হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে, মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা

2929
হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে, মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা/The News বাংলা
হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে, মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা/The News বাংলা

মানব গুহঃ হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে; মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা। আর এই নিয়েই এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। বিজ্ঞানীরা কেন মন্দিরে যাবেন? বিজ্ঞানীরা কেন ধর্মস্থানে প্রার্থনা করতে যাবেন? ল্যাণ্ডার বিক্রম এর সঙ্গে; ইসরোর বিজ্ঞানীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ও ফের ছবি দেখতে পাওয়ার; মধ্যেই দেশ জুড়ে আরও একটি বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের কি মন্দিরে যাওয়া উচিত? কেন কুসংস্কারের রাস্তায় বিজ্ঞানীরা? প্রশ্ন বামেদের। আর এরপর তাঁদের নেতা নেত্রীদের ছবি দেখার পরেই; পাল্টা প্রশ্নের মুখে সেই বামেরাই।

শ্রীহরিকোটায় গবেষণা কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাডের কাছেই; একটি ছোট মন্দির আছে৷ সেখানে গিয়ে ইসরো প্রধান কে শিবন পুজো দিয়েছেন; চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের আগে৷ অভিযানের সাফল্য চেয়ে ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবন; দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত মন্দির তিরুপতি ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরেও পুজো দিয়েছিলেন। চন্দ্রযান ২-এর একটি প্রতিরূপও; নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে। আর সেই নিয়েই শুরু বামেদের সমালোচনা ও বিতর্ক। বিজ্ঞানীরা কেন মন্দিরে যাবেন? এটাই বামেদের মূল প্রশ্ন ছিল।

আরও পড়ুনঃ কালাম কেন মসজিদে, শিভন কেন মন্দিরে, বিজ্ঞানীদের ধর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন

কিন্তু তারপর বাম সমর্থক ও লেখিকা মন্দাক্রান্তা সেনের ছবি; সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দেখা যাচ্ছে তিনি দু-দুটি আংটি পরে রয়েছেন! সাধারণত জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস থাকলেই; এইরকমের আংটি পরা যায়। যারা মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করেন; তাঁদের হাতে আংটি কেন?! ছবি দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। “তুমি আংটি পরে আমার মন্দির যাবার সমালোচনা কি করে কর”? বামেদের প্রশ্ন বিজেপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষের।

হাতে জ্যোতিষের আংটি ও তাগা পরে, মানুষের মন্দিরে যাবার সমালোচনা করে বামেদের দ্বিচারিতা/The News বাংলা

অন্যদিকে ভাইরাল হয়েছে ঐশী ঘোষের ছবিও। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (‌জেএনইউ) ছাত্র সংসদ ভোটে; সভাপতি পদের লড়াইয়ে দাঁড়ানো বাম জোটের প্রার্থী ঐশী ঘোষেরও হাতে জ্যোতিষের তাবিজ! বাংলার দুর্গাপুরের মেয়ে উঠতি বাম নেত্রীকে নিয়ে; উচ্ছ্বাসের শেষ নেই বামেদের। তার হাতেই কিনা তাবিজ! কিন্তু তাতে কি! প্রবাদেই তো আছে; নিজের বেলায় আঁটিশুঁটি-পরের বেলায় চিমটি কাটি।

আরও পড়ুনঃ নিজের ছাত্রের লেখা চুরি করেছিলেন শিক্ষক সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ, শিক্ষক দিবস শ্রদ্ধার না লজ্জার

বিজ্ঞান আর ঈশ্বরবাদের মধ্যে; নাকি চিরকালীন দ্বন্দ্ব৷ বিজ্ঞানীরা কি ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরবিশ্বাসী হতে পারেন না? বিজ্ঞানীকে নাস্তিক হতেই হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ঝড় উঠেছে। কে শিভন কেন মন্দিরে? বিজ্ঞানীদের ধর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে; বাম বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন। কিন্তু তাঁরা কখনও নিজেদের ঘরে; উঁকি মেরে দেখেছেন কি? দেখলে সোশ্যাল মিডিয়ায়; মন্দির বিতর্ক করতেন না।

প্রয়াত বাম নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী; সুভাষ চক্রবর্তী তারাপীঠে পুজো দিয়ে বলেছিলেন; “আমি প্রথমে হিন্দু, তার পর ব্রাহ্মণ, তারও পরে কমিউনিস্ট”। লড়াকু নেতার সত্য স্বীকারের সাহস ছিল। কিন্তু বর্তমানের বামভক্তরা নিজেদের দ্বিচারিতা নিয়েই ব্যস্ত। মনোভাবটা অনেকটাই এরকম; “আমি করতেই পারি, ওটা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার; কিন্তু তুমি করলেই সমালোচনা করব; তোমার ব্যক্তিগত ব্যপার থাকবে না বাম আদর্শের সামনে”। আর বামেদের এই দ্বিচারিতার মনোভাবকেই; সমালোচনায় বিদ্ধ করেছে; নেট দুনিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন