হেমন্তে চুপ রফিকুলে সাহায্য, বাংলায় ধর্ম দেখেই কি সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়

774
হেমন্তে চুপ রফিজুলে সাহায্য, বাংলায় ধর্ম দেখেই কি সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়/The News বাংলা
হেমন্তে চুপ রফিজুলে সাহায্য, বাংলায় ধর্ম দেখেই কি সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়/The News বাংলা

মানব গুহ: হেমন্তে চুপ রফিকুলে সাহায্য; বাংলায় ধর্ম দেখেই কি সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়? প্রশ্ন তুলেছে বঙ্গ বিজেপি নেতারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষও। কেরলের পুচাক্কলে নৃশংস ভাবে খুন হন; পেশায় মোটর মেকানিক; বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার রোল গ্রামের বাসিন্দা হেমন্ত রায়। কানাকড়িও সাহায্য পায় নি হেমন্তের পরিবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার কি সত্যি ধর্ম দেখে; সরকারি সাহায্য করে?

দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামে ছয়জন বাঙালি শ্রমিককে; গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। নিহত ছয়জনই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাহালনগর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত কামারুদ্দিন শেখ, মুর্সালিম শেখ, মহম্মদ রফিক, নিজামুদ্দিন শেখ ও মহম্মদ রফিকুল শেখ এর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।

শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন; কাশ্মীর ফেরত সমস্ত শ্রমিককে; একাকলীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এবং যাঁদের ঘর নেই, তাঁদের ঘরও করে দেওয়া হবে। নিজের রাজ্যের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

আরও পড়ুনঃ মমতার কাশ্মীর কবিতা পড়ে মুগ্ধ গোটা দেশ

রাজস্থানে খুন হওয়া মালদহের আফরাজুলকে নিয়েও; রাজ্য তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। সরকারি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু কেরালায় খুন হওয়া বাঁকুড়ার যুবক হেমন্ত রায়ের পরিবার কি পেয়েছে? তার পরিবারকে সরকার কি সাহায্য করেছে? না, এক টাকাও সরকারি সাহায্য পায় নি হেমন্ত রায়ের পরিবার।

কেরালায় খুন হওয়া হিন্দু যুবকের ক্ষেত্রে; অদ্ভুত ভাবে নিশ্চুপ প্রশাসন। কেরালায় রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া বাঁকুড়ার যুবক হেমন্ত রায়কে নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। তাঁর দেহ দীর্ঘ টালবাহানার পর বাঁকুড়ার গ্রামে ফিরেছিল। কিন্তু শাসকদল বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে; একটি মালাও পায় নি ভিনরাজ্যে হিংসার শিকার হওয়া এই নিহত শ্রমিক।

হেমন্ত রায় ছিল বাঁকুড়ার লোক। কামারুদ্দিন শেখ, মুর্সালিম শেখ, মহম্মদ রফিক, নিজামুদ্দিন শেখ, মহম্মদ রফিকুল শেখ সেখ ছিল মুর্শিদাবাদের লোক। হেমন্ত ছিল বাঙালি; আফরাজুল রফিকুল কামারুদ্দিন এরাও বাঙালি। সবাই গরিব। তাহলে শুধু হেমন্তের পরিবার কিছুই পেল না কেন?

হেমন্ত কেরলে কাজ করতে গিয়ে খুন হয়েছিল। রফিকুল কামারুদ্দিন কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়ে খুন হয়েছে। হেমন্তের মৃত্যুর পর বাংলায় কেউ হাহুতাশ করে নি; কোন মন্ত্রী তার বাড়ী ছুটে যায় নি। কোন নেতার দল মরাকান্না জুড়ে দেয় নি। কেউ কেরলের কম্যুনিস্ট সরকারের দিকে আঙ্গুল তোলে নি। কোন সংবাদপত্র বেশী কভারেজ দেয় নি।

কিন্তু রফিকুল কামারুদ্দিন এর ক্ষেত্রে; রাজ্য জুড়ে দামামা বেজে গেছে। হেমন্তের মৃত্যুর পর তৃণমূল সরকার তার পরিবারকে; হবিষ্যি করার জন্যে একটা কাঁচকলাও পাঠায় নি। আর ছয় মুসলিম পরিবারের হাতে তৃণমূল সরকার পাঁচ লাখ টাকা তুলে দিয়েছে।

সবাই বাঙালি। সবাই গরীব শ্রমিক। তবু এমন বিপরীত ব্যবহার কেন? প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য বিজেপি। কারণও দেখিয়েছে তারা। রফিকুল কামারুদ্দিন রফিক আফরাজুল সংখ্যালঘু মুসলমান; ভোটের বাজারে যারা মহার্ঘ্য। আর হেমন্ত সন্দীপ হতভাগ্য হিন্দু; যার ভোট বাজারে কানাকড়ি মূল্যও নেই।

বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা আফরাজুলের ক্ষেত্রে যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন; হেমন্তের ক্ষেত্রে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। রাতের অন্ধকারে সুদূর কেরালা থেকে; তাঁর দেহ এসেছে বাঁকুড়ার গ্রামে। তারপর শ্মশানের চুল্লিতে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর নশ্বর দেহ। হেমন্তের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো বলতে শুধু স্থানিয় বিধায়কের আশ্বাস। প্রতিশ্রুতি ছিল, নিহত শ্রমিক হেমন্তের স্ত্রীকে; অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চাকরি দেওয়া হবে।

এর পরেও কি বলতে হবে এরাজ্যে ধর্মের নামে বৈষম্য হয় না? সেকুলারিজমের নামে এখানে ধর্ম টর্ম হয় না? প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য বিজেপি। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। সবটাই বিজেপির ধর্মের রাজনীতি; জানিয়েছে তৃণমূল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন