জাগ্রত হংসেশ্বরী দেবীর মন্দির তৈরির অদ্ভুত কাহিনী, কিভাবে যাবেন এখনই জেনে নিন

132
হংসেশ্বরী মন্দির তৈরির অলৌকিক ইতিহাস, জেনে নিন কিভাবে যাবেন/The News বাংলা
হংসেশ্বরী মন্দির তৈরির অলৌকিক ইতিহাস, জেনে নিন কিভাবে যাবেন/The News বাংলা

হুগলীর বাঁশবেড়িয়া মাতা হংসেশ্বরী মন্দির। সপ্তাহান্তে খুব সহজেই ঘুরে আসাই যায়। গঙ্গার ঘাট থেকে অল্প দূরেই সুদৃশ্য এই মন্দির। চারদিক পরিখা দিয়ে ঘেরা। ১৬৭৯ খ্রীষ্টাব্দে; রাজা নৃসিংহ দেব রায় এই মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। গোবিন্দদেব মারা যাবার তিন মাস পর; জন্ম হয় নৃসিংহদেবের। মা হংসেশ্বরী দেবীর কাছে; সম্পত্তি উদ্ধারের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন রাজা নৃসিংহদেব।

১৭৯২ খ্রীষ্টাব্দে কাশি যাবার আগে; তিনি চার লক্ষ টাকা রেখে যান। নির্দেশ দিয়ে যান; যেদিন ওই অর্থ সাত লক্ষ হবে, সেদিন খবর দিতে। রাজকোষে সাতলক্ষ টাকা জমানোর জন্যে নৃসিংহদেবের বড় রানি মহামায়া নিজের গহনা বিক্রি করে দেন। ফিরে আসার খবর দেওয়া হয় নৃসিংহদেবকে। কিন্তু ততদিনে নৃসিংহদেবের জীবনে অমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে।

কাশীতে থাকাকালীন; এক রাতে মাতৃরূপে দৈবদর্শন হয় নৃসিংহদেবের। মা হংসেশ্বরী দেবীকে দেখলেন জগজ্জননী মাতৃরূপে। পরেরদিনই তিনি স্থির করলেন; রাজকোষে জমা টাকা দিয়ে তিনি বসতবাড়িতে একটি মন্দির তৈরি করবেন; মা হংসেশ্বরী দেবির।

শ্রীরাধা নয়, কারা ছিলেন কৃষ্ণপত্নী জেনে নিন শ্রী কৃষ্ণের দাম্পত্য জীবন

সংসার তিনি অনেক দিন আগটি ত্যাগ করেছিলেন; এরপর সন্ন্যাস গ্রহণ করলেন। পাল্টে গেল জীবনের লক্ষ্য। ১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ফিরলেন কাশী থেকে। কিনে আনলেন সাত নৌকা চুনা-পাথর; মন্দির তৈরির জন্যে। উত্তরখণ্ড থেকে আনা হয় প্রস্তর শিল্পী।

কিন্তু মন্দির নির্মাণের মাঝখানেই মারা গেলেন তিনি। তাঁর অসমাপ্ত কাজের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেয়; তাঁর ছোট রানি শঙ্করী দেবী। স্বামীর স্বপ্ন সম্পূর্ণ করাই শঙ্করী দেবীর জীবনের উদ্দেশ্য ছিল।

স্থাপত্যের দিক দিয়ে এই মন্দিরটি বাংলার আর পাঁচটি মন্দিরের থেকে স্বতন্ত্র। মন্দিরটির ১৩টি চূড়া। প্রত্যেকটি বিকশিত পদ্মের কুঁড়ির আকারে গঠিত। কথিত আছে এই ১৩ টি কক্ষ দেহতত্ত্বের অনুকরণে তৈরি। এই মন্দিরে মাকালী দেবী হংসেশ্বরী রূপে পূজিত হন।।

কিভাবে যাবেন? গাড়িতে গেলে; আড়াই তিন ঘন্টার মধ্যে কলকাতা থেকে মন্দিরে পৌঁছে যাবেন। রেলপথে ব্যান্ডেল স্টেশনে নেমে রিকশা বা টোটো করে মন্দিরে পৌঁছতে পারবেন। ত্রিবেণী আর ব্যান্ডেলের ঠিক মাঝখানে মন্দিরটি। ফেরার পথে ব্যান্ডেল চার্চ আর ইমামবাড়া দেখে নিতে পারবেন। একটু ভোরের দিকে বেরোলে সেই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই কলকাতা ফিরে আসতে পারবেন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন