‘জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য’, অনুগামীদের দিয়ে তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শুভেন্দু, নতুন দল, বিজেপি না তৃণমূলকে সমঝে দেওয়া

1279
‘জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য', অনুগামীদের দিয়ে তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শুভেন্দু, নতুন দল, বিজেপি না তৃণমূলকে সমঝে দেওয়া
‘জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য', অনুগামীদের দিয়ে তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শুভেন্দু, নতুন দল, বিজেপি না তৃণমূলকে সমঝে দেওয়া

অনুগামীদের দিয়ে তৃণমূল থেকে; দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন দল, বিজেপি না তৃণমূলকে সমঝে দেওয়া? শুভেন্দু কি করতে চলেছেন; সেই নিয়ে এখন চলছে বাংলার রাজনীতি মহলে জোর আলোচনা। ঝাড়গ্রাম শহর ও গোটা জঙ্গলমহলে; শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টারে–ফ্লেক্সে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পোস্টার দিয়েছে, তৃণমূলের কেউ নয়; দিয়েছে ‘দাদার অনুগামীরা’‌। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীকে বড় বড় অক্ষরে পরিচিত করা হয়েছে; ‘জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য’ নামে। তা দেখে তৃণমূলের চক্ষু চড়কগাছ। তাহলে কী জঙ্গলমহলের দখল না পাওয়াতেই; দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে?‌ উঠছে প্রশ্ন। জঙ্গলমহলের রাস্তাঘাটের দখল নিয়েছে; শুভেন্দুর এই পোস্টার। এই পোস্টার ছড়িয়ে পড়া কী; দল পরিবর্তন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটা বার্তা দেওয়া?‌ এখন এইসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মমতার দেওয়া পুজোর অনুদান ৫০,০০০ টাকার চেক বাউন্স, টাকা পাচ্ছেন না পুজো উদ্যোক্তারা

ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা; ও পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা, ঘাটাল, খড়্গপুর শহর ও গ্রামীণ এলাকাতেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে; একই ধরনের ফ্লেক্স দিয়েছেন শুভেন্দু অনুগামীরা। রেলশহরের আইআইটি উড়ালপুল; গোলবাজার ভাণ্ডারীচকের পাশাপাশি গ্রামীণের মাদপুরে; তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতির বাড়ির এলাকাতেও; একই ধরনের বহু ফ্লেক্স পড়েছে। একই চিত্র ঘাটাল শহর-সহ দাসপুর, সোনাখালি, ক্ষীরপাই, চন্দ্রকোনার রাস্তার দু’ধারে।

শুভেন্দু ও তাঁর অনুগামীদের দলহীন জনসংযোগ; গত কয়েক মাস ধরেই চলছে। পুজোর আগে লালগড়ের নেতাই গ্রামে এসে; ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহহীনদের বাড়ির চাবি, দুঃস্থ মহিলাদের সেলাই মেশিন; দিয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু। তারপর পুজোর এমন শুভেচ্ছাবার্তায়; রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অস্বস্তি বেড়েছে শাসকদলের অন্দরেও। শুভেন্দু কি তৃণমূলে থাকবেন; না তাঁর অন্য কোনও ভাবনা রয়েছে; তৃণমূলের অন্দরেই এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ; শারদোৎসবের সরকারি ও দলীয় শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়া হত। এবার সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর ছবিই রয়েছে শুধু। সেখানে মমতার; নাম ছবি কিছুই নেই। জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্যের বয়ানে লেখা রয়েছে; শারদীয়া, লক্ষ্মীপুজো, দীপাবলি এবং ছটপুজো উপলক্ষ্যে জানাই শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। তলায় লেখা, জঙ্গলমহলের মুক্তিসূর্য জননেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অনুগামীরা ব্যাখ্যা করেছেন; আমাদের দাদা পরীক্ষিত জননেতা, জঙ্গলমহলবাসীর পরমাত্মীয়। তাই এই ধরনের শুভেচ্ছাবার্তা। তবে তাতে বিতর্ক থামছে না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন