করোনায় এও দেখার ছিল, মায়ের দেহ নিল না ছেলে

2429
করোনায় এও দেখার ছিল, মায়ের দেহ নিল না ছেলে
করোনায় এও দেখার ছিল, মায়ের দেহ নিল না ছেলে

করোনার জেরে এও দেখার ছিল; মায়ের দেহ নিল না ছেলে। ঘটনা কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জানা গেছে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে; উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরের বাসিন্দা; ৬২ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালের নির্দিষ্ট সুপার স্পেশালিটি ব্লকের; আইসোলেশন ওয়ার্ডে এই বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও এই বৃদ্ধার লালা রস পরীক্ষা হয়নি; বলেই জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। কিন্তু তার আগেই ঐ বৃদ্ধার মৃত্যু হয়; আর তারপরেই দেহ নিতে অস্বীকার করে তাঁর ছেলে।

করোনা আতঙ্ক এতটাই বেড়েছে যে; মৃত্যুর পর প্রিয়জনের দেহ নিতেও অস্বীকার করছে পরিবার। সোমবার রাত আটটায় মৃত্যু হওয়ার পর; বরানগরের ঐ বৃদ্ধার দেহ নিতে অস্বীকার করে; তাঁর ছেলে ও পরিবার। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান; “মৃতা ওই মহিলা করোনা আক্রান্ত ছিলেন; তাই দেহ নিয়ে পোড়ান যাবে না”।

কিডনির সমস্যা নিয়ে এই বৃদ্ধাকে; প্রথমে ভিআইপি রোডে চিনার পার্ক সংলগ্ন চার্ণক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বেসরকারি হাসপাতালে; ডায়ালিসিস চলাকালীন বেশ কয়েকজনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে। তারপর রবিবার থেকে গোটা হাসপাতাল; ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ওই বৃদ্ধাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়; প্রথমে জরুরী বিভাগ এবং তারপরে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে তার করোনার উপসর্গ দেখা দিলে; তাঁকে সুপার স্পেশালিটি ব্লকের; আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার সকালে পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই পরে; হাসপাতাল কর্মীরা বৃদ্ধার দেহ মর্গে নিয়ে গেলে; গোটা মেডিকেল কলেজ জুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী; রোগীর আত্মীয়, চিকিৎসক, নার্স; ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মেডিকেল কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক; এক চিকিৎসক জানিয়েছেন; “এই বৃদ্ধার লালা রস পরীক্ষার জন্য; চার্নক হাসপাতাল থেকেই নাইসেডে পাঠানো হয়েছিল। সেই রিপোর্ট কি এসেছে; তা জানতে পারলেই সব পরিষ্কার হবে”। তবে রিপোর্ট যদি পজিটিভ হয়; তবে বহু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে; এমনটাই আশঙ্কা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন