প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে সুরক্ষিত দেশ

6081
প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে সুরক্ষিত দেশ
প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে সুরক্ষিত দেশ

প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে সুরক্ষিত দেশ; এই বলেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন; জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। ‘হাত’ ছাড়ার পর পদ্ম-ই যে জ্যোতিরাদিত্যের লক্ষ্য ছিল; তা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রশ্ন ছিল কবে? ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করেছিল, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সম্ভবত মঙ্গলবার রাতেই। শেষ পর্যন্ত, বুধবার বিকালের বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা-র উপস্থিতে; বিজেপি সদর দফতরে এসে; বিজেপিতে যোগ দিলেন; জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। সূত্রের খবর, প্রথমে রাজ্যসভার সাংসদ; পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হতে পারে জ্যোতিরাদিত্যকে। ২০১৪-র সাধারণ নির্বাচন থেকে একের পর এক ভোটে ধাক্কা খেতে থাকা; কংগ্রেসের কাছে এটা নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে; এবার হয়ত দলের বহু নেতা-ই প্রকাশ্যে; গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেয়ে যাবেন।

সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি; গুনা লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে হেরে যাওয়া; জ্যোতিরাদিত্যকে কংগ্রেস রাজ্যসভায় পাঠাতে অরাজি হওয়াতেই দল ছাড়লেন তিনি। কিন্তু, সিন্ধিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠরা বলছেন; সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে; কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন; দল জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন জ্যোতিরাদিত্য। কিন্তু, জয়ের পর সমীকরণ বদলে; কুর্সি দেওয়া হয় কমল নাথকে।

মধ্যপ্রদেশে দলের সভাপতির পদ চেয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য; তাতেও সিলমোহর দেয়নি দল। উল্টে তাঁর কাঁধে দেওয়া হয়; পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসকে চাঙ্গা করার দায়িত্ব। যাকে প্রশাসনিক পরিভাষায় ‘পানিশমেন্ট পোস্টিং’; বলেই মনে করেন অনেকে। লোকসভায় ভরাডুবির পর দায়িত্ব ছাড়েন জ্যোতিরাদিত্য।

যত সময় গিয়েছে ১০ জনপথের সঙ্গে; দূরত্ব বেড়েছে গোয়ালিওরের মহারাজের। ছেদ পড়েছে রাহুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায়; আর সংঘাত বেড়েছে কমল নাথের সঙ্গে। কিছুদিন আগে যার চরম রূপ প্রকাশ্যে আসে; যখন নিজের দলেরই সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামার হুমকি দেন জ্যোতিরাদিত্য। পাল্টা কমলও বলেন; ‘নেমে পড়ুক’। দেওয়াল লিখনটা তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাজ্যসভার টিকিট নিয়ে দরকষাকষি; সেই বিচ্ছেদকেই নিশ্চিত করল।

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া; নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর প্রশংসা করেন। কংগ্রেসকে একহাত নিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন; কংগ্রেসে থেকে দেশ সেবা করা যায় না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন