ভয়ঙ্কর রিপোর্ট পাক জঙ্গি হাফিজ সাইদের টাকায় ভারতে তৈরি হয়েছে মসজিদ

219
Image Source: Google Image

নিজস্ব সংবাদদাতা: পাক জঙ্গি গোষ্ঠীর টাকায় ভারতে তৈরি হয়েছে মসজিদ। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হাফিজ সাইদের লস্কর-ই-তৈবা র টাকায় হরিয়ানার পালওয়াল জেলায় একটি বড় মসজিদ তৈরি হয়েছে বলে রিপোর্ট দিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA। রিপোর্ট হাতে আসার পরই নড়ে চড়ে বসেছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।

হরিয়ানার পালওয়াল জেলার উত্তাওয়ার গ্রামে খুলাফা-ই-রাশিদিন মসজিদটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়েছে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হাফিজ সাইদের লস্কর-ই-তৈবার টাকায়। NIA এর রিপোর্ট জমা পরেছে কেন্দ্রের কাছে।

সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখে, দিল্লিতে জঙ্গি যোগসাজশ ও জঙ্গিদের টাকাপয়সা দেওয়ার তদন্তে ধরা পড়ে ৩ জন। জেরা করে জানা যায়, এদের মধ্যে একজনের নাম মহম্মদ সলমান। যে হরিয়ানার পালওয়াল জেলার উত্তাওয়ার গ্রামে খুলাফা-ই-রাশিদিন মসজিদের ইমাম। এরপরই অক্টোবরের ৩ তারিখে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA এর গোয়েন্দারা ওই মসজিদে তদন্ত করতে যায়।

বেশ কিছু কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস, সিডি উদ্ধার করে NIA গোয়েন্দারা। তদন্তে প্রমান হয়েছে এই মসজিদটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়েছে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হাফিজ সাইদের লস্কর-ই-তৈবার টাকায়। যে এখন পাকিস্তানে জামাই আদরেই আছে বলে ভারতের বরাবরের অভিযোগ।

উত্তাওয়ার এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মসজিদটি তৈরি করার সময় জমি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। তবে, ইমাম যে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তা তারা বুঝতেই পারেন নি। ইতিমধ্যেই NIA এই মসজিদের ব্যাংক আক্যাউন্ট, ও কারা কারা ডোনেশন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে মসজিদের কর্মীদের।

মহম্মদ সলমান, মহম্মদ সালিম ও সাজ্জাদ আব্দুল ওয়ানি নামে ৩ জনকেই, পাক জঙ্গি গোষ্ঠী থেকে টাকা নিয়ে তা ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেবার কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে লাহোরে অবস্থিত ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশন বা FIF নামে একটি NGO থেকে টাকা নেবার প্রমান পায় গোয়েন্দারা। এই NGO টি জঙ্গি হাফিজ সাইদের লস্কর-ই-তৈবার আরেকটি সংগঠন জামাত-উড-দাওয়ার।

লস্কর-ই-তৈবার এই টাকা ভারতে পাক জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হত। মহম্মদ সালমান এই টাকা দিয়েই মসজিদটি গড়ে তোলে ও নিজে ইমাম হয়ে বসে। এই মসজিদ জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া ও লুকোনোর জায়গা হিসাবে ব্যবহার করত ইমাম সলমান, জানিয়েছে গোয়েন্দারা। মসজিদ গড়তে লস্কর-ই-তৈবার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা নেয় সলমান।

যদিও মসজিদের বর্তমান ইমাম মহম্মদ জামশেদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আগের ইমাম সলমানের কাছে এত টাকা কি করে এল তা নিয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের টাকা দিয়েই মসজিদ তৈরি হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

তবে, মহম্মদ সলমানকে জেরা করে এই সংক্রান্ত বিষয়ে আরও অনেক তথ্য জানা গেছে বলেই জানিয়েছে NIA। তবে, তদন্তের স্বার্থে সেগুলি প্রকাশ্যে আনা হয় নি। তবে যেভাবে সলমানের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করতে চাইছে বর্তমান মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাতে গ্রামবাসীদের মনেও এবার সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন