মোদী মমতার দ্বিচারিতা, উৎসবে বাড়বে সংক্রমণ, রাজনৈতিক সভা মিছিলে বিধিনিষেধ নেই

351
নেতা নেত্রীর দ্বিচারিতা, উৎসবে বাড়বে সংক্রমণ, রাজনৈতিক সভা মিছিলে বিধিনিষেধ নেই
নেতা নেত্রীর দ্বিচারিতা, উৎসবে বাড়বে সংক্রমণ, রাজনৈতিক সভা মিছিলে বিধিনিষেধ নেই

মানব গুহ, কলকাতাঃ দুর্গাপুজো সহ অন্যান্য উৎসবে মাতলে বাড়বে সংক্রমণ; রাজনৈতিক সভা মিছিলে ছাড় দিচ্ছে করোনা। কি অবাক হচ্ছেন? অবাক হবার কিছুই তো নেই! উৎসবের মরসুমে করোনা বাড়বে; বারবার সতর্ক করছে কেন্দ্র ও রাজ্য। কিন্তু তারাই আবার সোশ্যাল ডিসট্যান্স, করোনা নিয়মবিধি শিকেয় তুলে; রাজনৈতিক সভা ও মিছিল করছে। কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্য দেখেছে; কয়েকহাজার মানুষ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার মিছিল; আর তারপর কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে, বিজেপির নবান্ন অভিযান। এদিকে, ফের নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র সরকার জানিয়ে দিল; ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সভা করায় কোন নিষেধ থাকছে না। মোদী মমতার দ্বিচারিতা দেখে; হাসছে গোটা দেশ।

নেতা নেত্রীর দ্বিচারিতা, উৎসবে মাতলে বাড়বে সংক্রমণ; এদিকে রাজনৈতিক সভা মিছিলে বিধিনিষেধ নেই। দুদিন আগেই, হাথরস কাণ্ডে প্রতিবাদ জানাতে; কয়েকহাজার মানুষ নিয়ে; সোশ্যাল ডিসট্যান্স, করোনা নিয়মবিধি শিকেয় তুলে; কলকাতায় মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারও, একই ভাবে কয়েকহাজার মানুষ নিয়ে; মিছিল করে তৃণমূল। অথচ মুখ্যমন্ত্রী নাকি রাজ্যের মানুষের জন্য চিন্তিত! এদিকে তাঁর দল ও তিনি নিজেই; প্রকাশ্যে ভাঙছেন নিজেরই তৈরি করা নিয়ম।

আরও পড়ুনঃ বছর ঘুরে গেলেও, আজও বিচার পায় নি বাংলার ‘দলিত মেয়ে’ মণিকা মাহাতো

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর; কেন্দ্র সরকারের হালও তাই। বৃহস্পতিবার কেন্দ্র স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা করোনা নির্দেশিকা, হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে; নবান্ন অভিযান করল বিজেপি। হাজার হাজার মানুষ; না ছিল কারোর মুখে মাস্ক; আর ‘সোশ্যাল ডিসট্যান্স’ কথাটা কেউ শুনেছেন বলে তো; একবারও মনেই হয় নি। কেন্দ্রের গাইডলাইন মানবার; নুন্যতম প্রয়োজন বোধ করে নি বাংলার বিজেপি নেতা নেত্রী ও কর্মী সমর্থকরা।

উৎসবের মরসুমে ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায়; এক দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে; জন আন্দোলনের ডাক দিলেন। অন্যদিকে, নির্দেশিকা জারি করে সেইদিনই কেন্দ্র সরকার জানিয়ে দিল; ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সভা করায়; কোন নিষেধ থাকছে না। একশো জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না; বলে অতীতে যে নির্দেশ জারি হয়েছিল; তা-ও তুলে নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে চিঠি লিখে, উৎসবের মরসুমে সাবধান থাকতে ও বিধিনিষেধ মানতে; নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সেই নির্দেশ মানতে; রাজ্যবাসীকে বলেছেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে মুখ না খোলার হুমকি, হাথরস কাণ্ডের আসল ভিলেন জেলাশাসক প্রবীণ কুমার

করোনা সংক্রমণ রুখতে যখন এত তোড়জোড়, উৎসবে বিধিনিষেধ; তখন ভোটের জনসভায় ছাড় দেওয়া নিয়ে; প্রশ্ন তুলেছেন অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। করোনা চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত থাকা মানুষরা ও আমজনতা; নেতা নেত্রীদের এই দ্বিচারিতা দেখে হতভম্ব। উৎসবে মানুষকে সতর্ক করে, বিধিনিষেধ চাপিয়ে; হাজার হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল। কি করে সম্ভব; এই ধরণের দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত! ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা।

ভারতের ইতিহাসে এই ধরণের দ্বিচারিতা; আগে দেখা যায় নি। করোনা সংক্রমণ রুখতে যারা বানাচ্ছেন নিয়ম; নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আবার সেই নিয়মও ভাঙছেন তাঁরাই! নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে; করোনা পরিস্থিতি সামলাবার এই নির্লজ্জ দ্বিচারিতার জন্য; মনে রাখবে দেশ ও রাজ্যের মানুষ। বিশেষ করে তাঁরা; যারা হারিয়েছেন এবং হারাবেন, নিজের প্রিয়জনদের।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন