জয়েন্ট এন্ট্রান্সে নেই বাংলা, আবেদনের আগেই আন্দোলনে তৃণমূল

166
জয়েন্ট এন্ট্রান্সে নেই বাংলা, আবেদনের আগেই আন্দোলনে তৃণমূল/The News বাংলা
জয়েন্ট এন্ট্রান্সে নেই বাংলা, আবেদনের আগেই আন্দোলনে তৃণমূল/The News বাংলা

জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় নেই বাংলা। আবেদনের আগেই কি আন্দোলনে তৃণমূল? উঠে এসেছে প্রশ্ন। ইংরেজির পাশাপাশি আছে হিন্দি; আবার আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে স্থান পেয়েছে গুজরাতি। কিন্তু বাংলা নেই। যে বাংলাকে কার্যত হাতের মুঠোয় আনতে; দিল্লী কলকাতা যাতায়াত করে হাঁপিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রের নেতারা; আর তার আঞ্চলিক ভাষাকেই অসম্মান! না বাঙালি মেনে নেয়নি এর আগে; মেনেও নেবে না। জোরকদমে চলছে প্রতিবাদ। রাজ্যের শাসকদলকে পাশে পেয়েই শুরু হয়েছে অবস্থান বিক্ষোভ। কিন্তু ভিত্তি কি এই বিক্ষোভের? কেবল লোক দেখানও; নাকি সত্যিই রাজ্য সরকার স্বীকৃতি দিতে চায় বাংলা ভাষাকে?

ন্যাশান্যাল টেস্টিং এজেন্সি তথ্য দেখিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে; জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বাংলা ভাষা রাখার জন্য কোনও আবেদনই করেনি তৃণমূল সরকার। গুজরাত সরকার সঠিক সময়ে আবেদন জানায়; আঞ্চলিক ভাষা গুজরাতিকে সর্বভারতীয় পরীক্ষায় স্থান দেওয়ার জন্য। তাই হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি এবার থেকে; জয়েন্ট এন্ট্রান্সে থাকবে গুজরাটি ভাষাও। তাহলে হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেল তৃণমূল সরকারের? কিন্তু কোনও সরকারী নেতাকেই; এই বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কিন্তু তাঁর দল বাংলা ভাষার ‘স্বীকৃতি’ ফেরাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় জয়েন্ট দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থী নেই, বিতর্ক বাড়ালেন দিলীপ

সর্বভারতীয় পরীক্ষায় আঞ্চলিক ভাষার স্থান নিয়ে লড়াই চলছে বহুদিন ধরে। ভারত বহু ভাষার দেশ। তাই সব ভাষাকেই সমান সম্মানের দাবি জানায়; রাজ্যের সরকারগুলো। কিন্তু চলতি বছরে কেবলমাত্র গুজরাতি ভাষাকেই সেই সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য বলেই কি তাহলে পাবে বিশেষ সুবিধা? জল্পনা উড়িয়ে ন্যাশান্যাল টেস্টিং এজেন্সি জানায়; গুজরাত ছাড়া কোন রাজ্যই নিজের মাতৃভাষার জন্য আবেদন জানায়নি সরকারের কাছে।

তাহলে কি মা মাটি মানুষের সরকার; আবেদনটাই করেনি কেন্দ্রের কাছে? অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলছেন কেন্দ্র নিজেদের কারসাজির মাধ্যমেই বাদ দিয়েছে বাংলা ভাষাকে। সবটাই ধোঁয়াশা। অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় শহরে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে কটক্ষ করে বলেন; “কেবলমাত্র কেন্দ্রে ফুল পাঠালেই রাজ্যের সমস্যার সমাধান হয় না”। তিনিই প্রথম ভাষা নিয়ে; কেন্দ্রের কাছে আবেদনের ব্যাপারে মুখ খোলেন। তিনিই জানান; তৃণমূল কোনও রকম আবেদনই করেনি বাংলা ভাষা নিয়ে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া; ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি লিখিত ডকুমেন্ট দেখিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে; গুজরাটের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র আবেদন করে ভাষা সংযুক্তির জন্য। মারাঠি ও উর্দুর জন্য আবেদন করে তাঁরা। কিন্তু পরে তারাও সেটা তুলে নেয়। ভারতের যে কোন রাজ্য; সংবিধান স্বীকৃত যেকোন ভাষাতেই; সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নেবার আবেদন করলে; তা গৃহীত হবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে ন্যাশান্যাল টেস্টিং এজেন্সি। তারপরেও কোনও রাজ্যই আবেদন করেনি।

কেবলমাত্র মোদী বিরোধিতা থেকেই গুজরাতের বিরুদ্ধে; বাংলার মানুষকে চালিত করছে রাজ্যসরকার। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে রাজ্য সরকারের উদাসীনতা নিয়েও। রাজ্য সরকার ভাষা বিষয়ক আবেদনের ব্যাপারে; সতর্ক ছিলেন কিনা তা নিয়েও মুখ খুলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্না মঞ্চ থেকে; কার কব্জিতে কত জোর আগামী দিনে তা বুঝতে ব্যস্ত সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে; যে বাংলা স্বাধীনতার পথ দেখায় তাকে এইভাবে বঞ্চনা কিছুতেই মেনে নেবেন না তাঁরা।

তাহলে কি কেন্দ্র আর রাজ্যের মধ্যে বার্তালাপের অভাব? আর তার জন্যই কী দাম দিতে হচ্ছে বাংলা ভাষাকে! উত্তর নেই কারোর কাছে। জনসাধারণকে এক প্রকার হাতের পুতুল বানিয়েছে রাজ্য সহ কেন্দ্র সরকার। মাতৃভাষার দাবীতে ৭০ দশকে; ভাষা আন্দোলনের কথা জানে সবাই। তাই বাঙালিরা যে ভাষার জন্য প্রাণপাত করতে পারে সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে প্রাণ দেবে তাঁরা? কেন্দ্র আর রাজ্য সরকারের অহংকারের লড়াইয়ে; নাকি নিজের ভাষার স্বীকৃতের দাবিতে! চোখে অন্ধকার দেখছে বাংলার ছাত্রসমাজ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন