সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছে বিধায়ক খুন, ময়নাতদন্তের আগেই আত্মহত্যা বলল বাংলার পুলিশ

7688
সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছে বিধায়ক খুন, ময়নাতদন্তের আগেই আত্মহত্যা বলল বাংলার পুলিশ
সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছে বিধায়ক খুন, ময়নাতদন্তের আগেই আত্মহত্যা বলল বাংলার পুলিশ

সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছে বিধায়ক খুন; এদিকে ময়নাতদন্তের আগেই আত্মহত্যা বলল বাংলার পুলিশ। ‘ময়নাতদন্তের আগেই কেন; আত্মহত্যা বলা হচ্ছে?’ হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যুতে; রাজ্য় পুলিশের ভুমিকার দিকে তাকিয়ে টুইট করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। খুন নাকি আত্মহত্যা? একুশের বিধানসভা ভোটের আগে; হেমতাবাদের বিজেপি দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুতে ঘনাচ্ছে রহস্য। এদিকে এই ঘটনার আবার; আত্মহত্যা তত্ত্ব খাঁড়া করেছে বাংলার পুলিশ। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন; “মৃত বিধায়কের পকেট থেকে; একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে”। “খালি চোখেও বোঝা যাচ্ছে খুন”; বলছেন সাধারণ মানুষ ও বিজেপি নেতারা।

আরও পড়ুনঃ এগিয়ে বাংলায় বিধায়ক-কেও খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়, সাধারণ মানুষের হাল কি

না, আত্মহত্যা করলে মৃতের শরীরে যে যে চিহ্ন থাকার কথা; তার কোনটাই নেই মৃত বিধায়কের শরীরে। জিভ বা চোখ বেরিয়ে নেই। হাত বাঁধা। কেউ আত্মহত্যা করলে হাত কেন বাঁধা থাকবে? উঠেছে প্রশ্ন। তাছাড়া রাত ১ টার সময় ঘুম থেকে উঠে; বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার হেঁটে এসে; কেউ আত্মহত্যা করবে কেন; প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়কের বাড়ির লোক। পুরুলিয়া তেও ঠিক এইভাবে দুই বিজেপি কর্মীকে; মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেই অভিযোগ ছিল।

বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যু, মেরে ঝুলিয়ে দেবার অভিযোগ
বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যু, মেরে ঝুলিয়ে দেবার অভিযোগ

এদিকে বিতর্কের মধ্যেই; নিজের টুইটে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় লিখেছেন; “হেমতাবাদের বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার নিয়ে; পুলিশ দাবি করছে আত্মহত্যা। এটা ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত। নিশ্চয়ই কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে”। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে; ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফিরও দাবি তুলেছেন তিনি। রাজ্যপালের চিঠি; বিধায়কের মৃত্যু বিতর্কে আগুনে ঘি ঢালল; বলেই মনে করা হচ্ছে।

হেমতাবাদের বিধায়ক আত্মহত্যা করেছেন; বলে ইঙ্গিত দিল পুলিশ। রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে; বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের জামার পকেট থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গিয়েছে। সেখানে দুই ব্যক্তির নাম করা হয়েছে। ওই দুই ব্যক্তিকেই; তিনি মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন। সিআইডি-র হাতে; এই ঘটনার তদন্তভার উঠেছে। তবে, সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন; বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ চার বছরের ছেলে হারাল মা-কে, সামনে থেকে লড়াই করে, বাংলার করোনা শহিদ দেবদত্তা রায়

রাজ্য পুলিশ এ দিন বেলা ১২টা ৪৬ মিনিটে; টুইটও করে এ বিষয়ে। সেখানে জানানো হয়েছে, সোমবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের বালিয়া দেবেন মোড়ের কাছে; একটি মোবাইলের দোকানের সামনে বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। সে প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে যে; বিধায়কের জামার পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে; যেখানে তিনি দুই ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন তাঁর মৃত্যুর জন্য।

তবে পুলিশের এই বয়ান মানতে নারাজ; বিধায়কের স্ত্রী চাঁদিমা রায়। এলাকার মানুষ ও বিজেপি নেতারাও; পুলিশের এই বয়ান মানতে নারাজ। তাঁদের সবার অভিযোগ; খুন করা হয়েছে দেবেন্দ্রনাথ রায়কে। স্থানীয় বাসিন্দারাও মৃতদেহ দেখে; একে ‘আত্মহত্যা’ বলে মানতে নারাজ। এবার রাজ্যপালের চিঠি; এই বিতর্কে আগুনে ঘি ঢালল; বলেই মনে করা হচ্ছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন