কয়েকটি নিয়ম মেনে, ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও

3605
নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও
নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও

স্বাধীনতা দিবসের সকালে জাতীয় পতাকা তুলেছিল; গাইঘাটার বাগনা এফ পি স্কুল। তারপর নামাতে ভুলে যায়। সূর্যাস্তের পর জাতীয় পতাকা নামাতেই ভুলে যান; স্কুলের শিক্ষকরা, এমনটাই অভিযোগ। গোটা রাজ্যে হইচই; মিডিয়ার দাপাদাপি। রাতে জাতীয় পতাকা না নামিয়ে; অপরাধ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ, মত সবার। কিন্তু আসলে অনেকেই জানেন না; কয়েকটি নিয়ম মেনে রাতেও তুলে রাখা যায়; আমাদের জাতীয় পতাকা। ভারতীয় সংবিধানে কোন বাধা নেই; ২৪ ঘণ্টাই বাড়ির ছাদে বা অন্য কোথাও জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায়।

সবার মনেই একটা প্রশ্ন আছে। সূর্যাস্তের পরেও কি জাতীয় পতাকা; উত্তোলিত অবস্থায় রাখা যায়? স্বাভাবিক ধারণা হল, সূর্যাস্তের পরে; জাতীয় পতাকা নামিয়ে নিতে হয়। ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়াতেও বলা আছে; ঘরের বাইরে পতাকা উত্তোলন করতে হলে, আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তা উত্তোলিত রাখা যাবে। সূর্য ডুবলেই তা নামিয়ে নিতে হবে। কিন্তু এই ভুল ধারণা এবার; ঠিক করে নেবার সময় এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও ভারত সরকার ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ কোড অফ কন্ডাক্ট পরিবর্তন করায়; এবার ভারতবাসী রাতেও জাতীয় পতাকা তুলে রাখতে পারবেন। শুধু মানতে হবে দু-তিনটি নিয়ম; তাহলেই আর কোন বাধা নেই। পুরনো বিধি অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস সহ; অন্যান্য জাতীয় দিবস ছাড়া সাধারণ নাগরিকেরা; পতাকা উত্তোলনই করতে পারতেন না।

২০০২ সালে, শিল্পপতি ও কংগ্রেস সংসদ নবীন জিন্দলের আপিলের ভিত্তিতে; সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য; ভারত সরকারকে পতাকাবিধি সংস্কারের নির্দেশ দেন। সেই মতো অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে; ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পতাকাবিধি সংস্কার করে; কয়েকটি সীমিত ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকার ব্যবহার অনুমোদিত করে। এর ফলে সব ভারতবাসী যে কোনদিনই; জাতীয় পতাকা তুলতে পারে।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে ডিজে বাজিয়ে চটুল নাচের জলসা পঞ্চায়েত প্রধানের

শিল্পপতি এবং কংগ্রেস সাংসদ নবীন জিন্দালের বিরুদ্ধে; ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেখানে তাঁর কারখানা চত্বরে, জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে; আপত্তি জানিয়েছিলেন সরকারি আধিকারিকরা। পাল্টা নবীন জিন্দল দাবি করেছিলেন; জাতীয় পতাকার অবাধ উত্তোলন, প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। উত্তোলনের জন্য নাগরিকদের অবাধ অধিকারের পক্ষে সায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

যদিও, জাতীয় পতাকার যাতে কোনওভাবে অসম্মান না হয়, তাও নিশ্চিত করে বলেছিল শীর্ষ আদালত। সঙ্গে কিছু যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেছিল শীর্ষ আদালত। এর পরে ২০০৯ সালে দেশবাসীর পক্ষ থেকে; প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে; রাতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার চেয়ে চিঠি দেন নবীন জিন্দল। সেখানে তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন; মালয়েশিয়া, ব্রাজিলের মতো অনেক দেশেই রাতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলিত রাখতে পারেন নাগরিকরা।

সেই চিঠির জবাবেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক শর্তসাপেক্ষে রাতেও; জাতীয় পতাকা উত্তোলনে ছাড়পত্র দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছিল, একশো ফুটের বেশি উচ্চতার খুঁটি বা পোলে; যথাযথভাবে আলোকিত করে রাতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্র বলে; আলাদা করে কোন কিছু বলা হয় নি ওই নির্দেশে। তাই এই কয়েকটি শর্ত পূরণ করলেই; আমরা রাতেও জাতীয় পতাকা তুলে রাখতে পারব।

১. অবশ্যই যে খুঁটি বা দণ্ডতে জাতীয় পতাকা লাগানো হবে; তা ১০০ ফুট উঁচু বা লম্বা হতে হবে।
২. পতাকার উপর ও আসে-পাশে; যথেষ্ট আলো থাকতে হবে।
৩. অবশ্যই বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে; যদি বিদ্যুৎ চলে যাবার সম্ভাবনা থাকে। জাতীয় পতাকা অন্ধকারে; রাখা যাবে না কোনরকমেই।

জেনে নিন জাতীয় পতাকার ব্যবহার। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে; গর্ব নিয়ে বিনা বাধায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করুন। যাঁরা জানেন না, তাঁরাও জেনে নিন; জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নতুন নিয়ম। রাতেও তুলে রাখা যায়; আমাদের জাতীয় পতাকা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন