মহিলার সম্মানরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর ছেলেকে গাড়ির পেছনে বেঁধে এনেছিলেন বাঙালি কর্নেল

3735
মহিলার সম্মানরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর ছেলেকে গাড়ির পেছনে বেঁধে এনেছিলেন বাঙালি কর্নেল
মহিলার সম্মানরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর ছেলেকে গাড়ির পেছনে বেঁধে এনেছিলেন বাঙালি কর্নেল

সামরিক বাহিনীতে অনেকেই জেনারেল হন বটে; কিন্তু সব জেনারেল ‘মিলিটারি লিডার’ হতে পারেন না। এরকমই একজন মিলিটারি কমান্ডার ছিলেন; জেনারেল কোদানদেরা সুবাইয়া থিমাইয়া সংক্ষেপে ‘কে এস থিমাইয়া’। যিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর; ষষ্ঠ সেনাপ্রধান। ১৯৫৭ সালের ৭ মে থেকে; ১৯৬১ সালের ৭ মে পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা; সম্মান ও গৌরবের সঙ্গে সেনাপ্রধান হিসেবে; অত্যন্ত সফলতায় বৃহৎ বাহিনী পরিচালনায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অন্যদের কাছে রোল মডেলে; পরিণত হয়েছেন জেনারেল থিমাইয়া। যার যুক্তির কাছে হার মেনেছিলেন; স্বয়ং জহরলাল নেহেরু। কারণ এক মহিলার সম্মানরক্ষায়, মুখ্যমন্ত্রীর ছেলেকে; গাড়ির পেছনে বেঁধে এনেছিলেন এক বাঙালি কর্নেল।

সময়টা ১৯৫৯; স্থান অমৃতসর। সেনাবাহিনীর জাঠ রেজিমেন্টের কয়েকজন অফিসার আর তাঁদের স্ত্রীরা মিলে; রেলওয়ে স্টেশনে একজন সহকর্মীকে বিদায় জানাতে গিয়েছেন। হঠাৎ কয়েকজন দুষ্কৃতী যুবক, মহিলাদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়; এবং শ্লীলতাহানি করতে উদ্যত হয়। অফিসারেরা সেই যুবক দুষ্কৃতী-দের তাড়া করলে; তারা একটি সিনেমা হলে ঢুকে পরে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের সেরা গুপ্তচর ব্লাক টাইগার, ‘র’ এজেন্ট হয়েছিলেন পাক সেনাবাহিনীর মেজর

কম্যান্ডিং অফিসার কর্ণেল জ্যোতি মোহন সেনের কাছে রিপোর্ট করা হলে; কর্ণেল সেনের নির্দেশে সিনেমা হলটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। ওই দুষ্কৃতী যুবকদের, ভারতীয় সেনারা হলের বাইরে বের করে আনলে দেখা যায়; তাদের মধ্যে একজন যুবক পাঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রতাপ সিং কাইরোঁর পুত্র। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী প্রতাপ সিং কাইরনের ছেলেকে, গাড়ির পেছনে বেঁধে; প্রকাশ্য রাজপথে টেনে-হিঁচড়ে জনগণকে দেখিয়ে; সেনা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আসা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর ছেলের সঙ্গী, বাকি দুষ্কৃতী যুবকদের; নিজেদের পোশাক ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরিয়ে, রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে; ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রাখা হয়। ছেলেকে ছাড়াতে পরের দিন সকালে; স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ক্যান্টনমেন্টে যান। শোনা যায়, তাঁকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর কোন প্রোটোকলও দেওয়া হয়নি; বাইরে গাড়ি রেখে তাঁকে ভেতরে হেঁটে যেতে হয়। এ ঘটনার পর; সারা দেশে হইচই পড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ নিষিদ্ধ দ্বীপের বাঙালি রানী, অসম্ভবকে সম্ভব করা বাঙালি নারী

ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রতাপ সিং কাইরোঁ; তখন অভিযোগ জানালেন প্রধানমন্ত্রী জ‌ওহরলাল নেহরুর কাছে। এই কংগ্রেস নেতা ছিলেন; নেহেরুর কাছের লোক। নেহরু ডেকে পাঠালেন, আর্মির চিফ জেনারেল থিমাইয়াকে; তাঁর অধস্তন অফিসারদের এহেন কার্যকলাপের কারণ জানাতে। জেনারেল থিমাইয়া প্রধানমন্ত্রী নেহরুর মুখের ওপর বলে দেন; “যদি আমরা মহিলাদের সম্মান রক্ষা না করতে পারি; তাহলে দেশের সম্মান রক্ষা করব কিভাবে”?

সেনাপ্রধানের এই জবাব শুনে; প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আর কিছু বলার ছিল না। নেহরুর কাছেও; এর কোনও উত্তর ছিল না। একজন সেনার সাহসিকতার কাছে, সেদিন পরাস্ত হয়েছিলেন; পন্ডিত জ‌ওহরলাল নেহরু। সামরিক বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা কিভাবে উন্নত রাখতে হয়; নেহেরুকে তার পাঠ সেদিন পড়িয়েছিলেন জেনারেল থিমাইয়া। তবে, থিমাইয়ার এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও; কম্যান্ডিং অফিসার কর্ণেল জ্যোতি মোহন সেনের কাহিনী; চেপেই যায় ভারতের ইতিহাস!

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন