১ বছরে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর রিপোর্ট দিল বন দফতর, ‘অবাস্তব’ বলছেন উদ্ভিদবিদরা

1766
১ বছরে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর রিপোর্ট দিল বন দফতর, 'অবাস্তব' বলছেন উদ্ভিদবিদরা
১ বছরে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর রিপোর্ট দিল বন দফতর, 'অবাস্তব' বলছেন উদ্ভিদবিদরা

১ বছরে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর রিপোর্ট দিল; রাজ্য বন দফতর। ‘অবাস্তব’ বলছেন উদ্ভিদবিদরা। ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে; সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন করে ওই সব এলাকায় ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর; সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন; আগামী একবছরের মধ্যে সুন্দরবন অঞ্চলে; ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো হবে। রাজ্য বন দফতর, একবছরের মধ্যেই; গাছ লাগানোর রিপোর্ট দিল। কিন্তু একবছরে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ, লাগানো অসম্ভব এবং অবাস্তব; জানাচ্ছেন উদ্ভিদবিদরা। অন্যান্য গাছ লাগানো যেতে পারে; কিন্তু ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো অসম্ভব।

২০২১-এর ২০ মে আমফান ঘূর্ণিঝড় হানার পরে; সুন্দরবন এলাকা জুড়ে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা লাগানোর কথা; ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেই কর্মসূচি রূপায়ণের দায়িত্ব পেয়েছিল; রাজ্য বন দফতর। গত মাসেই রাজ্য বন দফতর জানিয়েছিল; ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। এই বিষয়ে পুরো রিপোর্ট এবং খরচের খতিয়ানও; পেশ করা হয়েছে সরকারের কাছে।

আরও পড়ুনঃ ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ কোথায় গেল, সরকারি দুর্নীতির প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ মমতাই

কিন্তু উদ্ভিদবিদরা হাসছেন; এই রিপোর্ট দেখে। তাঁদের মতে, ম্যানগ্রোভের চারা; এইভাবে লাগানো যায় না। ইচ্ছা হলেই আম, জাম, জবা, গোলাপ বা অন্যান্য গাছের মতো; ম্যানগ্রোভের চারা কিনে পোঁতা যায় না। ম্যানগ্রোভের বীজ পুঁততে হয়। ম্যানগ্রোভের বীজ আম, জাম, কাঁঠালের মতো নয়; যে খাওয়ার পরেই মাটিতে ফেললেই চারা গজায়। ম্যানগ্রোভের বীজ নদীর জলে ভেসে আসে; নদীর পাড় থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

বন দফতর রীতিমত লোক লাগিয়ে; মজুরি দিয়ে এই বীজ সংগ্রহ করে। যখন খুশি বীজ সংগ্রহও করা যায় না। এপ্রিল থেকে জুলাই; এই বীজ সংগ্রহের সময়। এক মরসুমে কত বীজ সংগ্রহ করা যায়? বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী; এক মরসুমে খুব বেশি হলে; ২০-২৫ লক্ষ বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব। অর্থাৎ খুব বেশি হলে; সারা বছরে ২৫ লক্ষ ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো যাবে। সারাবছর যদি ম্যানগ্রোভ বীজ পাওয়া যেত; তাহলেও অঙ্কের হিসাবে ৭৫ লাখ গাছ লাগানো যাবে। যেটাও অবাস্তব। ৫ কোটি? হাসছেন উদ্ভিদবিদরা ও বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুনঃ মমতাকে ডি-লিট দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য ছিলেন আলাপনের স্ত্রী

ম্যানগ্রোভের বীজ সংগ্রহ করলেই কেল্লা ফতে; তা একদমই নয়। প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিজ; রোপনের উপযুক্ত করে তোলা হয়। এমনও নয় যত বীজ পাওয়া গেল; তা থেকে ততগুলিই গাছ নিশ্চিত হবে। বীজ পোঁতার কায়দা আছে; তা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাপেক্ষ। মাঠে; বাগানে; বা উঠোনে; বীজ পোঁতা হয় না। লোনা নদীর ধারে পুঁততে হয়। ভাটার সময় দ্রুত গর্ত খুঁড়ে পোঁতার কাজ হয়; জোয়ার এলেই কাজ বন্ধ।

৫ কোটি বীজ পুঁততে; কতদিন সময় লাগতে পারে? বাদাবনে এক লপ্তে; এক বর্গ কিমি জায়গা পাওয়াই বেশ কঠিন। রাজ্য বন দফতর জানাচ্ছে; ১ ফুট দুরত্বে ৩৩টি সারিতে বীজ পুঁতলে; প্রায় ১ লক্ষ বীজ পোঁতা সম্ভব। যদি ওই ১ লক্ষ বীজ হতে; ১ লক্ষ চারা বেরোয় এবং তার সবগুলো যদি টিকে থাকে; তাহলে এভাবে ৫ কোটি বীজ লাগাতে ৫০০ বর্গ কিমি জায়গা লাগে। এমনিতেই এক মরসুমে সবচেয়ে বেশি; ২৫ লক্ষ বীজ পাওয়া যায়। তাই ৫ কোটি ম্যানগ্রোভের বন দফতরের রিপোর্টে; অনেকটাই জল; মনে করছেন উদ্ভিদবিদরা ও বিশেষজ্ঞরা। তবে কান দিতে নারাজ রাজ্য বন দফতর; তাদের ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ পোঁতার রিপোর্ট পৌঁছে গেছে; মুখ্যমন্ত্রী মমতার হাতে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন