বিচারপতি-তে অবিশ্বাস ‘বিজেপি মনভাবাপন্ন’, তৃণমূল নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বিশ্বাস করবে কেন

759
বিচারপতিকে অবিশ্বাস 'বিজেপি ঘেঁষা', তৃণমূল নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বিশ্বাস করবে কেন
বিচারপতিকে অবিশ্বাস 'বিজেপি ঘেঁষা', তৃণমূল নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বিশ্বাস করবে কেন

মানব গুহ, কলকাতাঃ বিচারপতি-তে অবিশ্বাস ‘বিজেপি মনভাবাপন্ন’; তাহলে তৃণমূল নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে; বিশ্বাস করবে কেন? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে, কলকাতা হাইকোর্টে করা; মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা; বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে কেন? প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে বিক্ষোভ; তৃণমূল-পন্থী আইনজীবীদের। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর মামলা যে বিচারপতির এজলাসে দেওয়া হয়েছে; সেই কৌশিক চন্দ বিজেপির লিগ্যাল সেলের অনুষ্ঠানে যান। নন্দীগ্রাম মামলা ওই বিচারপতির এজলাস থেকে; সরিয়ে নেবার জন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন স্বয়ং মমতা। তারপরেই উঠেছে প্রশ্ন, তৃণমূলের নেত্রীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে; কেন বিশ্বাস করবে মানুষ?

তৃণমূল বিশ্বাস করে না; হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দকে। তিনি নাকি একসময়; বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এখনও বিজেপি লিগ্যাল সেলের অনুষ্ঠানে; তাঁকে দেখা যায়। লিগ্যাল সেলের সভাতে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাশে বসা তাঁর ছবি; টুইট করেছেন তৃণমূল নেতারা। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ঘোষ জানিয়েছেন; “তিনি বিজেপি মনোভাবাপন্ন; তাই সঠিক বিচার নাও হতে পারে”। মুখ্যমন্ত্রী মমতা নিজে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে; এই মামলা অন্য বিচারপতির বেঞ্চে দেবার আবেদন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন; বারবার বলা সত্ত্বেও হিসাব দেয়নি রাজ্য, ডেঙ্গুর বরাদ্দ বন্ধ করল কেন্দ্র

এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন; বাংলার সাধারণ মানুষ। তাহলে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তো তৃণমূল বিধায়ক; তাঁকে কি করে বিশ্বাস করা যায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল নেত্রী; মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁকে কি বিশ্বাস করা যাবে? সেই হিসাবে নরেন্দ্র মোদী বিজেপি সাংসদ; তাঁকে কি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বিশ্বাস করা উচিত? উঠে গেছে প্রশ্ন।

তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসলে; তিনি শুধুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে বিচারপতির চেয়ারে বসলে; বিচারপতি কৌশিক চন্দ শুধুই একজন বিচারপতি কেন হবেন না? কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, “সেই হিসাবে দেখলে অধিকাংশ বিচারপতি; স্কুল-কলেজ বা ব্যক্তিগত জীবনে কোন না কোন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতেই পারেন। বা কখনও নিশ্চয় কোন রাজনৈতিক দলের; লিগ্যাল সেলের অনুষ্ঠানে গেছেন। তাহলে সবাইকেই তো; অবিশ্বাস করতে হয়”। তবে তাতে থামছে না, বিচারপতিকে নিয়ে; বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিতর্ক।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন