করোনা টেস্টের নামে, বাংলায় বাজারে জালিয়াতির জাল, ভুয়ো রিপোর্টে প্রাণ গেল ব্যাঙ্ককর্মীর

3286
বাংলায় করোনা টেস্টের নামে, বাজারে জালিয়াতির জাল

বাংলায় করোনা টেস্টের নামে; বাজারে জালিয়াতির জাল। বাড়ি এসে করোনা টেস্টের নামে; সোয়্যাবের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফোনে রিপোর্ট জানানোও হচ্ছে। সেই রিপোর্টে করোনা টেস্টের রিপোর্ট আসছে নেগেটিভ; সেই খবর শুনে স্বস্তি পেতে না পেতেই; জানতে পারা যাচ্ছে রিপোর্টি পুরোপুরি জাল। সোয়্যাব রিপোর্টটির সঙ্গে কোনও টাইপ করা রিপোর্ট পাচ্ছেন না রোগী; তাকে দেওয়া হচ্ছে হাতে লেখা রিপোর্ট; যেটি কিনা ৯ সংখ্যার স্পেসিমেন রেফারাল ফর্ম আইডি। আসল রিপোর্ট টাইপ করা হয়; এবং তাতে ১৩ সংখ্যার আইডি দেওয়া থাকে। সেখান থেকেই ধরা পড়ছে রিপোর্টটি ভুয়ো।

অতঃপর নেগেটিভ রিপোর্ট দেখে; কেউ আর সেভাবে রোগীর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিচ্ছেন না। স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি বলেই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর তাতেই ক্রমশ অবস্থার অবনতি হচ্ছে রোগীর; যা একসময় ডেকে আনছে মৃত্যু। এমনই কিছু কালোবাজারি; সোয়্যাব টেস্টের নামে জালিয়াতির জাল পেতেছে শহরে। যে জালে অনায়াসে পা দিচ্ছে; সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুনঃ ‘করোনা যুদ্ধে মমতা’, মহামারির সঙ্গে লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা স্থান পেল বইয়ের পাতায়

রিপোর্ট তো নেগেটিভ; তাহলে রোগীর শরীরের এ হেন অবনতি হল কি করে? কিছু বুঝে ওঠার আগেই; শেষ হয়ে যাচ্ছে কত প্রাণ। এরকমই ঘটনা ঘটছে শহরে। সম্প্রতি ভুয়ো সোয়্যাব রিপোর্টের ফাঁদে পড়ে; মারা গেলেন কলকাতার এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। পরে সরকারি হাসপাতালে; তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেলেও, বাঁচানো যায়নি ৫৭ বছরের ওই ব্যাঙ্ক কর্তাকে।

ঘটনায় বৃহস্পতিবার তিনজনকে গ্রেফতার করেছে; কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে; কয়েকদিন আগে জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দেয় ওই ব্যাঙ্ককর্তার। চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে রক্ত পরীক্ষার জন্য; পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন ওই চিকিৎসক। গত ২৫ জুলাই সেই ব্যক্তি; ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সোয়্যাব নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। পরে ফোনে জানানো হয়; রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। হোয়াটঅ্যাপে রিপোর্টও পাঠানো হয়।

আরও পড়ুনঃ ফিল্ম, ওয়েব সিরিজে ভারতীয় সেনা নিয়ে ভুলভাল দৃশ্য, প্রতিরক্ষা দফতরের অনুমতি ছাড়া রিলিজ বন্ধ

এরপরেই এম আর বাঙুর হাসপাতালে রিপোর্টটি দেখালে; ওখানকার চিকিৎসক জানান রিপোর্টটি জাল। তিনি জানান; “সোয়্যাব রিপোর্টটির সঙ্গে একটি হাতে লেখা; ৯ সংখ্যার স্পেসিমেন রেফারাল ফর্ম আইডি দেওয়া হয়েছিল। আসল রিপোর্ট টাইপ করা হয় এবং তাতে ১৩ সংখ্যার আইডি দেওয়া থাকে। ওই রিপোর্টটি ভুয়ো”।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও; বাঁচানো যায়নি ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে। প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষাগারের মালিক অনীত পায়রাকে; গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নেতাজিনগর থানার ওসি সুভাষ অধিকারী; তদন্তে নেমে গ্রেফতার করেন; ইন্দ্রজিৎ সিকদার ও বিশ্বজিৎ সিকদার নামে দুই ভাইকে। এরপরেই ভুয়ো সোয়্যাব টেস্টের সঙ্গে যুক্ত; রাঘববোয়ালদের তল্লাশিতে অভিযানে নামে পুলিশ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন