জীবনটাই ফিল্ম, পুলিশ অফিসারের ছেলে জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় থেকে কুখ্যাত গ্যাং’স্টার

1782
জীবনটাই ফিল্ম, পুলিশ অফিসারের ছেলে জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় থেকে কুখ্যাত গ্যাং'স্টার
জীবনটাই ফিল্ম, পুলিশ অফিসারের ছেলে জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় থেকে কুখ্যাত গ্যাং'স্টার

পাঞ্জাবের দশমেশ নগরের একটি বন্ধ বাংলো; যার ভিতরে একটি ল্যাব্র্যাডর কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে; তার মালিকদের সম্পর্কে কিছুই খবর দেয় না প্রতিবেশীরা। আপনি জিজ্ঞেস করলেও বলা হবে যে; “তারা বাড়ির মালিকদের চেনে না এবং তাদের দেখে নি”। তবে পাঞ্জাব পুলিশ; বাড়িটি ভাল করেই জানে। এটি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার; ভূপিন্দর সিংহের। পুলিশ অবশ্য এই বাড়িতে; অন্য কারণে নজরদারি রাখে। পাঞ্জাবের কুখ্যাত গ্যাংস্টার জয়পাল সিংহ; এরও বাড়ি এটা। অবসরপ্রাপ্ত সেই পুলিশ অফিসার ভূপিন্দর সিংহের ছেলে; জয়পাল সিং ভুল্লার বুধবার মারা গেল পুলিশের গুলিতে; তাও আবার সুদূর কলকাতায়।

পুলিশের এএসআই-এর ছেলে, জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় থেকে গ্যাং’স্টার; জয়পালের মাথার দাম ছিল ১০ লাখ টাকা। হ্যামার থ্রোয়ার থেকে গ্যাংস্টার; নিউটাউন এনকাউন্টারে নিহত জয়পালের নামে; ভারতের চার রাজ্যে প্রায় ৪৫টি মামলা ছিল। পুলিশের ছেলে থেকে হ্যামার থ্রোয়ার; সেখান থেকে কুখ্যাত গ্যাংস্টার হয়ে উঠেছিল নিউটাউনে শাপুরজির আবাসনে নিহত দুষ্কৃতী; জয়পাল সিংহ ভুল্লার।

পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় সরকারি স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টার; স্পিড ফান্ড অ্যাকাডেমির প্রতিভাবান ছাত্র ছিল এই জয়পাল সিং। ওই অ্যাকাডেমিতেই জয়পালের পরিচয় হয়; আরও এক খেলোয়াড় হ্যাপির সঙ্গে। হ্যাপি অল্প সময়ের জন্য; পাঞ্জাবের অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখান থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা শুরু। এবং এখান থেকেই প্রতিভাবান হ্যামার থ্রোয়ারের; এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার হওয়ার যাত্রা শুরু।

আরও পড়ুনঃ নিউটাউনে পাক যোগ, চোরাচালানের টাকায় ভারতে না’শকতা

২০০৪-এর জুলাইয়ে, জয়পাল এবং হ্যাপি; লুধিয়ানার এক সিনেমা হল মালিকের ছেলেকে অপহরণ করে। এই ঘটনার মধ্যে দিয়েই; অপরাধ জগতে হাত পাকানো শুরু জয়পালের। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হয় জয়পাল। জেলে থাকাকালীন তার অপরাধ জগতের পরিসরটা; আরও বেড়ে যায়। সেখানে কুখ্যাত গ্যাংস্টারদের সঙ্গে; তার পরিচয় হয়।

জেলেই জয়পালের পরিচয় হয়; রাজীব ওরফে রাজার সঙ্গে। জয়পাল এবং রাজা, আরও এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার শেরা খুব্বানের সঙ্গে মিলে; একটি দল তৈরি করে। তারা একসঙ্গে হোসিয়ারপুরে; একটি বন্দুক কারখানা লুঠ করে। পঞ্চকুল্লা এবং মোহালির; কয়েকটি ব্যাঙ্কে ডাকাতি করে। এমনকি হাইওয়ে দিয়ে যাতায়াত করা গাড়িগুলোতেও; লুঠপাট চালাতে শুরু করে এই দলটি। সেই শুরু, বুধবার সেই কাহিনী শেষ হল; নিউটাউনের সাপুরজি আবাসনে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন