দেশে তৈরি ৯ টি মিসাইল দেখে, কাঁপে ভারতের সব শত্রু দেশ

32430
দেশে তৈরি এই ৯ টি মিসাইল দেখে, কাঁপে ভারতের সব শত্রু দেশ/The News বাংলা
দেশে তৈরি এই ৯ টি মিসাইল দেখে, কাঁপে ভারতের সব শত্রু দেশ/The News বাংলা

দেশে তৈরি এই ৯ টি মিসাইল দেখে; কাঁপে ভারতের সব শত্রু দেশ। এগুলি হল, অগ্নি, পৃথ্বী, ব্রাহ্মস, নির্ভয়, নাগ, ধনুশ, প্রহার, আকাশঅ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল। এর মধ্যে একমাত্র ব্রাহ্মস; তৈরি ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে। শুধু যুদ্ধের মিসাইল নয়; ভারত বানিয়েছে মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংসের মিসাইলও। একনজরে দেখে নেওয়া যাক; ভারতের মিসাইল ভাণ্ডার; যা ভয় পাইয়ে দেয়, বিশ্বের বড় বড় দেশকেও। ভারতের মিসাইলের এই ছবি; কাঁপিয়ে দেয় গোটা বিশ্বের সব দেশকে।

আরও পড়ুনঃ টানা ৩ দিন, চিন সেনাকে রুখে একা অরুণাচল প্রদেশ বাঁচিয়েছিলেন রাইফেলম্যান যশবন্ত সিং রাওয়াত

অগ্নি মিসাইল

১. অগ্নি সিরিজ; অগ্নি মিসাইল শুরু থেকে; অগ্নি সিরিজ এখন অগ্নি ৬ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অগ্নি ১ এর রেঞ্জ ছিল; ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অগ্নি টু দুহাজার কিলোমিটার। অগ্নি ৩ তিন হাজার ও অগ্নি ৪ ও ৫; ৫০০০ কিমি পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। আর অগ্নি ৬ মিসাইল; ১২ হাজার কিমি দূরের টার্গেটে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করতে পারবে। প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার; বিধ্বংসী এই পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু চিন পাকিস্তান নয়; অগ্নি ৬ এর পাল্লায় চলে এসেছে; মার্কিন মুলুকের বিশাল অংশও। চিন, রাশিয়া-সহ গোটা এশিয়া মহাদেশ; এবং ইউরোপের সিংহভাগ ইতিমধ্যেই, ভারতের অগ্নি ৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে ছিল। অগ্নি ৬ মিসাইলের পাল্লা হল; তার প্রায় দ্বিগুণ।

পৃথ্বী মিসাইল

২. পৃথ্বী সিরিজ; বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে স্বনির্ভরতা অর্জনে; ভারত সরকার ১৯৮৩ সালে; সুসংহত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়। এই কর্মসূচির আওতায়; নির্মিত প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হল পৃথ্বী। ভারতের প্রথম দেশীয় মিসাইল পৃথ্বী। ২৫০ থেকে ৩০০ কিমি পর্যন্ত; শত্রুপক্ষের যে কোন জিনিস গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম পৃথ্বী এক ও দুই। পৃথ্বী-৩ আঘাত হানতে পারে ৫০০ কিমি পর্যন্ত।

ব্রাহ্মস মিসাইল

৩. ব্রাহ্মস; ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে; তৈরি হয়েছে ব্রাহ্মস। ভারতের নদ ব্রহ্মপুত্র ও রাশিয়ার নদীর মস্কোভার নাম অনুসারে; এই মিসাইলের নাম রাখা হয়েছে। মাটি, আকাশ, জল ও সাবমেরিন; চারটি জায়গা থেকেই অবলীলায় নিক্ষেপ করা যাবে এটি। ২০০ থেকে ৩০০ কিমি পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করে; শত্রুপক্ষের শিবির ধ্বংস করতে পারে এটি।ভারত ও রাশিয়া তাদের যৌথ উদ্যোগী সংস্থার মাধ্যমে; আগামী দশ বছরে ২ হাজার ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

নির্ভয় মিসাইল

৪. নির্ভয়; নির্ভয় ভারতে নির্মিত একটি দূরপাল্লার; সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে; শত্রুপক্ষের শিবিরে আঘাত হানতে সক্ষম। লং রেঞ্জ মিসাইল। যে কোনও আবহাওয়ায় কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে এটি।

নাগ মিসাইল

৫. নাগ; এটি একটি ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মিসাইল। নাগ তৈরি করেছে ডিআরডিও। ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা; হয় পোখরানে। তৃতীয় প্রজন্মের এই অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র; অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে লক্ষ্যভেদে সক্ষম। শ্ত্রু ট্যাঙ্ককে দিন বা রাত; যে কোনও সময়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে নাগ।

ধনুশ মিসাইল

৬. ধনুশ; স্থল ও জলে দু-জায়গাতেই; শত্রুকে আঘাত করতে পারে এই মিসাইল। এর রেঞ্জ ৫০০ কিমি। ২০০২ সালে ক্ষেপণাস্ত্রটি আইএনএস সুভদ্রা থেকে; পরীক্ষা হিসাবে ছাড়া হয়েছিল।

প্রহার মিসাইল

৭. প্রহার; দেড়শো কিমি পর্যন্ত যে কোন জিনিস; ধ্বংস করতে পারে এই মিসাইল।

আকাশ মিসাইল

৮. আকাশ; আকাশ একটি মাঝারি পাল্লার; ভূমি থেকে বায়ুতে নিক্ষেপ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এটি, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দ্বারা নির্মিত। ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে; গত বছরেই বড় সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। শত্রুর যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করতে; ৫০০ কোটি টাকার আকাশ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম ক্রয়ে; ছাড়পত্র দেয় কেন্দ্র।

অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল

৯. অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল; আধুনিক সমরাস্ত্রের এই যুগে লড়াই কেবল যুদ্ধের ময়দানে চলে না; হয় প্রযুক্তিগত দিকেও। স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ দিয়ে; এক পক্ষ ক্রমাগত নজর রাখে অন্য পক্ষের ওপর। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যার কাছে বেশি তথ্য থাকে; সেই এগিয়ে যায় অনেকটা। শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করে দিতে পারলে; তাই যুদ্ধের আগেই অনেকটা বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। আর অ্যান্টি–স্যাটেলাইট মিসাইল; ঠিক এই কাজটিই করে। সফলভাবে এই মিসাইল নিক্ষেপের মাধ্যমে; অন্য দেশগুলোর স্যাটেলাইটকে; একপ্রকার হুমকির মুখেই ফেলে দিয়েছে ভারত। আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পর; স্যাটেলাইট ধ্বংস করার মিসাইল তৈরি করেছে ভারত।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন