ফাঁসিতে ঝোলানোর আগেই ঝুলে গেছে ফাঁসি

855
নির্ভয়ার অপরাধীদের ফাঁসি দেবে কে, ফাঁসুড়ে খুঁজছে পুলিশ /The News বাংলা
ফাঁসিতে ঝোলানোর আগেই ঝুলে গেছে ফাঁসি/The News বাংলা

ফাঁসিতে ঝোলানোর আগেই ঝুলে গেছে ফাঁসি । ফাঁসিতে ঝোলানোর আগেই ঝুলে গেছে ফাঁসি। নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসিতে তারিখ পে তারিখ। তারিখ পে তারিখ; তারিখ পে তারিখ। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, ভারতের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস অপরাধ ও তার বিচার ব্যবস্থার তারিখগুলি।

১৬ ডিসেম্বর ২০১২
দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন; ২৩ বছর বয়সী ফিজিওথেরাপির এক ছাত্রী। নৃশংসভাবে তাকে ধর্ষণ ও অত্যাচার করেছিল ৫ যুবক ও ১ কিশোর। ভয়ঙ্কর অত্যাচার শেষে চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। বীভৎস ঘটনায় শিউরে ওঠে গোটা দেশ।

১৭ ডিসেম্বর ২০১২
বাস চালক রাম সিং-সহ চার জনকে চিহ্নিত করে দিল্লি পুলিশ। এরা হল রামের ভাই মুকেশ সিং; বিনয় শর্মা এবং পবনকুমার গুপ্তা।

১৮ ডিসেম্বর ২০১২
ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই; বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি সহ সারা ভারত। দোষীদের শাস্তির দাবিতে; দেশব্যাপি বিক্ষোভ শুরু হয়। এদিনই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে; দিল্লি পুলিস।

২১ ডিসেম্বর ২০১২
নাবালক এক অভিযুক্তকে দিল্লির আনন্দবিহার বাস টার্মিনাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্যাতিতার উপর সবচেয়ে নৃশংস অত্যাচার এই নাবালক অপরাধীই করেছিল।

হরিয়ানা এবং বিহারে দফায় দফায় তল্লাশি চালানো হয়; ষষ্ঠ অভিযুক্ত অক্ষয়কুমার সিং-এর খোঁজে। 

২২ ডিসেম্বর ২০১২
বিহার থেকে গ্রেপ্তার হয় অক্ষয়। নিয়ে আসা হয় দিল্লিতে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের মাঝেই; হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বয়ান রেকর্ড করেন ধর্ষিত ও অত্যাচারিত মহিলা। 

২৯ ডিসেম্বর ২০১২
১৩ দিন যমে মানুষে টানাটানির পর, মাল্টি অর্গ্যান ফেইলিওর হয়ে সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার। সারাদেশে সে পরিচিত হয় নির্ভয়া নামে। নির্ভয়ার মৃত্যুর পর বিক্ষোভে উত্তাল হয় দেশ। দিল্লিতে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।

২ জানুয়ারি ২০১৩
ভারতের তৎকালীন চিফ জাস্টিস আলতামাস কবীর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের উদ্বোধন করেন। যাতে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার মেলে।

৩ জানুয়ারি ২০১৩
৫ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে; চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। খুন, গণধর্ষণ, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, অপ্রাকৃতিক যৌন অপরাধ এবং ডাকাতি-সহ নানা ধারায় মামলা রুজু করা হয়। 

১৭ জানুয়ারি ২০১৩
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মামলা শুরু। 

২৮ জানুয়ারি ২০১৩
জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড ষষ্ঠ অভিযুক্তকে; নাবালক আখ্যা দেয়। 

২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
খুন-সহ ১৩টি ধারায় ৫ প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
নাবালক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে; ধর্ষণ এবং খুনের মামলা দায়ের করে জুভেনাইল বোর্ড। 

১১ মার্চ ২০১৩
বিচারাধীন বন্দি বাস চালক রাম সিং তিহার জেলে নিজের সেলে; আত্মহত্যা করে। তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। 

২১ মার্চ ২০১৩
কঠোর ধর্ষণ বিরোধী আইনে; সিলমোহর দেয় কেন্দ্র। যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। 

৫ জুলাই ২০১৩
নাবালকের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষ হয়।

১১ জুলাই ২০১৩
দোষী সাব্যস্ত করা হয় নাবালককে। ১৬ ডিসেম্বর ধর্ষণের আগে একজন কাঠের মিস্ত্রির দোকানে ডাকাতিও করে সে। সাজা ঘোষণার দিন ঠিক ২৫ জুলাই। 

২৫ জুলাই ২০১৩
‘নাবালক’এর সংজ্ঞা নিয়ে; সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলার জেরে শুনানি পিছিয়ে যায়। 

২২ অগাস্ট ২০১৩
সুপ্রিম কোর্ট জুভেনাইল বোর্ডকে; মামলায় সাজা ঘোষণার অনুমতি দেয়।

৩১ অগাস্ট ২০১৩
ধর্ষণ ও খুনে দোষী সাব্যস্ত হয় নাবালক। সর্বোচ্চ তিন বছরের শাস্তি দেওয়া হয়। প্রোবেশন হোমে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে। 

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মুকেশ, বিনয়, পবন এবং অক্ষয়-কে গণধর্ষণ ও খুন-সহ ১৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। 

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩
চার জনকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপরেই দিল্লি হাইকোর্টে রেফার করা হয় মামলা। 

২৩ সেপ্টেম্বর
ট্রায়াল কোর্টের রায় নিয়ে; দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।

১ নভেম্বর ২০১৩
দিল্লি হাইকোর্টে প্রতিদিন মামলার শুনানি শুরু হয়। 

৩ জানুয়ারি ২০১৪
সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল চার অপরাধীর। 

১৩ মার্চ ২০১৪
অপরাধীদের আপিল নাকচ করে; ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের রায় বহাল রাখে দিল্লি হাইকোর্ট। ৪ জনেরই ফাঁসির সাজা বহাল।

২ জুন ২০১৪
বিনয় শর্মা এবং অক্ষয়কুমার সিং; এই ২ অপরাধী সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। 

১৪ জুন ২০১৪
পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত; ২ জনের মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 

১৮ ডিসেম্বর ২০১৫
নাবালক অপরাধীর মুক্তির বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে করা আপিল খারিজ হয়। ৩ বছর প্রোবেশনাল হোমে কাটিয়ে মুক্ত হয়; নাবালক। 

৩ এপ্রিল ২০১৬
সুপ্রিম কোর্টে ফের শুরু হয়; মামলার শুনানি। 

১১ জুলাই ২০১৬
জাস্টিস দীপক মিশ্র, আর ভানুমতী এবং অশোক ভূষণের এজলাসে; মামলার শুনানি হয়। 

অগাস্ট ২০১৬
অপরাধী বিনয় শর্মা তিহার জেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। 

২৭ মার্চ ২০১৭
সমস্ত শুনানির পর ৫ মে; পরবর্তী নির্দেশের দিন ধার্য হয়। 

৫ মে ২০১৭
৪ অপরাধীর বিরুদ্ধে; দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

নভেম্বর ২০১৭
অপরাধীদের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন; ‘মৃত্যুদণ্ড দেওয়া মানে বিচারের নামে ঠান্ডা মাথায় খুন করা। বহু দেশে মৃত্যদণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। সভ্য দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের কোনও স্থান নেই।’ 

মে ২০১৮
পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয় ৯ জুলাই। কথা ছিল, সে দিনই অন্তিম শুনানি। জানা যাবে; অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি সাজা পরিবর্তিত হয়ে; যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

৯ জুলাই ২০১৮
দোষীদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে; মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর থেকেই; শুরু হয় মামলার খেলা। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে; ফাঁসি স্থগিত রাখার খেলা।

১৭ জুলাই ২০১৮
ফাঁসির বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশান হয়; এবং সেই পিটিসান খারিজ হয়।

৭ জানুয়ারি ২০২০
পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিশেষ বিচারপতি সতীশ অরোরা নির্ভয়ার চার ধর্ষকের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে নির্দেশ দেন; ২২ জানুয়ারি সকাল ৭ টার সময় তাদের ফাঁসি।

৮ ই জানুয়ারি ২০২০
দন্ডিত মুকেশ কুমার সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশান ফাইল করে;

১৪ জানুয়ারি ২০২০
কিউরেটিভ পিটিশান রিজেক্ট হয়। ১৪ ই জানুয়ারিতেই; মুকেশ কুমার রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশান করে; যা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পৌছয় ১৬ই জানুয়ারি।

১৭ জানুয়ারি ২০২০
রাষ্ট্রপতি রিজেক্ট কবেন মার্সি পিটিশান। এরপরেই; মুকেশ কুমার সুপ্রীম কোর্টে এই রিজেকশানের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল রিভিউ চেয়ে; রিট আবেদন করেন। স্থগিত হয়ে যায় ২২ জানুয়ারি ফাঁসি।

১৭ জানুয়ারি ২০২০
ফাঁসির নয়া দিন ঘোষণা করে; পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। ২২ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার সময়ে; এই চার দোষীর মৃত্যদণ্ড কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেয় পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারপতি সতীশ অরোরা।

২৯ জানুয়ারি ২০২০
তিন জন বিচারপতির বেঞ্চ; অপরাধীদের রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

৩০ জানুয়ারি ২০২০
ফের আদালতের দারস্থ হয়; চার অভিযুক্তের একজন পবন গুপ্ত। তার দাবী ধর্ষন ঘটার সময়কালে তার বয়স ১৮ বছরের কম ছিল; অর্থাৎ সে নাবালক ছিল। আদালত খারিজ করে দেয়; সেই আবেদন।

৩১ জানুয়ারি ২০২০ ফাঁসির আগের রাতে দিল্লি হাইকোর্ট ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ দেয়। এর কারণ রাষ্ট্রপতি মার্সি পিটিশান রিজেক্ট করলে তার থেকে; ১৪ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করা যায় না।

কবে কার্যকর হবে ফাঁসি? এটাই এখন দেশ জুড়ে; সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। আইন ব্যবস্থার উপর কমছে ভরসা। সবাই চান হায়দরাবাদের মত সরাসরি গুলি মারা হোক ধর্ষকদের। মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেবার ঘটনা; এবার কি বাড়বে? উঠে গেছে প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন