করোনা লক আউটেও, প্রধান শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি পার্থর শিক্ষা দফতরের

1417
করোনা লক আউটেও, প্রধান শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি পার্থর শিক্ষা দফতরের
করোনা লক আউটেও, প্রধান শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি পার্থর শিক্ষা দফতরের

করোনা লক আউটেও; প্রধান শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শিক্ষা দফতরের। শাস্তিমূলক বদলি কেন? কারণ করোনার সময় লক ডাউনে থাকতে; মিড ডে মিলের পরিবর্তে স্কুল থেকে চাল ও আলু দেবার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দেশ ছিল অভিভাবকরা আসবেন চাল ও আলু নিতে। কিন্তু অনেক স্কুলেই অভিভাবকদের পরিবর্তে; চাল ও আলু নিতে স্কুলে চলে আসেন ছাত্র ছাত্রীরা। তাদের ফিরিয়ে দেন নি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। আর তাতেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত; শাস্তিমূলক বদলির চিঠি পেলেন রাজ্যের দুই প্রধান শিক্ষক। করোনার লক ডাউনের মাঝেই; এই শাস্তিমূলক বদলি নিয়ে রাজ্যের শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে হইচই।

কেন বাবার পরিবর্তে স্কুলে ছেলে? এই গাফিলতির জন্যই; যাদবপুর বিদ্যাপীঠ এর প্রধান শিক্ষক শ্রী পরিমল ভট্টাচার্য ও কারজু নগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক কাজী মাসুম আক্তারকে; ইতিমধ্যেই বদলির চিঠি ধরানো হয়েছে। এই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন; মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতির (STEA) সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র। কি লিখেছেন তিনি দেখুন;

প্রতি ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়; সম্মানীয় শিক্ষা মন্ত্রী (স্কুল শিক্ষা)পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বিষয় -শাস্তিমূলক *বদলির নির্দেশ* পত্র(transfer order) 59/press/20 & 60/press/20 অবিলম্বে প্রত্যাহার।
মহাশয়, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে; মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত দুটি চিঠি নম্বর; ’59/press/20 & 60/press/20′ যথাক্রমে যাদবপুর বিদ্যাপীঠ এর প্রধান শিক্ষক শ্রী পরিমল ভট্টাচার্য ও কারজু নগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক কাজী মাসুম আক্তারকে; গত 23/03/2020 তারিখ প্রেরণ করা হয়েছে; যা পশ্চিম বাংলার সমস্ত প্রধান শিক্ষক সহ সমস্ত স্তরের শিক্ষকদের হৃদয়ে চূড়ান্ত আঘাত দিয়েছে।

আপনি নিশ্চয়ই অবহিত আছেন; গত শনিবার থেকে পশ্চিম বাংলার সমস্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষকরা; চূড়ান্ত পরিশ্রম করে চাল ও আলু সংগ্রহ করে; অভিভাবকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন।কোথাও কোন প্রধান শিক্ষক কখনোই বলেননি; কোন ছাত্র-ছাত্রী এসে এটা নিয়ে যাক। তারা সকলেই সরকারি নির্দেশ মোতাবেক; বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে; অভিভাবকরাই চাল আলু নিতে আসুক।

কিন্তু বেশিরভাগ জায়গাতেই দেখা যায়; কিছু ছাত্র ছাত্রী তাদের অভিভাবকদের সাথেই এসেছে আবার কোথাও কোথাও কিছু ছাত্র-ছাত্রী তারা অভিভাবক না আসার জন্য; নিজেরাই এসে চাল আলু নিয়েছে।
একজন শিক্ষক হিসাবে কোন ছাত্র-ছাত্রী তার অভিভাবক আসেনি বলে; ব্যাগ হাতে এসে দাঁড়ালে তাকে চাল ও আলু না দিয়ে ফিরিয়ে দেবেন; এটা অমানবিক বলেই বিবেচিত হতো। 

আমরা আপনাকে সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই; পৃথিবীর ইতিহাসে বহু ঘটনা ঘটেছে যে ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হয়েছে; যা আইনসঙ্গত তা সর্বদা ন্যায়সঙ্গত হয়না; আবার যা ন্যায় সংগত বলে বিবেচিত হয় তা কখনও কখনও আইনসম্মত হয়না। ন্যায় ও আইনের প্রশ্নে; এক্ষেত্রে শিক্ষক হিসাবে ন্যায়কেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এবং এই প্রধান শিক্ষক সহ বহু প্রধান শিক্ষক একই কাজ করেছেন; এবং আমরা তাদের সমর্থন করি।

এমতাবস্থায় আমাদের দাবি আপনি যাদবপুর বিদ্যাপীঠ এর প্রধান শিক্ষক পরিমল ভট্টাচার্য ও কারজু নগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক কাজী মাসুম আক্তার এর প্রতি; যে শাস্তিমুলক পত্র পাঠানো হয়েছে ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করুন।

আশাকরি অবিলম্বে আপনি এই বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ও তাদের শাস্তি মূলক পত্র প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেবেন।
বিশ্বজিৎ মিত্র
সাধারণ সম্পাদক
মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতি (STEA)
24/03/2020.

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন