ইঞ্জেকশন চুরির একই অভিযোগ, ডাক্তার নার্সকে শাস্তি, তৃণমূল বিধায়ককে পুরস্কার

1884
ইঞ্জেকশন চুরির একই অভিযোগ, ডাক্তার নার্সকে শাস্তি, নির্মলকে পুরস্কার
ইঞ্জেকশন চুরির একই অভিযোগ, ডাক্তার নার্সকে শাস্তি, নির্মলকে পুরস্কার

মানব গুহ, কলকাতাঃ বাংলায় কি ‘একুশে আইন’? সরকারি হাসপাতাল থেকে, ইঞ্জেকশন চুরির একই অভিযোগ; ডাক্তার নার্সকে শাস্তি, অথচ তৃণমূল নেতাকে পুরস্কার! কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে; করোনার জীবনদায়ী টসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে; অভিযুক্ত মেডিক্যাল অফিসার দেবাংশী সাহাকে; রাজ্য স্বাস্থ্যভবন বদলি করেছে; কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এই কাণ্ডে জড়িত, সিস্টার ইনচার্জ সুনীতা ভৌমিক-কেও বদলি করা হয়েছে; কোচবিহারের মাথাভাঙা হাসপাতালে। সবার প্রশ্ন ছিল একটাই, ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল; তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক নির্মল মাজির। তাঁর কি শাস্তি হবে?

দেখা গেল, শাস্তি তো অনেক দূরের ব্যাপার; প্রমোশন হল তৃণমূল বিধায়কের! ইঞ্জেকশন চুরির একই অভিযোগ, ডাক্তার নার্সকে শাস্তি; আর নির্মল মাজিকে পুরস্কার দিল রাজ্য সরকার। দ্বিতীয়বারের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের; সভাপতি নির্বাচিত হলেন ডা নির্মল মাজি। ডাক্তার মহলের অনেকেই বলছেন; ইঞ্জেকশন চুরির পুরস্কার!

আরও পড়ুনঃ কাটমানি নিতে, ‘এটিএম কার্ড সোয়াপ মেশিন’ নিয়ে বাড়ি বাড়ি তৃণমূল নেতা

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে; উধাও হয়ে যায় ২৬টি টসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন। করোনা চিকিৎসায় জীবনদায়ী, এই ইঞ্জেকশনের বাজারমূল্য; প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। অভিযোগ উঠে আসে, নির্মল মাজির নির্দেশেই মেডিক্যাল অফিসার দেবাংশী সাহা; সিস্টার ইনচার্জ সুনীতা ভৌমিককে দিয়ে এই কাজ করান। দুজনের বদলির শাস্তি হলেও; প্রমোশন হল নির্মল মাজির।

কীভাবে নির্বাচিত হন; ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি?
রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সদস্যরা; কয়েকটি নাম পাঠান রাজ্য সরকারের কাছে। সরকার কাউন্সিল সভাপতি; ঠিক করেন। রাজ্য সরকারের কাছে এবার; তিনটি নাম পাঠানো হয়েছিল। নির্মল মাজির সঙ্গে অন্য দুজন ছিলেন; মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক তপন কুমার নস্কর; এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অপথ্যালমোলজির অধ্যাপক মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকার নির্মল মাজিকেই; মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে।

২০১৮ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচনে; ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে; কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল, চিকিৎসকদের সাত সংগঠনের যৌথ মঞ্চ; ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস’। মামলা গ্রহণ করে হাইকোর্ট; নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। চিকিৎসকদের দাবি, রাজ্য সরকারের উচিৎ ছিল; পুরনো মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে; নতুন মেডিক্যাল কাউন্সিল গঠন করা। তা না করে নির্মল মাজিকে সভাপতি করায়; ক্ষুব্ধ অনেক চিকিৎসক।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন