ভারতীয় বিপ্লবীর ব্রিটিশ বড়লাটকে মারার রোমহর্ষক কাহিনী

454
শের আলি আফ্রিদি ওয়াহাবী পাঠান ও শহীদ/The News বাংলা
শের আলি আফ্রিদি ওয়াহাবী পাঠান ও শহীদ/The News বাংলা

আলি আফ্রিদি বা শের আলি খান খাইবারপাসের জামরুদ গ্রামে জন্মগ্রহনকারী ওয়াহাবী পাঠান ও শহীদ। ব্রিটিশ ভারতের বড়লাটকে হত্যার দায়ে; তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। উপমহাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনে; তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি; কোন ব্রিটিশ বড়লাটকে হত্যা করতে সক্ষম হন। তার এই হত্যা; ব্রিটেন তথা ভারতের ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়।

শের আলি আফ্রিদির আদি নিবাস খাইবার পাসের জামরুদ গ্রামে। তাঁর পিতার নাম ঊলি আলি খান। তিনি ছিলেন ওয়াহাবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও এনিয়ে নানা পরস্পরবিরোধী মত আছে। তবে ব্রটিশ সরকারের বিরোধীতায় তাঁর সাফল্য শ্রেষ্ঠ।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বে প্রথম মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন এক বাঙালি নারী

ওয়াহাবী আন্দোলন হচ্ছে; ধর্মীয় আন্দোলন বা ইসলামের একটি শাখাগোষ্ঠী; যা অতিচরমপন্থী; মৌলবাদী; একেশ্বরবাদীর উপাসনার জন্য; ইসলামী পূনর্জাগরণ চরমপন্থী আন্দোলন নামে পরিচিত। ইবনে তাইমিয়া এবং আহমাদ ইবনে হানবাল এর শিক্ষায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে; এই মতবাদে বিশ্বাসীরা ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুতদেরকে; কোরান ও হাদিসের বর্ণিত পথে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

শীর্ষস্থানীয় ওয়াহাবী নেতা মৌলানা জাফর থানেশ্বরী সহ; অন্যান্য বিপ্লবীকে ধরিয়ে দেওয়া ও পুলিশের গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে; হায়দার আলি নামক এক যুবককে হত্যা করেন শের আলি। পেশোয়ার থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন ১৮৬৭ সালে।

কলকাতা হাইকোর্ট আপিলে তাকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে দন্ডিত করে। আন্দামানে তখনো সেলুলার জেল তৈরি হয়নি। বন্দীদের বিভিন্ন দ্বীপে কঠোর পাহারায় রাখা হতো। পোর্ট ব্লেয়ারের হোপ টাউন অঞ্চলের পানিঘাটায় বন্দি ছিলেন শের আলি।

১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লর্ড মেয়ো; হ্যারিয়েট দ্বীপের সানসেট পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখতে যান। সেসময় দেহরক্ষী বেষ্টিত থাকলেও; তাকে অতর্কিতে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন শের আলি। ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে; শের আলি খান এমন এক ব্যক্তি; যিনি একমাত্র ভারতের গভর্নর-জেনারেলকে; হত্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

শের আলি দুজন সাহেবকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন; একজন সুপারিন্ডেন্টন্ট ও অন্যজন বড়লাট। এই হত্যার জন্য গোটা দিন অপেক্ষা করে থাকেন তিনি। তাঁর এই হত্যা; ব্রিটেন তথা ভারতের ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়। এরপর ১৮৭৩ সালের ১১ মার্চ আদালতের বিচারে; শের আলির ফাঁসি হয় আন্দামানের ভাইপার দ্বীপে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন