ঝড়ের আগেই নিয়ম মেনে, সুন্দরবনের মানুষের পাশে কান্তি গাঙ্গুলি, নিখোঁজ বিধায়ক

1745
ঝড়ের আগেই নিয়ম মেনে, সুন্দরবনের মানুষের পাশে কান্তি গাঙ্গুলি, নিখোঁজ বিধায়ক
ঝড়ের আগেই নিয়ম মেনে, সুন্দরবনের মানুষের পাশে কান্তি গাঙ্গুলি, নিখোঁজ বিধায়ক

আয়লা, বুলবুল, ফণী। ঘূর্ণিঝড়ের নাম যাই হোক না কেন; ঝড়ের আগেই নিয়ম মেনে সুন্দরবনের মানুষের কাছে পৌঁছে যান; ৭৬ বছরের এই মানুষটি। বয়স ৭৬ এর কাছাকাছি; কিন্তু এখনও তিনি তরুণ তুর্কি। ঝড়ের মুখে মানুষের পাশে; তাঁকে দেখতে পাওয়াটা; এত বছর পর এখন খুব স্বাভাবিক। তিনি কান্তি গাঙ্গুলি। এবারও ব্যতিক্রম হল না। আমফান আসার আগেই; মানুষের পাশে হাজির সবার প্রিয় সেই কান্তিদা। তবে, এটা যেমন স্বাভাবিক, আবার এটাও স্বাভাবিক যে; বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো কান্তিদাকে, ভোটের সময় মনেই থাকে না এখানকার মানুষদের। ভোট তখন পরে; কখনও এলাকায় দেখা না পাওয়া কোন সুন্দরী নায়িকার নামের পাশে।

আমফান ঢুকবে বুধবার সন্ধ্যায়, একদিন আগেই ভয়াবহতা জানান দিচ্ছে

সুন্দরবনে দুর্গতদের পাশে ফের; ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন হলেন কান্তি গাঙ্গুলি। অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফানের-এর কারণে; সুন্দরবন এলাকায় চরম সতর্কতা জারি হয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জ, ঝড়খালি, সন্দেশখালি এলাকায়; ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে। আয়লা ও ফণীর চেয়েও; এবার আমফান নাকি আরও শক্তিশালী। রায়দিঘির প্রত‍্যন্ত গোরাগাছি এলাকা থেকে সুন্দরবনের অজানা প্রান্ত; মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে খোঁজখবর নিচ্ছেন; রায়দিঘির প্রাক্তন বিধায়ক কান্তি গাঙ্গুলি।

শ্রমিকদের নিজের বাড়ি পাঠাতে, রাজ্যের অনুমতির দরকার নেই, জানাল মোদী সরকার

ঝড়ের আগেই নিয়ম মেনে, সুন্দরবনের মানুষের পাশে কান্তি গাঙ্গুলি, নিখোঁজ বিধায়ক

প্রতিবারের মত, সুন্দরবন এলাকার মানুষের পাশে থেকে; ফের চাল-ডাল এবং ত্রাণের অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে; হাজির হয়ে গেছেন সবার প্রিয় কান্তিদা। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন; বাম জমানার প্রাক্তন মন্ত্রী। ত্রাণের জন্য দু-হাজার ত্রিপল; একটা নৌকা, ১০০ কুইন্টাল চাল; তিন লক্ষ টাকার ওষুধের বন্দোবস্ত করেছেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়।

বড় বিপদের মুখে বাংলা, আমফান এখন ভয়ঙ্কর সুপার সাইক্লোন

“আমাকে রাজনৈতিক ঊর্ধ্বে উঠে; যে কোনও পরিস্থিতি তে পাশে পাবেন”; লিখে মুখ‍্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। কান্তি গাঙ্গুলির স্ত্রীর নামে এলাকায় ‘জবাবিরাজ জ্ঞানায়ন পাঠশালা’-তে; মানুষের থাকার সবরকম ব‍্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন; ঠাঁই নিয়েছেন ওখানে। রাখা হয়েছে মেডিকেল ক‍্যাম্প। রাতের মেনু ডাল, ভাত, সবজি। স্কুলেই রয়েছেন তিনি নিজেও। কান্তিবাবুর বক্তব্য; “আমি পাকা বাড়িতে থাকব; আর ওরা কোথায় যাবে”। বিনামূল্যে ওষুধ, ডাক্তার সব নিয়ে রাতে পাহারায় থাকবেন কান্তি।

বুলবুল ফণীর পর আসছে আমফান, রাজ্যে নামল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী

হাস্যকর বিষয় এটাই; রায়দিঘির বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের দেবশ্রী রায়। প্রকৃতির প্রলয় পর্বের কোন সময়েই; নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেবশ্রী রায় কে কেউ দেখতে পান না কখনও। অথচ, ২০১১ এবং ২০১৬, এই দুটি বিধানসভা নির্বাচনে রায়দিঘিতে; তৃণমূল কংগ্রেসের দেবশ্রী রায়; হারিয়ে দিয়েছেন সিপিএম প্রার্থী কান্তি গাঙ্গুলিকে। না, আয়লা ফণী বা আমফান; যাই হোক না কেন; মানুষ দেখা পায় না ভোটে জেতা বিধায়কের।

নাইট কারফিউ নয় বাংলায়, কেন্দ্রের নির্দেশ মানা হবে না

কিন্তু ‘হেরো নেতা’ প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা; কান্তি গাঙ্গুলি কিন্তু শরীর, বয়েস-সমস্ত কিছুর বাধাকে অতিক্রম করে; আজও দুর্গত মানুষদের সেবায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে; সবকিছু তদারকি করছেন। শুধু তদারকি নয়, ‘আমফান’ আক্রান্ত মানুষদের সাময়িক পুনর্বাসনের জন্য; প্রতিবারের মত এবারেও নিজের বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছেন।

কেন্দ্র লকডাউন চালিয়ে দিয়েছে, মানার জন্য মুসলিমদের ধন্যবাদ দিলেন মমতা

সাধারণ মানুষের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা, বিপদ; এগুলোকে বাদ দিয়ে কান্তিবাবুর মতো মানুষজন; কখনও তাঁদের রাজনীতির গতি প্রকৃতির অভিমুখ সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র ভাবেন না। মানুষই শেষ কথা; এই আপ্তবাক্য জীবনের ধ্যান-জ্ঞান বলে মনে করেন বলেই; কান্তিবাবুর মত মানুষেরা মিটিং-মিছিল-লড়াই-আইনসভার ভেতরে-বাইরে; এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেন সাধারণ মানুষের দুঃখ যন্ত্রণাকে।

তবে, আবার ভোট আসবে। মানুষ ভুলে যাবে; ঝড়ের বিপদে তাঁদের পাশে কে ছিল! আবার কান্তি গাঙ্গুলিকে হারিয়ে দেবে; সেজেগুজে চোখে কালো চশমা পরে আসা; কোন সুন্দরী নায়িকা। আসলে আমরা কবে বুঝবো; কাকে ভোট দেওয়া উচিত, আর কাকে নয়? কালো চশমা পরে আসেন কেউ; কিন্তু আসলে তা আমরাই পরে নি। কারণ আমরা যে ‘আত্মঘাতী বাঙালি’। তাই তো কাজের মানুষকে কাজের সুযোগ না দিয়ে; ভোটে জেতাই পরিযায়ী পাখিদের; যাদের দেখা যায় শুধুই ভোট এলে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন