আহারে বাংলা আর গোলাপি শহরে চাপা পরেছে পার্শ্ব শিক্ষকদের অসুস্থতা ও মৃত্যু

556
আহারে বাংলা আর গোলাপি শহরে চাপা পরেছে পার্শ্ব শিক্ষকদের অসুস্থতা ও মৃত্যু/The News বাংলা
আহারে বাংলা আর গোলাপি শহরে চাপা পরেছে পার্শ্ব শিক্ষকদের অসুস্থতা ও মৃত্যু/The News বাংলা

আহারে বাংলা আর গোলাপি শহরে চাপা পরেছে; পার্শ্ব শিক্ষকদের অসুস্থতা ও মৃত্যু। শহরের একদিকে রমরমিয়ে চলছে; ভারত বাংলাদেশের ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচ। গোলাপি রঙে সেজে উঠেছে; সারা কলকাতা শহর। হাওড়া স্টেশন; শহীদ মিনার; থেকে শুরু করে শহরের সবথেকে বড় বিল্ডিং ৪২ ঝকঝক করছে গোলাপি রঙের ছটায়। আর একদিকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় কব্জি ডুবিয়ে; ভুড়িভোজের উৎসব ‘আহারে বাংলা’ চলছে। তারই মাঝে, লাইমলাইট ও মিডিয়ার ফোকাস থেকে বহুদূরে অনশনে বসে আছে; বাংলার স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকরা।

অনশন সপ্তম দিনে পড়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন আন্দোলনরত পার্শ্বশিক্ষিকা রেবতী রাউত। তাঁর মৃত্যু ঘিরেও উঠেছে বিতর্ক। নবান্নের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অনশনের জন্য নয়; রেবতীর মৃত্যু হয়েছে পথ দুর্ঘটনায়।

আদালত থেকে ছাড়পত্র নিয়ে; ধরনায় বসেছিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। পাঁচদিন পর সেই ধর্না; অনশন আন্দোলনে গিয়ে দাঁড়ায়। কয়েকহাজার পার্শ্বশিক্ষক বেতনবৃদ্ধির দাবিতে; বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন শুরু করেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে; কোনওরকম সাহায্য পাইনি তারা; এমনটাই অভিযোগ। উপরন্তু, বহু কষ্টে ঠিক হওয়া বৈঠকও; বাতিল করে দেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

অন্যদিকে অনশন মঞ্চের উল্টো দিকেই; রাজ্য সরকারের খাদ্য উৎসব ‘আহারে বাংলা’ শুরু হয়েছে। মূলত রাজ্য সরকারের কাছে অর্থ নেই; এই দাবিতেই সরকার বেতনবৃদ্ধিতে সায় দেয়নি। তাহলে এত বড় একটা মেলার আয়োজন; কীভাবে করল মমতা সরকার? প্রশ্ন তুলেছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলের নেতারাও।

কিন্তু পার্শ্ব শিক্ষকদের দাবী নিয়ে করা অনশন নিয়ে মুখ খুলছে না কেউই। শহরের এক ফুটপাথে রাতের পর রাত কাটাচ্ছে সমাজ তৈরির কারিগরেরা। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বৈঠকের আশ্বাস দিয়েই দায় সেরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী; ব্যাস্ত ভোটের আগে মানুষের আরও কাছে পৌঁছতে। জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে আধিকারিকদের পরামর্শ দিচ্ছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

অথচ; শিক্ষামন্ত্রীর দফতরের সামনে অনশনরত মানুষ গুলোর দিকে তাকানোর সময় নেই রাজ্যে নেতৃত্বের।পার্শ্বশিক্ষকরা জানিয়েছেন; শুধু বেতন বৃদ্ধিই তাঁদের আন্দোলনের মূল বিষয় নয়। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে একবার আলোচনায় বসলে; বেতনবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি না পেলেও বাকি অন্য বিষয়ে সুরাহা হত। কিন্তু পার্শ্ব শিক্ষকদের দেবার মোট সময় এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নেই। তিনি আরও অনেক বেশি ব্যাস্ত ইডেনে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ উদ্বোধনে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন