চটি ছোঁড়ার অপরাধে, গুজরাতের চা বিক্রেতাকে দেড় বছর জেলে পাঠাল হাইকোর্ট

1774
গুজরাতের চা বিক্রেতাকে দেড় বছর জেলে পাঠাল হাইকোর্ট
গুজরাতের চা বিক্রেতাকে দেড় বছর জেলে পাঠাল হাইকোর্ট

গুজরাতের এক চা বিক্রেতাকে; দেড় বছর জেলে পাঠাল হাইকোর্ট। আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে তাঁর মামলা; হতাশায় হাইকোর্টের বিচারপতিকে লক্ষ্য করে চটি ছুঁড়েছিলেন; চা বিক্রেতা ভবানীদাস বাভাজি। ২০১২ সালের সেই ঘটনায়, দোষী গুজরাতের রাজকোট জেলার এই চা বিক্রেতাকে; এবার সাজা শোনাল গুজরাতের আমেদাবাদের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। তাকে ১৮ মাস অর্থাৎ দেড় বছর; হাজতবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। চা বিক্রেতা হওয়ায়; সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মজার পোস্ট।

২০১২ সালের ১১ এপ্রিল, একটি শুনানি চলাকালীন; হাইকোর্টের বিচারপতি কে এস জাভেরিকে লক্ষ্য করে; চটি ছোড়ে চা বিক্রেতা ভবানীদাস বাভাজি। যদিও বিচারপতির গায়ে লাগেনি চটি। গ্রেফতার করা হয়; এই চা বিক্রেতাকে। এরপরই ভবানীদাস বাভাজিকে; গুজরাতের সোলা থানায় পাঠানো হয়। যেখানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের হয়। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়; এমন আচরণের কারণ কি ? সে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তার মামলা; শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। হতাশা থেকে সে একাজ করেছে।

আরও পড়ুনঃ মোদীর সমালোচনা করা কংগ্রেস, ৪০০ টাকার করোনা টিকা মানুষকে ১৫৬০ টাকায় বেচছে

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায়; অভিযুক্ত ছিল ওই চা বিক্রেতা ভবানীদাস বাভাজি। তাকে শুক্রবার সাজা শোনান; মির্জাপুর গ্রামীণ আদালতের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভিএ ধাধল। দোষী ব্যক্তি দাবি করে, নিজের মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায়; হতাশার বশে সে বিচারপতিকে লক্ষ্য করে চটি ছুঁড়েছে। তার এই কাজকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’; বলে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। রাজকোটের ভয়াবদার শহরের চা বিক্রেতাকে, ১৮ মাস জেলের সাজা দিলেও; তাঁর আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে কোনও জরিমানা করেননি বিচারপতি।

আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিং’সা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে অধ্যাপকদের চিঠি রাষ্ট্রপতিকে

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, ভবানীদাস ভয়াবদারে রাস্তার পাশে; একটি চায়ের দোকান চালাত। ভয়াবদার পুরনিগম তাকে ওই স্টল; সরিয়ে নিতে বলে। কিন্তু, গোন্ডাল সেসন আদালত; পুর নিগমের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পুরসভা। আদালতে আবেদনের পরেই; পুর কর্তৃপক্ষ চায়ের স্টল সরিয়ে দেয়। কর্মহীন হয় ভবানীদাস; আয়ের কোনও পথও খোলা ছিল না। এদিকে আমেদাবাদ আদালতে শুনানির জন্য; যাতায়াত খরচ জোগাড় করতে তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছিল; বা ধার নিতে হচ্ছিল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন