ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমেরিকার গুগলের শ্রদ্ধার্ঘ্য

3310
ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমেরিকার গুগলের শ্রদ্ধার্ঘ্য
ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমেরিকার গুগলের শ্রদ্ধার্ঘ্য

বাংলার মানুষ মনেই রাখেনি; এই বাঙালি নারীর জন্মদিন। কিন্তু মনে রেখেই, শ্রদ্ধা জানাল; আমেরিকার গুগল। ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে; আমেরিকার গুগলের শ্রদ্ধার্ঘ্য। ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক; কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় এর জন্মদিন আজ ১৮ই জুলাই। তাঁর ১৬০ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে, ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়কে; শ্রদ্ধা জানাল গুগল। এদিন গুগলের পক্ষ থেকে; তাঁকে নিয়েই ডুডল তৈরি করা হয়। বাংলা ও দেশ ভুলে গেলেও; তাঁকে ভোলেনি বিশ্ব।

যে সময়ে ভারতীয় তথা বাঙালি মেয়েদের কর্মজগতে পা দেওয়ার মনোভাবই তৈরি হয়নি, ঘরের আঙিনা পেরিয়ে বহির্জগতে পা রাখতে ইতস্তত করছেন অধিকাংশ মহিলা; সেই সময়ে তিনি চুটিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেছেন কলকাতায়। রাতবিরেতে রোগী দেখতে গিয়েছেন ফিটনে চেপে; প্রাইভেট চেম্বার খুলে কাগজে তার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন এবং নিয়মিত অস্ত্রোপচার করেছেন। মৃত্যুর পরে তার ব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল; শেষ ভিজ়িটের ৫০ টাকা। ইতিহাস সৃষ্টিকারী চিকিৎসকের সম্মানে সেই টাকা খরচ করা হয়েছিল; তাঁর শেষকৃত্যে। তিনি কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়; কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ছাত্রী।

ঈর্ষাকাতর, প্রাচীনপন্থী বিরুদ্ধবাদীরা প্রবল কলকাঠি নেড়ে; তাঁর কাছ থেকে প্রথম বাঙালি মহিলা চিকিৎসকের আসন কেড়ে নিয়েছিল। ডাক্তারি ডিগ্রির বদলে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল; ‘গ্র্যাজুয়েট অফ দ্য মেডিক্যাল কলেজ অব বেঙ্গল’ বা জিএমসিবি উপাধি। কিন্তু অদম্য এই মহীয়সীর অবিস্মরণীয় উত্থান; তাতে আটকানো যায়নি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বিরুদ্ধবাদীদের যোগ্য জবাব দিতে; আট সন্তানকে বাড়িতে রেখে, সেই যুগে তিনি বিলেত গিয়েছিলেন ডাক্তারির ডিপ্লোমা নিতে!

১৮৯৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মিস প্যাশ নামে মহিলার সঙ্গিনী হয়ে; জাহাজে একা বিদেশযাত্রা করেন; লন্ডন পৌঁছন ২৩ মার্চ। তার পরে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মাত্র তিন মাসে; প্রার্থিত তিনটি ডিপ্লোমা সংগ্রহ করে দেশে ফেরেন। রবীন্দ্রনাথের জন্মসালেই তাঁর জন্ম ১৮৬১; ভাগলপুরে; দিনটা ১৮ জুলাই। বাবা ব্রজকিশোর বসু ছিলেন; নারীমুক্তি আন্দোলনের নেতা; শিক্ষকতা করতেন। কাদম্বিনীর পিসতুতো দাদা কলকাতা হাইকোর্টের ব্যারিস্টার মনোমোহন ঘোষ; নারীশিক্ষা প্রসারের কাণ্ডারী ছিলেন। বাবা ও দাদার প্রভাব পড়েছিল; কাদম্বিনীর মধ্যে সেই ছোটবেলা থেকেই।

১৮৭৮ সালে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়কে; মিশিয়ে দেওয়া হল বেথুন স্কুলের সঙ্গে। কাদম্বিনী ছিলেন এই স্কুল থেকে প্রথম; এন্ট্রান্স বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসা মেয়ে। মাত্র এক নম্বরের জন্য প্রথম বিভাগ না পেলেও; সমস্ত সমালোচকের মুখ বন্ধ করেছিলেন। খোদ লর্ড লিটন; তাঁর প্রশংসা করেন। লেডি লিটনের হাত দিয়ে তাঁকে; পুরস্কার ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কিন্তু ‘সংবাদ প্রভাকর’ এ বার মোক্ষম প্রশ্নটি তোলে; ‘কাদম্বিনী এক্ষণে কোন বিদ্যালয়ে পড়বেন’?

আরও পড়ুনঃ মহারাজের গোপন অভিসারে ভারতের মানচিত্র বদলে, রাজপুতানা চলে যাচ্ছিল পাকিস্তানে

কাদম্বিনীরও আগে প্রাইভেটে এন্ট্রান্স দিয়ে; সফল হয়েছিলেন চন্দ্রমুখী বসু। তিনিও তত দিনে কলকাতার ফ্রি চার্চ নর্মাল মিশন স্কুলে এসে; প্রস্তুত হচ্ছেন এফএ পরীক্ষার জন্য। এঁরা দুজনেই ১৮৭৯তে এফএ পাশ করলেন; এবং তাঁদের যুগ্ম সাফল্য বেথুন কলেজে বিএ পড়ানোর দরজা খুলে দেয়। চন্দ্রমুখী নিলেন পলিটিক্যাল ইকনমি; আর কাদম্বিনী গণিত। ১৮৮৩ সালের জানুয়ারিতে ইতিহাস গড়ে; দুজনে বিএ পাশ করলেন। দেশের প্রথম দুই; মহিলা গ্র্যাজুয়েট। স্ত্রীশিক্ষা বিশেষ করে মহিলাদের উচ্চশিক্ষার উপরে; চাপা পড়া জগদ্দল পাথর নড়ে গেল।

সে বার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দুই মহিলার ডিগ্রি নেওয়া দেখতে; এত ভিড় হয়েছিল যে; পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। ভিড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে; ট্রামলাইন পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। কবি হেমচন্দ্র এই দুই বিদুষীকে নিয়ে; কবিতা লিখে ফেলেছিলেন। চন্দ্রমুখী এ বার বেথুনেই; এমএ পড়া শুরু করলেন। কিন্তু কাদম্বিনী সিদ্ধান্ত নিলেন; এমবিবিএস পড়বেন। এ বার আরও ভয়ঙ্কর প্রতিরোধ; ও লড়াইয়ের ইতিহাসের সূচনা হল।

মেডিক্যাল পড়তে চেয়ে; তিনি আবেদন করেন ১৮৮১ সালে। শিক্ষা অধিকর্তা আগ্রহী হলেও; কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কাউন্সিলের কোনও হেলদোল দেখা যায় না। কাদম্বিনী হাল না ছেড়ে; বিএ পড়ায় মন দেন। তার দুবছর পরে; আবার আবেদন করেন। ডিপিআই ১৮৮৩ সালে ৪ জুন মেডিক্যাল কাউন্সিলে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চান; কী উত্তর দেবেন? এর মধ্যে ১২ জুন কাদম্বিনীর বিয়ে হয়ে যায়; দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আর বিয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই ২৯ জুন (মতান্তরে ২৩ জুন); মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন কাদম্বিনী।

মেডিক্যালের চিকিৎসকদের একাংশ; তা কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারলেন না। তাঁদের অন্যতম ছিলেন; রাজেন্দ্রচন্দ্র চন্দ্র। তিনি বিলেতে লর্ড পরিবারের সঙ্গে বিয়ের সূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন; কিন্তু স্ত্রী শিক্ষার ঘোর বিরোধী ছিলেন। অতি রক্ষণশীল এই চিকিৎসক কাদম্বিনীর; মেডিক্যাল পড়ার খোলাখুলি প্রতিবাদ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর মেডিসিন পেপারে; এক নম্বরের জন্য কাদম্বিনীকে ফেল করিয়েছিলেন!

বিদেশেও তখন মেয়েদের ডাক্তারি পড়া আটকাতে; কিছু অধ্যাপক ক্লাসে নির্লজ্জ ভাবে মানবদেহের ডেমনস্ট্রেশন দিতেন। বম্বের গ্র্যান্ট মেডিক্যাল কলেজেও ছাত্রীরা; ছাত্রদের কাছ থেকে কটূক্তি ও অশালীন আচরণ পেয়েছিলেন। কাদম্বিনীকে সে সবও মুখ বুজে; সহ্য করতে হয়েছিল। তবে তিনি মেডিক্যাল পড়ার সময়ে; বৃত্তি পান। খোদ ফ্লরেন্স নাইটিঙ্গল একটি চিঠিতে লিখেছিলেন; ভারতের মতো গোঁড়া দেশের একটি মেয়ে বিয়ের পর ডাক্তারি পড়ছে এবং একটি বা দুটি সন্তানের জন্মের সময়েও; মাত্র তেরো দিন কলেজ কামাই করেছে এবং সম্ভবত একটি লেকচারও মিস করেনি!

আরও পড়ুনঃ বাংলার বর্ধমানের গৃহবধূ কিভাবে হয়েছিলেন অখণ্ড ভারতের শাসক

সেই কাদম্বিনীকে ‘ব্যাচেলর অব মেডিসিন’; বা এমবি পরীক্ষায় পাশ করানো হয়নি! গবেষক নারায়ণ চন্দ্রের লেখানুযায়ী; চিকিৎসক রাজেন্দ্রচন্দ্র চন্দ্র মেডিসিন পড়াতেন। তিনি কাদম্বিনীকে মৌখিক পরীক্ষায়; তাঁর পেপারে এক নম্বরের জন্য ফেল করিয়ে দেন। চিকিৎসক জে এম কোটস ছিলেন, তখন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ; এবং তিনিও মেডিসিনের অধ্যাপক ও অন্যতম পরীক্ষক ছিলেন।

তিনি বুঝেছিলেন যে; কাদম্বিনীর সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সিন্ডিকেটে আলোচনার পরে; কাদম্বিনীকে ‘লাইসেনসিয়েট ইন মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি’ বা এলএমএসের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়; ১৮৮৬ সালের ৭ অগস্টে। কিন্তু দুবছর এলএমএস পড়ার পরে ফাইনালে ফের; চিকিৎসক রাজেন্দ্র চন্দ্রের বিষয়ে তাঁকে ফেল করানো হল। তখন অধ্যক্ষ কোটস নিজের অধিকারবলে; কাদম্বিনীকে ‘গ্র্যাজুয়েট অফ দ্য মেডিক্যাল কলেজ অব বেঙ্গল’ বা জিএমসিবি উপাধি দেন।

ফলে ডাক্তার হয়ে প্র্যাকটিসের ছাড়পত্র; পেয়ে যান কাদম্বিনী। ইডেন হাসপাতালে তাঁকে; কাজের সুযোগ করে দেন কোটস। কিন্তু যেহেতু ডাক্তারির এমবি বা এলএমএসের ডিগ্রি তাঁর ছিল না; তাই সেখানে তাঁকে নার্সের মর্যাদা দেওয়া হত। রোগ নির্ণয় বা অস্ত্রোপচার করতে; দেওয়া হত না। ১৮৯০-এ তিনি লেডি ডাফরিন হাসপাতালে চাকরি পান; বেতন হয় তিনশো টাকা। ১৮৮৮ থেকেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন; পসারও জমে যায়।

তিনিই প্রথম মহিলা চিকিৎসক, যিনি খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে; প্র্যাকটিস করতেন। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ বা ‘বেঙ্গলি’র মতো কাগজে; নিয়মিত বিজ্ঞাপন বেরোত। কিন্তু ডিগ্রি না পাওয়াটা; সম্ভবত কাঁটার মতো তাঁকে বিঁধছিল। কারণ, বিরোধীরা প্রতি পদক্ষেপে ওই বিষয়টিকে তুলে; তাঁর যোগ্যতা নিয়ে বিদ্রুপ এবং তাঁকে চিকিৎসকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদ করছিলেন। তখনই বিদেশে গিয়ে তিনি; ডাক্তারি ডিপ্লোমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিলেত যাওয়ার জন্য টাকার সংস্থান করা; বিদেশে থাকার ব্যবস্থা ও দেশে নিজের আট সন্তানের দেখাশোনার ব্যবস্থা করে তাঁকে বিদেশ যেতে হয়।

স্বামী দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের মেয়ে বিধুমুখী ও তাঁর স্বামী উপেন্দ্রকিশোরের দায়িত্বে; বাকি সন্তানদের রেখে তিনি বিদেশযাত্রা করেন। সৎ মেয়ের সঙ্গে; অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল তাঁর আজীবন। বিলেত যাওয়ার পাথেয় সংগ্রহ করেছিলেন; শিকাগো মহাসম্মেলনের প্রদর্শনীতে ভারতীয় মহিলাদের শিল্পকর্ম পৌঁছে দেওয়ার কাজ নিয়ে। কাদম্বিনীর কাঙ্ক্ষিত ডিপ্লোমাগুলি ছিল; এলআরসিপি, এলআরসিএস এবং এলএফপিসি। যা সংগ্রহ করেছিলেন; অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায়। ক্লাস করতেন এডিনবরায়; ১৮৯৩ সালের জুলাই মাসে স্কটিশ কলেজের তিনটি ডিপ্লোমা লাভ করেন।

আরও পড়ুনঃ সম্পূর্ণ হিন্দু রীতিতে কলকাতায় নারী শিক্ষার স্কুল খুলেছিলেন, ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মী বাইয়ের আত্মীয়

কলকাতায় ফেরার পরে ‘বামাবোধিনী’ বা ‘ইন্ডিয়ান মেসেঞ্জার’-এর মতো কাগজগুলি; তাঁর তুমুল প্রশংসা করে। কিন্তু বিরোধিতায়; ইতি পড়েনি তখনও। চিকিৎসক কাদম্বিনী; তাঁর যোগ্যতার পদ বা চাকরি পাননি। কিছু দিন ডাফরিন হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তারের চাকরি করে ইস্তফা দিয়ে; নিজের বাড়িতে চেম্বার খুলে পুরোপুরি প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। পসার জমে ওঠে দ্রুত। পাল্লা দিতে শুরু করেন; বিখ্যাত পুরুষ ডাক্তারদের সঙ্গে। সাধারন মানুষ ছাড়াও, ডাক আসতে শুরু করে; বিখ্যাত জমিদার ও রাজাদের কাছ থেকেও।

স্বামী দ্বারকানাথের যে দিন মৃত্যু হয়, সে দিন বিকেলে; কলকাতার এক জমিদার বাড়ি থেকে কাদম্বিনীকে; প্রসব করানোর জন্য ‘কল’ দেওয়া হয়। সকালে স্বামীহারা চিকিৎসক, বিকেলে তাঁর ব্যাগপত্র নিয়ে; সেখানে রওনা দেন। হতবাক ও অসন্তুষ্ট আত্মীয়দের বলেছিলেন; “যে গেছে সে তো আর ফিরবে না; যে নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসছে তাকে তো আনতে হবে”। বড় আশ্চর্য ছিল তাঁর জীবন; অন্য ধাতুতে গড়া ছিল মন। নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতেন সব সময়; পরিবারের সদস্যেরা কেউ রাত নটার পরে বাড়ি ঢুকলে; রাতের খাবার দেওয়া হত না।

কাদম্বিনী ভাল ডাক্তার ছিলেন এবং খুব কড়া কড়া কথা বলতেন; অপ্রিয় সত্য বলতে ভয় পেতেন না। নিজের ছেলেমেয়েদেরও; বাদ দিতেন না। আবার একই সঙ্গে ছিলেন স্নেহময়ী; যত্নশীলা মা ও দিদিমা। ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেও; তিনি জড়িয়েছিলেন। জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রতিনিধিদের মধ্যে; তিনি ছিলেন অন্যতম। কলকাতায় টিভোলি গার্ডেনে কংগ্রেসের ষষ্ঠ অধিবেশনে অংশ নিয়ে; ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সত্যাগ্রহ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ-বয়কট আন্দোলনেও; অংশ নেন তিনি।

তবে সব কিছুর উপরে ছিলেন; ‘চিকিৎসক কাদম্বিনী’। নেপালের রাজা জঙ বাহাদুরের মা; একবার খুব অসুস্থ হলেন। শেষ চেষ্টা হিসেবে কাদম্বিনীকে; ডেকে পাঠানো হল। তাঁর ওষুধে; রাজমাতা সুস্থ হলেন। কাদম্বিনীকে আলাদা প্রাসাদে; থাকতে দেওয়া হয়েছিল। সোনা-রুপোর থালাবাসনে; খেতে দেওয়া হত। ফেরার সময়ে রাজমাতাকে সারিয়ে তোলার পুরস্কার হিসেবে; প্রচুর অর্থ, দামি পাথর বসানো সোনার গহনা, মুক্তোর মালা, রুপোর বাসন, তামা-পিতল-হাতির দাঁতের জিনিস আর একটি সাদা রঙের গোলগাল, জ্যান্ত টাট্টু ঘোড়া দেওয়া হয়েছিল।

সেই ঘোড়ায় টানা গাড়িতে চেপেই; তিনি কলকাতার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে রোগী দেখতে ছুটতেন। রাস্তায় যাওয়ার সময়টুকু; অনবরত লেস বুনে যেতেন! যে দক্ষতায় অস্ত্রোপচারে ছুরি চালাতেন; সেই দক্ষতাতেই তৈরি করতে পারতেন অপূর্ব সব লেসের নকশা। ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ প্রবাদকে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে; সময় ও সমালোচনাকে পদানত করেছিলেন কাদম্বিনী! বাঙালি ভুলে গেলেও; গোটা বিশ্বে তাঁকে সম্মান জানাল গুগল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন