের ব্যাবসায়ি পরিবারের ছেলে; নিজেও হতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু ঘটনাচক্রে হয়ে গেলেন; বলিউড নায়ক। আর সেখানেই দুই বিখ্যাত নায়িকার সঙ্গে ব্যর্থ প্রেম; পাক মহিলার প্রেমে সায়রার সঙ্গে সাময়িক বিচ্ছেদও হয় দিলীপের। তারপরেই ৫ দশক ধরে চলে; দিলীপ-সায়রার বিবাহিত জীবন। যে কাহিনী আজও; দেশের মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় গল্প। পেশোয়ারের ইউসুফ খানের; বোম্বের দিলীপ কুমার হয়ে ওঠার কাহিনীর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় ট্রাজেডি কিং এর প্রেমকাহিনী।

প্রথম জীবনে বম্বে টকিজ-এ; কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে ইউসুফ ছবির গল্প বাছাই; এবং চিত্রনাট্য লেখার কাজে সাহায্য করতেন। খুব ভাল জানতেন উর্দু। ফলে নিজের কাজে; সুনাম অর্জন করতে সমস্যা হল না। তৎকালীন বিখ্যাত অভিনেত্রী দেবিকারানি; তাঁকে প্রস্তাব দিলেন অভিনয়ের। ১৯৪৪ সালে মুক্তি পেল অমিয় চক্রবর্তীর পরিচালনায়; ‘জোয়ার ভাটা’। দেবিকারানির পরামর্শেই; নাম পাল্টে ফেললেন ইউসুফ খান। ছবির জন্য তাঁর নাম হল দিলীপকুমার; বাকিটা ইতিহাস।

আরও পড়ুনঃ সম্পূর্ণ হিন্দু রীতিতে কলকাতায় নারী শিক্ষার স্কুল খুলেছিলেন, ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মী বাইয়ের আত্মীয়

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত কেরিয়ারে; দিলীপকুমার অভিনয় করেছেন ৬৫টির বেশি ছবিতে। ‘দেবদাস’; ‘কোহিনুর’; ‘মধুমতী’; ‘মুঘলে আজম’; ‘গঙ্গা যমুনা’; ‘রাম অউর শ্যাম’; ‘ক্রান্তি’; ‘সওদাগর’-সহ অসংখ্য ছবির নায়ক হয়ে গেলেন; বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কিং’। কেরিয়ারের মতো বর্ণময়; ইন্ডাস্ট্রির ‘প্রথম খান’-এর ব্যক্তিগত জীবনও। ১৯৪৮ সালে; মুক্তি পায় ‘শহিদ’। ছবিতে দিলীপকুমারের নায়িকা ছিলেন; কামিনী কৌশল। এই ছবিতে অভিনয় করার সময়ে; তাঁদের প্রেম ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে বহুচর্চিত বিষয়।

 দিলীপকুমার কামিনী কৌশল প্রেম
Dilip Kumar Kamini Kaushal Love Story
দিলীপকুমার কামিনী কৌশল প্রেম

দুজনে বিয়ে করবেন বলেও; ঠিক করেছিলেন। কিন্তু বাধা দিলেন; কামিনীর দাদা। তিনি রাজি ছিলেন না; এই সম্পর্কে। শোনা যায় তিনি দিলীপকুমারকে; হুমকিও দিয়েছিলেন। এরপর তাঁদের সম্পর্ক; ভেঙে যায়। সে বছরই কামিনী বিয়ে করেন; তাঁর প্রয়াত দিদির স্বামীকে। দুর্ঘটনায় নিহত দিদির দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই; এই সিদ্ধান্ত নেন কামিনী।

এরপর দিলীপকুমার; প্রেমে পড়েন মধুবালার। দীর্ঘ সাত বছর চলেছিল; তাঁদের প্রেমপর্ব। এই সম্পর্ক ভেঙে যায়; দুই তারকার ইগো-সমস্যায়। একটি ছবির শুটিং লোকেশনে, মধুবালাকে যেতে দিতে; রাজি ছিলেন না তাঁর বাবা। পরিচালক-প্রযোজক অনুরোধ করেন; দিলীপকুমারকে। তিনি যেন কথা বলেন; মধুবালার বাবার সঙ্গে। পরবর্তীকালে দিলীপকুমারের অভিযোগ ছিল; মধুবালার বাবা তাঁকে অপমান করেছেন।

দিলীপকুমার মধুবালা প্রেম
Dilip Kumar Madhubala Love Story
দিলীপকুমার মধুবালা প্রেম

অন্য দিকে মধুবালার বক্তব্য ছিল, দিলীপকুমারের কাছে; অপমানিত হয়েছেন তাঁর বাবা আতাউল্লাহ খান। তিনি তাঁর বাবার বিরুদ্ধাচারণ; করতে পারেননি। মধুবালার কথায় আতাউল্লাহর কাছে; ক্ষমা চাননি দিলীপকুমার। চাপানউতোরের জেরে ভেঙে যায়; দিলীপকুমার-মধুবালা প্রেম। ১৯৬০ সালে মধুবালা বিয়ে করেন; গায়ক-নায়ক কিশোরকুমারকে। কিন্তু দিলীপকুমার বেশ কয়েকবছর; অন্য কোনও সম্পর্ক থেকে দূরে ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ মহিলার সম্মানরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর ছেলেকে গাড়ির পেছনে বেঁধে এনেছিলেন বাঙালি কর্নেল

১৯৬৬ সালে তিনি বিয়ে করেন; সায়রা বানুকে। শোনা যায়, তাঁর বিয়ের খবরে; মানসিক-ভাবে ভেঙে পড়েন অসুস্থ মধুবালা। তার তিন বছর পরে, মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই; প্রয়াত হন মধুবালা। সায়রা বানুকে বিয়ের সময়; দিলীপকুমারের বয়স ছিল ৪৪ বছর। সায়রা বানু ছিলেন ঠিক অর্ধেক; মাত্র ২২ বছর। পরে সায়রা বানু একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন; ১২ বছর বয়স থেকেই, তিনি দিলীপকুমারের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। অথচ তাঁর স্বপ্নের নায়কই, তাঁকে প্রথম দিকে; বিশেষ গুরুত্বই দিতেন না। প্রথম আলাপে সায়রা বানুর রূপের প্রশংসাও; করেছিলেন দিলীপকুমার। কিন্তু ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলে; বজায় রাখতেন দূরত্ব!

দিলীপকুমারের ছবির ভক্ত; সায়রা বানু নিজেই এক দিন পা রাখলেন ইন্ডাস্ট্রিতে। শোনা যায়, সে সময় রাজেন্দ্র কুমারের সঙ্গে; তাঁর মৃদু ভাল লাগার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সায়রার মা, বিগত দিনের অভিনেত্রী নাসিম বানুর হস্তক্ষেপে; বিবাহিত রাজেন্দ্রকুমারের কাছ থেকে সরে আসেন ‘জংলি’ ও ‘পড়োসন’-এর নায়িকা। এরপর নাসিম বানুই উদ্যোগী হন; দিলীপকুমারের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের। সায়রা বানুর মনে হয়েছিল, দিলীপকুমারকে স্বামী হিসেবে পেয়ে; তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন পূর্ণ হল।

দিলীপকুমার সায়রা বানু প্রেম
Dilip Kumar Saira Banu
দিলীপকুমার সায়রা বানু প্রেম

সে সময় অনেকেই বলেছিলেন; এই বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হবে না। কিন্তু নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে, দিলীপকুমার-সায়রা বানু দুজনে দুজনের পাশে; ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে পাঁচ দশকের বেশি দাম্পত্যজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। তবে আশির দশকের গোড়ায় কিছুটা হলেও; ঝড়ের মুখে পড়েছিল তাঁদের দাম্পত্য। পাকিস্তানের নাগরিক আসমার সঙ্গে; ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন দিলীপকুমার। এমন গুঞ্জনও শোনা যায়, তিনি সায়রা বানুকে ডিভোর্স করে; বিয়ে করেছিলেন আসমাকে।

কিন্তু দিলীপকুমারের সেই দ্বিতীয় বিয়ে নাকি; মাত্র দুবছর স্থায়ী হয়েছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে, তিনি আবার ফিরে আসেন; সায়রা বানুর কাছে। আবার বিয়ে করেন তাঁকে; সায়রাও সব ভুলে আপ্ন করে নেন দিলীপকুমারকে। এরপর সায়রা বানু; অভিনয় পুরোপুরি ছেড়ে দেন। তাঁদের মতো দীর্ঘ বসন্তের দাম্পত্য; বলিউডে বিরল। দিলীপকুমারের প্রয়াণে, বলিউডে শুধু ইন্দ্রপতনই হল না; ছেদ পড়ল দিলীপ-সায়রার ৫ দশকের বিরল বলিউডি দাম্পত্য কাহিনীরও।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন