কাশ্মীর ও বিক্রম কতদিন দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখতে পারবে, দেশে চাকরি যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের

778
কাশ্মীর ও বিক্রম কতদিন দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখতে পারবে, দেশে চাকরি যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের/The News বাংলা
কাশ্মীর ও বিক্রম কতদিন দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখতে পারবে, দেশে চাকরি যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের/The News বাংলা

মানব গুহঃ সোশ্যাল মিডিয়া, নিউজ পোর্টাল, টিভি বা খবরের কাগজ; যাই খোলা হোক না কেন; খবর সেই দুটো, জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ তুলে দেওয়ায় সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। আর সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে চলছে চন্দ্রযান ও বিক্রমকে নিয়ে। কিন্তু কাশ্মীর ও বিক্রম আর কতদিন মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখতে পারবে? ২২ বছরে রেকর্ড কমল গাড়ি বিক্রি; দেশে চাকরি যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। পেটে ভাত না জুটলে; কাশ্মীর বিপ্লব আর বিক্রমের সাফল্যের খবর; আপনাকে খাওয়াবে কি?

ভারতে গাড়ি শিল্পে মন্দা অব্যাহত। টানা দশ মাস দেশের গাড়ি বিক্রি নিম্নমুখী। অগাস্ট মাসে গত দুই দশকে; মাসিক গাড়ি বিক্রিতে রেকর্ড পতন হয়েছে। এর আগে ২৯৯৭-৯৮ সালে; এই পরিমান গাড়ি বিক্রি কমেছিল ভারতে। গাড়ি বিক্রিতে দুই দশকের মধ্যে; রেকর্ড পতন দেখছে দেশ।

আরও পড়ুনঃ সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে নামার স্বপ্ন, মন্দির যাওয়া ও কান্না নিয়েই ব্যস্ত বাম

সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী; যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রিই সবচেয়ে কমছে। ২০১৮ সালের অগস্টে যত সংখ্যক যাত্রিবাহী গাড়ি বিক্রি হয়েছিল; তার থেকে ৩১.৫৭ শতাংশ কম বিক্রি হয়েছে ২০১৯ সালের অগস্টে। ২০১৮-র অগস্টে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৯৮টি; যাত্রিবাহী গাড়ি বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের অগস্টে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫২৪টি বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায়; প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে বিক্রি। দেশে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি কমেছে ৪১.০৯ শতাংশ।

শুধুমাত্র চার চাকা নয়; দুই চাকার বাজারেও মন্দা অব্যাহত। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে; গোটা দেশে দুই চাকা গাড়ি বিক্রি কমেছে ২২.২৪ শতাংশ। ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে দেশে মোট ১৯,৪৭,৩০৪ টি স্কুটার, মোটরসাইকেল ও মোপেড বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ১৫,১৪,১৯৬ টি। এর মধ্যে স্কুটার ও মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে; ২২ শতাংশ আর মোপেড বিক্রি কমেছে ২১ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে, মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা

একই সাথে অগাস্ট মাসে বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রিও কমেছে। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে গোটা দেশে; মাঝারি ও ভারি বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি কমেছে ৫৪.৩ শতাংশ। গত মাসে গোটা দেশে মোট ১৫,৫৭৩ টি মাঝারি ও ভারি বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে। ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে এই সংখ্যাটি ছিল ৩৪,০৭৩ টি। হালকা বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি কমেছে ২৮.২১ শতাংশ।

বিক্রি কমার জেরে ইতিমধ্যেই উৎপাদন ছাঁটাই করছে সংস্থাগুলি। ফলে তাদের সহযোগী যন্ত্রাংশ শিল্পের বরাতও কমছে। ব্যবসা কমায় প্রায় তিনশো ডিলার ঝাঁপ বন্ধ করেছেন। সব মিলিয়ে এই শিল্পে; ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কর্মী কাজ খুইয়েছেন। অর্থনৈতিক মহলের হুঁশিয়ারি; এখনই পরিস্থিতি না বদলালে আরও অনেক চাকরি যাবে।

আরও পড়ুনঃ মন্দিরে সুভাষ ধর্মে সীতারাম সিপিএম, ইসরোর বিজ্ঞানীকে সমালোচনা করে দ্বিমুখী নীতিতেই শেষ বাম

এই অবস্থায় উৎপাদন কমাতে গাড়ি সংস্থাগুলির; কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখার ঘটনাও অব্যাহত। এর আগে মারুতির মতো বেশ কিছু সংস্থা হেঁটেছে সেই পথে। সোমবার অশোক লেল্যান্ডও জানিয়েছে; এই মাসে বিভিন্ন কারখানায় বেশ কিছুদিন করে কাজ হবে না। এর আওতায় রয়েছে এনোর (১৬ দিন); হোসুর (৫ দিন); অলওয়ার (১০ দিন); ভাণ্ডারা (১০ দিন) ও পন্থনগরের (১৮ দিন) কারখানাগুলি।

এর আগে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন জিএসটি ছাঁটার ব্যাপারে; তিনি কিছু বলতে পারবেন না। সিদ্ধান্ত নেবে জিএসটি পরিষদ। সম্প্রতি সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী; শিল্পের সঙ্কট স্বীকার করে কথা দিয়েছেন; কর কমানো নিয়ে কথা বলবেন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের পরামর্শ ছিল; এই আর্জি সমস্ত রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের দরজাতেও পৌঁছে দেওয়া হোক।

কারণ, তাঁরাই ওই পরিষদের সদস্য। আর ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেছেন; গাড়ি শিল্পের সমস্যা ছোটখাট। সরকারের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে না তেমন। এই অবস্থায় অনেকেরই প্রশ্ন; এই কি তা হলে ‘ছোটখাট’ সমস্যা সামাল দেওয়ার নমুনা? একের পর এক নেতা মন্ত্রীরা বার্তা দেওয়ার পরেও! তাদের জিজ্ঞাসা, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া গাড়ি শিল্পের জন্য; আদতে কবে আসবে চাহিদা বাড়ানোর দাওয়াই? যার হাত ধরে ক্রেতা ফের শো-রুমমুখো হবেন? চাকরি বাঁচবে লক্ষ লক্ষ মানুষের।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন