সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে নামার স্বপ্ন, মন্দির যাওয়া ও কান্না নিয়েই ব্যস্ত বাম

467
সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন, মন্দিরে যাওয়া আর কান্না নিয়ে বিতর্কে বামেরা/The News বাংলা
সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন, মন্দিরে যাওয়া আর কান্না নিয়ে বিতর্কে বামেরা/The News বাংলা

মানব গুহঃ সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন; কিন্তু সেসব ছেড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীর মন্দিরে যাওয়া নিয়ে; আর তাঁর কান্নায় ভেঙে পরা নিয়ে; বিতর্কে বামেরা। একসময়ে ক্ষেতে খালি পায়ে; নিজের কৃষক বাবার সঙ্গে কাজ করেছেন কে শিভন। কঠিন পরিশ্রমের পর সাফল্যের নানা সিঁড়ি পেরিয়ে; সেই তিনি আজ ইসরোর প্রধান। যে মানুষটি নিজের জীবনে প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে; এমন সাফল্য পেতে পারেন; তাঁর নেতৃত্বে ইসরো চাঁদকে ছোঁয়ার চেষ্টা করবে; তাতে আর আশ্চর্য কী! সর্বহারা বামেরা এই সর্বহারা চাষির ছেলের; মন্দিরে যাওয়া নিয়ে আর প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে কান্না নিয়েই বিতর্কে ব্যস্ত।

অদ্ভুত! এক সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেটাকে প্রজেক্ট করছে না বামেরা। ভাবা যায়। তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার সারাক্কাভিলাই গ্রামে; একটি কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিভন। আসল সর্বহারা। স্থানীয় একটি তামিল স্কুলেই পড়াশোনা শুরু তাঁর। এর পরে নাগারকয়েলের একটি হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক হন তিনি। মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে; ১৯৮০ সালে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন তিনি। ১৯৮২ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স থেকে; ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন শিভন।

আরও পড়ুনঃ হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে, মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা

২০০৬ সালে আইআইটি বম্বে থেকে; অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেন তিনি। তিনি গণিতেও স্নাতক। তাঁর পরিবারে তিনিই প্রথম স্নাতক। এরপর মাদ্রাজ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তে যাবার সময়ই; প্রথম পায়ে প্রথম জুতো পরতে পান ভদ্রলোক। তার আগে অব্দি খালিপায়েই ঘুরে বেড়াতেন।

স্কুল শেষ করার পরপরই চেয়েছিলেন; ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে। বাড়িতে এক সপ্তাহ খাবার না খেয়ে; অনশনও করেছিলেন এই নিয়ে। তাতেও বাপের মন টলেনি। “তুই যদি দূরের কলেজে পড়তে যাস; তবে চাষের মাঠ কি আমি একা সামলাবো? আর তোকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে গেলে; আমাকে জমি বিক্রি করতে হবে। তুই কি চাস; আমরা সবাই না খেতে পেয়ে মরি?”। এই ছিল বাপের কথা।

সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন, মন্দিরে যাওয়া আর কান্না নিয়ে বিতর্কে বামেরা/The News বাংলা/The News বাংলা

এরপর আর কথা চলে না। ছেলেকে অতঃপর বাবার যুক্তি মেনে নিতেই হয়। সত্যিই তো; তাদের তো এই ‘দিন আনি দিন খাই’ অবস্থা। তাও আবার খরার দাপটে; কোনও বছর ফসল ভালো না হলে; তো আর কথাই নেই! বড় ক্লাসে ওর বয়সী ছেলেরা ফুলপ্যান্ট পরে আসত। ওকে কিনা বাপের পুরোনো ধুতি পরেই; কাজ চালাতে হয়!

সেই বাবাই অবশ্য মতবদল করলেন একসময়। ততদিনে গণিতে স্নাতক ছেলে। বাড়ির কাছেই ছিল কলেজ। রোজ কলেজ যাওয়ার আগে আর পরে; চাষের মাঠে বাপকে সাহায্য করতে হয়েছে। তাঁদের তো আর আলাদা করে; মুনিশ রেখে চাষ করার সামর্থ্য নেই!

পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল; যে অর্থের অভাবে তাঁর ভাই এবং দুই বোন; উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারেননি। ফলে, পরিবারে তিনিই প্রথম স্নাতক। কিন্তু এবার চাকরি একটা জোগাড় করতেই হবে। চাষীর ছেলে গ্র্যাজুয়েট; এই পর্যন্ত ঠিক আছে; চোদ্দপুরুষে যা কেউ হতে পারেনি। কিন্তু গরীবের ছেলে সসম্মানে ইঞ্জিনিয়ার হয়েই গেল! পরিবারে স্নাতকই কেউ ছিল না; তায় ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর!

হ্যাঁ, তিনি পুজোও দেন। বিজ্ঞানী হলেই যে নাস্তিক হতে হবে; এমন কোনও নিয়ম তো নেই! মানুষের ধর্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর। এই নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করার আগে; আয়নায় নিজেদের মুখগুলো একবার দেখে নেওয়া ভালো।

হ্যাঁ, গাঁয়ের চাষীর ছেলে তো! সর্বহারা। এত চেষ্টার পরেও চন্দ্রযান অভিযানের আশানুরূপ ফল না পেয়ে; আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন ভদ্রলোক। আবেগ সাচ্চা মানুষেরই থাকে। কোনও এক দুর্বল মুহূর্তে হয়ত; নিজেকে আর সামলাতে পারেননি তিনি। এত পরিশ্রম; এত সময়; এত অর্থ! এত প্রত্যাশা! তিনি এই ভারতের এক প্রান্তিক চাষীর সন্তান। এ সবের মূল্য; তাঁর চেয়ে ভালো আর কে বুঝবে।

আর এই কে শিবনের আবেগ আর কান্না নিয়েও; ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ চলছে গোটা বাংলা জুড়ে। বাংলা নাকি শিক্ষা সংস্কৃতির পীঠস্থান! ডঃ কৈলাশাভাদিভু শিবন; এই পবিত্র ভূমির এক আদর্শ সন্তান। তিনি আমাদের গর্ব। আর তাঁকেও যোগ্য সম্মানটাও দিতে পারল না; অনেক বাংলাবাসী। সর্বহারা বামেদের সংবিধান থেকে; সর্বহারা শব্দটা মনে হয় বুদ্ধবাবুর আমল থেকেই উঠে গেছে। তাই যোগ্য সর্বহারার লড়াই; বামেদের আর টানছে না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন