ভারতের জাতীয় পতাকা ব্যবহারে আছে কিছু নিয়ম, স্বাধীনতা দিবসে পতাকা তোলার আগেই জেনে নিন

334
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেনে নিন ভারতের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধিমালা ও আইনকানুন/The News বাংলা
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেনে নিন ভারতের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধিমালা ও আইনকানুন/The News বাংলা

স্বাধীনতা দিবসে সবার হাতেই থাকে; ছোট-বড় জাতীয় পতাকা। গাড়িতে; বাইকে বা বাড়ির ছাদে অনেকেই জাতীয় পতাকা লাগাই। কিন্তু বহুক্ষেতে দেশপ্রেম ছড়ানোর কিছুঘন্টা পরেই দেখা যায়; রাস্তায় ধুলোয় গড়াগড়ি খাচ্ছে আমাদের দেশের সম্মান এই জাতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকা দেশের স্বাভিমান এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। তাই জাতীয় পতাকার; যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া উচিত। অনেকেই জানিনা যে; দেশের জাতীয় পতাকা ব্যবহারেরও বেশ কিছু নিয়ম আছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে; সবারই জানা দরকার জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সেইসব নিয়ম।

ভারতীয় জাতীয় পতাকার; দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হতে হবে ৩:২; দৈর্ঘ্যে যদি তিনফুট হয় তাহলে প্রস্থে অবশ্যই দুই ফুট হবে। দেশপ্রধান বা গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের বিমানে ব্যবহারের জন্য; ৪৫০×৩০০ মিলিমিটার সাইজের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে হবে। গাড়িতে ব্যবহার করার জন্য; পতাকার সাইজ হবে ২২৫×১৫০মিলিমিটার। প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের টেবিলে রাখার জন্য; ১৫০×১০০ মিমি সাইজের পতাকা ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বেমালুম উধাও হয়ে যান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু

দেশের সাধারণ নাগরিক এবং সরকারি ও বেসরাকরি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য; পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। যদি তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। আর এই নির্দিষ্ট নিয়মগুলি হল; জাতীয় পতাকাকে ব্যবসায়িক উদ্দেশে ব্যবহার করা যাবে না। জাতীয় পতাকাকে কখনোই পোশাকের অংশ; বা পোশাক রূপে ব্যবহার করা যাবে না। বালিশ; চাদর; রুমাল গামছা এমন কোন কিছুর উপর প্রিন্ট করা যাবে না।

জাতীয় পতাকার উপর লেখালেখি করা যাবে না। কখনোই জাতীয় পতাকাকে; উল্টো ভাবে উত্তোলন করা যাবে না। পতাকা উত্তোলন করা অবস্থায় রাখতে হবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত; রাত্রির আগেই পতাকা নামিয়ে নিতে হবে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে। তবে সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী; জাতীয় পতাকা রাতেও তুলে রাখা যাবে; যদি সেই জায়গায় যথাযথ আলো থাকে। এবং জাতীয় পতাকা পরিষ্কার দেখা যায় দূর থেকেও।

বাজারের সস্তা প্লাস্টিকের জাতীয় পতাকা; ব্যবহার না করাই উচিত। কারণ এই পতাকা যেমন একদিকে জৈব ভঙ্গুর নয়; তেমনই এই পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে; অনেক বেশি আলগা ভাব দেখা যায়। অর্থাৎ পতাকা ব্যবহারের পর; রাস্তা ঘাটে পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা জাতীয় পতাকার অবমাননা করার সমান। যদি কাপড়ের পতাকা ব্যবহার করতে হয়; তাহলে তা খাদি কাপড়ের হওয়া দরকার। কিন্তু আমরা অনেকেই; নানা কাপড়ের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে থাকি।

জাতীয় সম্মানের অপমান প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী; যদি কোন ব্যক্তি জাতীয় পতাকাতে অগ্নিসংযোগ; ছিঁড়ে ফেলা বা পদদলিত বা অন্য কিছু অপমানসূচক কাজ করতে দেখা যায়; তাহলে সেই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে; সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল বা জরিমানা ও জেল দুই হতে পারে। আশা করি; আমরা সবাই জাতীয় পতাকার সম্মান সঠিক বজায় রাখতে পারবো।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন