সিপিএম অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছিলেন, ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জনক

3095
সিপিএম অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছিলেন, ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জনক
সিপিএম অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছিলেন, ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জনক

তিনিও আত্মহত্যা করেছিলেন; সুশান্ত সিং রাজপুতের মত। বাংলায় বামেদের আর এক কালো অধ্যায়; ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়। সুভাষ মুখোপাধ্যায় (জন্ম; জানুয়ারি ১৬, ১৯৩১- মৃত্যু; জুন ১৯, ১৯৮১) একজন ভারতীয় চিকিৎসক। যিনি ভারতে প্রথম এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় নল-জাত শিশু (টেস্ট টিউব বেবি); দুর্গার সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকৃত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের নিকট; তাঁর গবেষণার ফল জানানোর ক্ষেত্রে; তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বারা প্রচণ্ডভাবে বাধাপ্রাপ্ত হন এবং হতাশ হয়ে ১৯৮১ সালের ১৯শে জুন; আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়; তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি তথা বিশ্বের সম্পদ। ১৯৭৮ সালে যখন প্রযুক্তি এতটা উন্নত ছিল না; তখন তাঁর হাত ধরেই জন্ম নিয়েছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম ‘টেস্টটিউব বেবি’ – দুর্গা ওরফে কানুপ্রিয়া আগরওয়াল। কানুপ্রিয়ার বয়স এখন ৪০-এর কোঠায়; ‘সৃষ্টিকর্তা’ই তাঁর নাম রেখেছিলেন দুর্গা।

আরও পড়ুনঃ ভারতকে বিপদে ফেলতে বাংলাদেশকে পাশে টানছে চীন

দুর্গার জন্মের ৬৭ দিন পরে ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়; আরেক টেস্টটিউব বেবি; যাকে পৃথিবীর প্রথম টেস্টটিউব বেবি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হন তিনি; বাঙালি ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়। পরে বিশ্বের না হলেও দেশের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জনকের সম্মান দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তিনি ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়; আপামর বাঙালির গর্ব। জীবিত অবস্থায়, নিজের সহকর্মীদের দ্বারাই; প্রবঞ্চিত হয়েছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। যার জেরে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছিল; অসীম প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটিকে।

সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, ১৯৯০ সালে তপন সিংহর পরিচালনায়; হিন্দিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘এক ডক্টর কি মৌত’। সেই ছবির গল্প বেড়ে উঠেছিল; সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস ‘অভিমন্যু’ অবলম্বনে। সেই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় ‘লেপ্রসি’ বা কুষ্ঠ রোগের টীকা আবিষ্কার; এবং তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি।

আরও পড়ুনঃ আমফান ক্ষতির টাকা নিজের পুরো পরিবারের সবাইকে দিলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে; অভিনয় করেছিলেন পঙ্কজ কাপুর। সেই ছবি জিতে নিয়েছিল জাতীয় পুরস্কারের সম্মাননাও। ১৯৭৮ সালের ৩রা অক্টোবর তিনি ভারতের প্রথম চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী হিসেবে; এক নল-জাত শিশুর জন্ম দিয়ে ইতিহাস স্থাপন করেন। তিনি এই শিশুটির নাম রাখেন দুর্গা (কানুপ্রিয়া আগরওয়াল)। ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্ট জিওফ্রি এডওয়ার্ডস দ্বারা; ওল্ডহ্যাম জেনারেল হসপিটালে পৃথিবীর প্রথম নল-জাত শিশু লুইস জন ব্রাউনের জন্ম দেওয়ার; ৬৭ দিন আগেই সুভাষের গবেষণার দ্বারা দুর্গার জন্ম হয়।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে, তাঁর গবেষণার সম্বন্ধে বক্তৃতা দিতে চাইলে; পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। এই গবেষণার স্বীকৃতি প্রদান না করে; পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যদপ্তর তাঁর গবেষণার সত্যতা সম্বন্ধেই সন্দেহ প্রকাশ করে; ১৯৭৮ সালের ১৮ই নভেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

আরও পড়ুনঃ বয়কট চিন, মোদীর পাশে মমতা, পাশে নেই বাম

সুভাষের সমস্ত গবেষণা মিথ্যা বলে; এই কমিটি রায় দেয়। শাস্তি স্বরূপ সুভাষকে রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজি নামক প্রতিষ্ঠানের; চক্ষু বিভাগে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয়। যার ফলে প্রজনন শারীরবিদ্যা সমন্ধে সমস্ত গবেষণা; তাঁকে বন্ধ করে দিতে হয়।

তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ এর বাম সরকারের আমলাতান্ত্রিকতা ও পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক সমাজ দ্বারা; ক্রমাগত বিদ্রুপ ও অপমানে হতাশ হয়ে সুভাষ বাবু ১৯৮১ সালের ১৯শে জুন কলকাতায় নিজের বাসভবনে আত্মহত্যা করেন। আর এই ঘটনা বামেদের ইতিহাসে; আর একটি কালো দিন হিসাবে কুখ্যাত হয়ে আছে। যে লজ্জা বামেদের আজও বইতে হচ্ছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন