কৃষকদের বাড়িতে জেপি নাড্ডা, পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে এল তৃণমূল

825
কৃষকদের বাড়িতে জেপি নাড্ডা, পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে এল তৃণমূল
কৃষকদের বাড়িতে জেপি নাড্ডা, পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে এল তৃণমূল

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! গত শনিবার বর্ধমানের কাটোয়ায় প্রচারে এসে; বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান’ কর্মসূচিতে; পূর্ব বর্ধমানের মুস্থুলি গ্রামের বাসিন্দা নিতাই মণ্ডল; পাঁচকড়ি মণ্ডল; সনৎ মণ্ডল; উত্তম মণ্ডল এবং মথুরা মণ্ডল নামে পাঁচ কৃষকের বাড়ি বাড়ি ঘুরে শস্য সংগ্রহ করেন। নাড্ডার সফরের ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই; ওই কৃষক পরিবারগুলির ভোলবদলে; এলাকায় রীতিমত চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি; ওই পাঁচ কৃষক তাঁদের দলেরই সদস্য। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে, বিজেপি তাঁদের কর্মসূচিতে; সামিল করেছিল। অন্যদিকে বিজেপির দাবি; শাসক দল ভয় দেখিয়ে; ওই কৃষকদের তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

বাংলা সফরে এসে; কৃষকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে; মাস্থুলি গ্রামে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল সংগ্রহ করার কর্মসূচি করেন জে পি নাড্ডা। সেই কর্মসূচীর সময়; পরিবার গুলির মধ্যে উৎসাহ ছিল দেখার মত। নাড্ডাকে নলেন গুড়ের মিষ্টিও খাইয়ে, তাঁরা জানিয়েছিলেন; “বাড়িতে ভগবান এলে যেমন আনন্দ হয়। ঠিক তেমনই আনন্দ হচ্ছে”। বিজেপি নেতা জে পি নাড্ডাকে শঙ্খ; উলুধ্বনি দিয়ে বরণ করে নিয়ে; তাঁর ঝুলিতে তুলে দেন শস্য; পেল্লায় সাইজের কুমড়ো; চাল ও সবজি।

আরও পড়ুনঃ “চাল, গরু, কয়লা, ত্রিপল, আমফানের টাকা চোর, বাংলার সংস্কৃতি শিখতে হবে মমতার কাছে”, প্রশ্ন জেপি নাড্ডার

২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই; ওই ৫ কৃষকের পরিবারের সদস্যদের দেখা গেল; কাটোয়া শহরের স্টেশন রোডে; তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে। এই ঘটনাতে চরম অস্বস্থিতে পরেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির বর্ধমান জেলা কমিটির সহ সভাপতি অনিল দত্ত জানান; “এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের কালচার। আমাদের নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গের যেখানেই কোনও পরিবারের বাড়িতে গিয়ে; আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন বিজেপি নেতারা; পরবর্তীকালে সেই পরিবারকে ভয় দেখিয়ে; তাঁদের দলে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে বিজেপিকে দমানো যাবে না”।

অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন; “‌মুস্থুলি গ্রামের যেসব কৃষকদের বাড়িতে; বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন; ওই সমস্ত পরিবারের সদস্যরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই বরাবর ছিলেন; আছেন; আগামী দিনেও থাকবেন। বাংলার কৃষক পরিবারের বৈশিষ্ট্য হল সৌজন্যতা দেখানো। কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে; কোনও গৃহস্থবাড়ির মহিলারা ফেরান না। তাই জেপি নাড্ডাকে তাঁরা ভিক্ষা দিয়েছেন মাত্র”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন