বিপদে মনে পরল মোদীর ভারতকে, জন্ম থেকেই বন্ধু পাকিস্তান

227
India Ukrain
বিশ্বের দরবারে প্রতিটা ক্ষেত্রে ভারতের বিরোধীতা করেছে ইউক্রেন
Simple Custom Content Adder

‘বিপদে না পড়লে মানুষ আসল বন্ধু চিনতে পারে না’; পুরোনো প্রবাদ আজও সত্যি হল। ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটল; বিপদে মনে পরল মোদীর ভারতকে, আর জন্ম থেকেই বন্ধু পাকিস্তান। অর্ধেক দেশ রাশিয়া দখল করে নেবার পরে হল চৈতন্য; মনে পড়ল ‘শান্তি দূত’ ভারতকে। আর তার আগে পর্যন্ত? ভারত-ইউক্রেন ইতিহাস খুব সুখের নয়।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে তৈরি হয় ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র; জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট্র ইউক্রেন। তারপরেই শুরু হয় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বিরোধীতা; রাশিয়ার বন্ধু ভারতের বরাবর বিরোধীতাই করে এসেছে পূর্ব ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটি। অনেকটা অকারণেই।

সালটা ১৯৯৮; কেন্দ্রে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার। পোখরানে ১১মে তিনটি ও ১৩মে দুটি; মোট পাঁচটি পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। জাতিসংঘ-র নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের বাইরে; বিদেশী সাহায্য ছাড়া কোন দেশ পারমাণবিক পরীক্ষা করল। ক্ষেপে উঠল বিশ্ব; ভারতের বিরুদ্ধে নেমে এল অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ।

সেদিন বিশ্বের একটি ছোট্ট দেশ সবচেয়ে বেশি হইচই করেছিল; ঘটনাচক্রে সেই দেশটার নাম ছিল ইউক্রেন। UN Resolution 1172 এ ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাবে সই করেছিল তারা; চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাকি ২৫টা দেশের সঙ্গে। ভারতকে সমস্ত ধরনের প্রতিরক্ষামূলক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছিল। বন্ধ করে দিয়েছিল সমস্ত রকমের অস্ত্র বিক্রি; সব রকমের প্রযুক্তিমূলক সাহায্যও। ভারতের সঙ্গে সবরকমের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল।

এখানেই শেষ নয়। এরপর বিশ্বের দরবারে প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে; ভারতের বিরোধীতা করেছে দেশটি। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে; জাতি সংঘকে হস্তক্ষেপ করাতে উদ্যোগ নিয়েছে এই ইউক্রেন। যেখানে ভারত এই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কাউকেই ঢুকতে দিতে কোনদিনই রাজি নয়। কাশ্মীর ও ভারতে সন্ত্রাসবাদের মূল স্পনসরার পাকিস্তানকে; অস্ত্র-গোলা বারুদ দিয়ে সাহায্য করেছে এই ইউক্রেন। ভারত সহ গোটা বিশ্বের বিরোধীতা করে পাকিস্তানকে বিক্রি করেছে; T 80 মডেলের অত্যাধুনিক যুদ্ধের ট্যাঙ্ক।

অথচ ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রের চুল্লিতে বিস্ফোরণের ফলে; মারাত্মক তেজস্ক্রিয় উপাদান চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ মারা যান; পঙ্গু হয়ে যান। প্রতিবেশী বেলারুশ ও রুশ প্রজাতন্ত্র থেকে শুরু করে জার্মানি সহ পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকায়; তেজস্ক্রিয়তার কুপ্রভাব ধরা পড়ে। পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সেই ভারতই।

এখন সেই ইউক্রেন মহাভারত থেকে উক্তি নিয়ে ভারতের দরবারে ভিক্ষা চাইছে; রাশিয়ার আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে সাহায্য চাইল ভারতের। কি বলল তারা? “এই মুহূর্তে ভারতের সমর্থনের জন্য অনুরোধ করছি আমরা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওপর সর্বগ্রাসী আক্রমণ হলে; ভারতের উচিত তার সর্বজনীন দায়িত্ব নেওয়া। মোদীজি পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এবং শ্রদ্ধেয় নেতা। মোদীজিকে নিয়ে আমরা আশাবাদী; তাঁর দৃঢ় কণ্ঠ শুনলে হয়ত পুতিন একবার ভেবে দেখতে পারেন। আমরা ভারত সরকারের থেকে আরও অনেক আনুকূল্যের মনোভাব দেখতে চাইছি”।

কি অদ্ভুত পরিবর্তন….!!
আসলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মতো; পৃথিবীর আদর্শহীন দেশগুলিরও কোন স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী বন্ধু থাকে না। শুধু স্বার্থটাই স্থায়ী থাকে।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই তাই ইউক্রেনকে এখন বন্ধু পাকিস্তানের সাহায্য নিতে বলেছে; কারণ ইমরানের দেশ জানে কি করে আত্মসমর্পণ করতে হয়…..

এডিটোরিয়াল লিখলেন; মানব গুহ

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন