ঈশ্বর আল্লাহ গড নিজেরাই কোয়ারানটাইনে, ভক্তের ছোঁয়া বাঁচাতে তালাবন্ধ নির্বাসনে

1081
ঈশ্বর আল্লাহ যীশু নিজেরাই কোয়ারানটাইনে, ভক্তের ছোঁয়া বাঁচিয়ে একলা ঘরে নির্বাসনে
ঈশ্বর আল্লাহ যীশু নিজেরাই কোয়ারানটাইনে, ভক্তের ছোঁয়া বাঁচিয়ে একলা ঘরে নির্বাসনে

অদ্ভুত ব্যাপার! এতদিন সবাই জানত; ভক্তের শেষ ভরসা ঈশ্বর বা আল্লাহ বাঁ গড। হিন্দু হলে শেষ ভরসা ভগবান; আর মুসলমান হলে শেষ ভরসা আল্লাহ। আর খ্রিষ্টানদের শেষ ভরসা গড। কিন্তু একি অবস্থা! সব ধর্মের ভক্তদেরই ছোঁয়া বাঁচাতে; এখন নির্বাসন নিয়েছেন স্বয়ং ঈশ্বর ও আল্লাহ ও গড। নাস্তিকরা লিখেছেন কবিতা। “ঈশ্বর আল্লাহ গড নিজেরাই কোয়ারানটাইনে; ভক্তের ছোঁয়া বাঁচিয়ে একলা ঘরে নির্বাসনে”। এরপরেও কি ধর্মীয় গোঁড়ামি কমবে? ধর্ম নিয়ে মানুষের; মাথাব্যাথা কমবে? শেষ ভরসা ঈশ্বর আল্লাহ গড; বিপদের দিনে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন সবাই। মন্দির মসজিদ গির্জা সব বন্ধ। ভক্তদের মুখের উপর; নিজের বাড়ির দরজা বন্ধ করেছেন ভক্তের ভগবান; মুসলিমের আল্লাহ আর খ্রিষ্টানদের যীশু।

ভারতের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৩০ কোটি। করোনায় আক্রান্ত ১০৪ জন। মৃত এখন পর্যন্ত মাত্র ২ জন। তাতেই ঈশ্বর গড ও আল্লাহ-র দফতরে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তাতেই তারাপীঠের মন্দির বন্ধ। ফুল-বেলপাতা-চরণামৃতের লাইন বন্ধ। বেলুড়ে ভিড় বন্ধ। মহারাজের সাক্ষাৎ বন্ধ। সন্ধ্যারতি ও পুজো; নাকি দেখা যাবে জায়েন্ট স্ক্রিনে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের; দেওঘর আশ্রম তালাবন্ধ। আরও বহু ‘বাবা’; চাচা আপন প্রাণ বাঁচার অপেক্ষায়। বাবাদের পাশাপাশি পাততাড়ি গুটিয়েছেন; অনেক তথাকথিত মায়েরাও।

অন্যদিকে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে; বন্ধ বড় বড় মসজিদ। বাংলার কোথাও কোথাও; মসজিদে নমাজ পড়াও বন্ধ। কলকাতার টিপু সুলতানই হোক বা দিল্লির জামা মসজিদ; এখন একসঙ্গে জমায়েত হয়ে নমাজ পড়া বন্ধ। ভারতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে; গোটা বিশ্বেরই একই হাল। বন্ধ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় তীর্থস্থান; বন্ধ মক্কা-মদিনা-কাবা।

শুধু কি মন্দির মসজিদ? না, একদমই নয়। বন্ধ সব ধর্মের ধর্মরাজদের ঘর। সে মন্দির-মসজিদ হোক; বা চার্চ গুরুদ্বারা হোক; বন্ধ সব ভগবানের আশ্রয়স্থল। মন্দির, আশ্রম, চার্চ, মসজিদ গুরুদ্বারা; সব তালাবন্ধ। ভক্তদের ‘করোনা সাগরে’ ভাসিয়ে; নিজেকে বাঁচাচ্ছেন ভক্তের ভগবান, আল্লাহ, গড।

মানেটা কী দাঁড়াল? ঈশ্বর-আল্লা-গড; নিজেরাই এখন কোয়ারানটাইনে। ভক্তের ছোঁয়া বাঁচিয়ে একলা ঘরে নির্বাসনে। মানুষের সারা বছরের ‘ত্রাতা’-রা নিজেরাই এখন বিপন্ন। মানুষ নয়ন মেলে দেখছে; ‘ভক্ত নাই ঘরে; পরে শুধু দেবতার বিগ্রহ’। হরি হে, তুমি কি সত্যি দীনবন্ধু? আল্লাহ, তুমি নাকি রক্ষাকর্তা? হে গড যীশু; তুমিও ছেড়ে পালালে? মানুষ যাবে কোথায়?

ভক্তের প্রণামে জীবাণু। দেবতাও বুঝি ভীত। বছরভর ঈশ্বর-আল্লা-গড; নিয়ে কত মারামারি। কত ঠেলাঠেলি; কত লাইন। কিন্তু চরম বিপদের দিনেই মন্দির-মসজিদ-চার্চ; সব বন্ধ। তবে, সব বন্ধ করে কেউ কিছু ভুল করেনি। জীবন বাঁচাতে এটাই করা উচিত। ভুল ওই বুলিতে; “তিনিই সব, তিনিই ত্রাতা, তিনিই শেষ ভরসা”। ত্রাতা আসলে মানুষই। মানুষকে বাঁচাবে মানুষই। মানুষের শেষ ভরসা শুধুই মানুষ; আর কেউ নয়। এরপরেও কি আমরা তা বুঝব?

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন