বামেদের দ্বিচারিতা, রামমন্দিরের বিরোধীতা, ক্যাডার বানাতে কোটি টাকার স্কুল

2259
বামেদের দ্বিচারিতা, রামমন্দিরের বিরোধীতা, ক্যাডার বানাতে কোটি টাকার স্কুল/The News বাংলা
বামেদের দ্বিচারিতা, রামমন্দিরের বিরোধীতা, ক্যাডার বানাতে কোটি টাকার স্কুল/The News বাংলা

“বাম নেতাদের বৌদ্ধিক দ্বিচারিতা”। রামমন্দিরের বদলে; কেন হাসপাতাল হবে না? রামমন্দিরের বদলে; কেন স্কুল হবে না? প্রশ্ন তুলেছে বামেরা। যে রাম মন্দির তৈরি হচ্ছে, সাধারণ মানুষের টাকায়। বামেরা জনগণের টাকায়; নিজের পার্টির কর্মী সমর্থকদের টাকায় বানিয়েছে স্কুল! তবে সেটা সাধারণ স্কুল নয়। পার্টি ক্যাডার তৈরির স্কুল। এবার বামেদের দ্বিচারিতা নিয়েই উঠল প্রশ্ন। রামমন্দিরের বিরোধীতা; ক্যাডার বানাতে কোটি টাকার স্কুল দিল্লিতে। কেণ এই দ্বিচারিতা?

আরও পড়ুনঃ সাধারণ মানুষ পায় না মৃতদেহ, করোনায় মৃত বামনেতাকে অরক্ষিত অবস্থায় মালা প্রাক্তণ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

গত বছরের শেষের দিকে দিল্লীতে; এক সুবিশাল পার্টি অফিস কাম স্কুল বানিয়েছে সিপিএম। ১০ কোটি টাকার; নিজেদের দলীয় কর্মীদেরই আর্থিক আনুকুল্যে! স্বয়ং প্রকাশ কারাত জানিয়েছিলেন; মাত্র দুদিনে তারা কেরল থেকে ৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। অনেকেই তারপর সমালোচনা করেছিলেন; “সর্বহারাদের আর্থিক সামর্থ্য; আজ বেশ নজর কাড়ার মতই বটে!” সিপিএমের সেই স্কুলের নাম; “সেন্ট্রাল পার্টি স্কুল”। স্কুল বিল্ডিং এর নাম “সুরজিৎ ভবন”।

সেন্ট্রাল পার্টি স্কুল, সিপিএমের ক্যাডার তৈরির স্কুল

যাই হোক স্কুল তো হল। কি আছে স্কুল বিল্ডিং এ ? ২০০ ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা; ৪৫০ সিটের অডিটোরিয়াম হল, ইত্যাদি। দারুন স্কুল ! নিজেদের ছেলে মেয়েকে; এই স্কুলে ভর্তি করবেন নাকি !? কি উদ্দেশ্যে ছাত্রদের কি পড়ানো হবে? না, এখানে ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা নিদেন পক্ষে; ভোকেশনাল ট্রেনিং এর কোন ব্যবস্থা নেই। এখানে দেওয়া হবে; শুধুমাত্র ক্যাডার তৈরির ট্রেনিং! এই স্কুল উদ্বোধন করে, CPM পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি সীতারাম ইয়েচুরি বলেছিলেন; “Regular schooling of cadres is necessary to deepen with connection with the people”।

আরও পড়ুনঃ কমরেড শ্যামল চক্রবর্তী, শ্রমিক আন্দোলনের একটা অধ্যায়

কোন কোন বাক্যবাগীশ বামপন্থী হয়ত বলে বসবেন; এত বড় একটা সর্বহারাদের পার্টি, তার একটা ভালো বড় মাপের কেন্দ্রীয় অফিস; দিল্লীতে তৈরি হতেই পারে। তাদের স্মরন করিয়ে দিয়ে বলতে হয়; অনেক আগে থেকেই তো কেন্দ্রীয় পার্টি অফিস আছেই দিল্লীতে। যার নাম “গোপালন ভবন”; যা দিল্লীর এই ঠিকানায় অবস্থিতঃ K Gopalan Bhavan, 27-29, Bhai Vir Singh Marg, Sector 2, Gole Market, New Delhi, Delhi 110001″।

গোপালন ভবন, দিল্লি

গত দুদিন আগে রামমন্দিরের ভুমি পুজনের অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিতে; বামপন্থীরা হাত পা ছুড়ে, মাথা ঝাঁকিয়ে; এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন। মন্দির নির্মান হবে, সারা বিশ্বের রাম ভক্তদের দান-অনুদানে; কোন সরকারি অনুদান ব্যতীত। বামেদের কন্ঠে শ্লোগান; “মন্দির চাই না ভাত দে”। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন যে; দেশে এত বেকারত্ব, যে দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাসপাতাল নেই; নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; সেই দেশে এই ব্যয় বহুল মন্দির নির্মানের উদ্যোগ কেন ?

বামপন্থী-দের কাছে আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন। আপনারা তো সর্বহারার পার্টি। দিল্লীতে গতবছর যে বিশাল পার্টি অফিস কাম স্কুল উদ্বোধন করেছিলেন; তখন কি এই বোধ, এই চেতনা লুপ্ত হয়ে গেছিল ? একবারের জন্যে ভাবেন নি; এই বিশাল ব্যয়বহুল পার্টি অফিস কাম ক্যাডার বানানোর স্কুল; সর্বহারাদের কোন হোমে যজ্ঞে লাগবে ? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই পার্টি অফিস; কাম ক্যাডার তৈরির কারখানার কি উপযোগীতা ?

আরও পড়ুনঃ নভেল করোনা বিপদের মাঝেই, চিন থেকে ছড়াচ্ছে নভেল বুনিয়া ভাইরাস

“রাম মন্দির চাই না হাসপাতাল দে; স্কুল দে”; কথাটা বলার আগে “পার্টি অফিস চাই না হাসপাতাল দে”; বা “ক্যাডার তৈরির স্কুল চাইনা; সবার জন্য স্কুল দে”; শ্লোগানগুলি আপনাদের কন্ঠে উচ্চারিত হলে; আপনাদের সমাজ চেতনার বৃত্তটা পূর্ণ হত। বাম নেতা প্রকাশ কারাতের গর্ব করে বলা কথাটা; লেখার শুরুতেই বলেছি, এবার সেটাকে এখানে কোট করছি; “We have made this building through public fund of 10 lakh party cadres. We had collected bucket money in Kerala 9 crore in only two days”।

রামমন্দির নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে; হতভাগ্য সর্বহারারা এবার গালে হাত দিয়ে ভাবুন; আপনাদের মধ্য থেকে সংগৃহীত অর্থের; সঠিক ব্যয় না অপব্যয় করছেন, সর্বহারা দলের নেতারা ! লিখলেন কলকাতা হাইকোর্টের সম্মানীয় আইনজীবী গোপাল চন্দ্র মণ্ডল। (লেখা ও তথ্য লেখকের নিজস্ব)

ঠকবেন না, পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র আসল করোনা প্রোডাক্ট বিক্রেতা
Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন