ব্যর্থ প্রেমের সত্যি গল্প, নবনীতা দেব সেনের প্রেমে পড়েছিলেন বুদ্ধদেব

714
ব্যর্থ প্রেমের সত্যি গল্প, নবনীতা দেব সেনের প্রেমে পড়েছিলেন বুদ্ধদেব/The News বাংলা
ব্যর্থ প্রেমের সত্যি গল্প, নবনীতা দেব সেনের প্রেমে পড়েছিলেন বুদ্ধদেব/The News বাংলা

ব্যর্থ প্রেমের সত্যি গল্প; নবনীতা দেব সেনের প্রেমে পড়েছিলেন লেখক বুদ্ধদেব গুহ। গল্প হলেও সত্যি! আর এই সত্যিটা স্বীকার করেছিলেন স্বয়ং বুদ্ধদেব গুহ। লেখিকা নবনীতা দেব সেনের ৮০ তম জন্মদিন উপলক্ষে; দেশ পাবলিশার্স থেকে আয়োজন করা হয় একটি অনুষ্ঠানের। সেখানেই এতদিন পরে সত্যিটা স্বীকার করে নিয়েছিলেন; বুদ্ধদেব গুহ।

উপলক্ষ ছিল নবনীতা দেব সেনের আশিতম জন্মদিন। দেশ পাবলিশার্স আয়জিত অনুষ্ঠানে; লেখিকার জন্মদিনে অভ্যাগতরা উপস্থিত। কানায় কানায় পূর্ণ রবীন্দ্র সদনের প্রেক্ষাগৃহ। মঞ্চের পর্দা ওঠার পর একে একে আসন গ্রহণ করেছিলেন নবনীতা দেব সেন; শঙ্খ ঘোষ; বুদ্ধদেব গুহ এবং দেজ পাবলিশিং-এর কর্ণধার সুধাংশুশেখর দে।

এমন সময়েই সবাইকে চমকে দিয়ে জীবনের একটি গোপন কথা; অকপট ভাষায় স্বীকার করে নিলেন বুদ্ধদেববাবু। অনেকটা সারপ্রাইজ গিফ্টের আদলে লেখিকা তো বটেই; সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ৬৬ বছর ধরে; নবনীতার প্রতি তাঁর লুকিয়ে রাখা একতরফা ব্যর্থ প্রেমের কথা!

আরও পড়ুনঃ মায়ের জন্য পাত্র চাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে প্রশংসায় ভাসল মেয়ে

তিনি বলেছিলেন; “সেটা ১৯৫২ সালের কথা। গড়িয়াহাট থেকে ৮ নম্বর বাসে করে আমি যাচ্ছিলাম। বাসে উঠেই দেখলাম, বসে আছে নবনীতা। আমিও ওর পাশেই বসলাম। সেই যে আলতো করে ঊরুতে ওর ছোঁয়া লাগা; তাতেই আমি ভাসতে ভাসতে বাড়ি ফিরলাম। আনন্দে আমার এমন অবস্থাই হয়েছিল”; কোনরকম রাখঢাক না করেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

বুদ্ধদেব আরও বলেন, “আসলে সেই সময় আমাদের ছেলেদের মধ্যে; নবনীতার একটা সাংঘাতিক ক্রেজ ছিল। খুব অন্যরকম করে; ঢঙ করে কথা বলত তো! বরাবরই ও খুব ঢঙি ছিল! তা, নবনীতা অবশ্য আমাদের কাউকে পাত্তাই দিত না। সেই সময় সেন্ট জেভিয়ার্সের ছেলেদের; প্রেসিডেন্সি কলেজের মেয়েরা বেশ হেয় করেই দেখত। ফলে, আমারও কোনো আশা ছিল না”; হাসতে হাসতে জানিয়েছিলেন বুদ্ধদেব গুহ।

এরপর বুদ্ধদেব বলেন; “এরপরেই নবনীতা একটা সাংঘাতিক কাণ্ড করল। তাতে আমার আশা একেবারেই চলে গেল। ও বিয়ে করে ফেলল অমর্ত্য সেনকে। ভাবা যায়! তখন হাজার হাজার মেয়ে অমর্ত্যকে বিয়ে করার জন্য পাগল। তাদের সবাইকে টপকে; নবনীতা অমর্ত্যকে বিয়ে করে ফেলল। তবে আমি হাল ছাড়িনি। আমি নবনীতাকে চিঠি লিখেই যেতাম। দয়া করে তার একটা-দুটোর উত্তরও ও দিত। আমি শুধু ভাবতাম; অমর্ত্য যদি এই চিঠিগুলোর কথা জেনে ফেলে, তাহলে কী হবে! অবশ্য ওরা তো শিক্ষিত দম্পতি; তাই স্বামী-স্ত্রী একে অপরের চিঠিতে হাত দিত না বলেই এখন মনে হয়”; খোলাখুলি জানিয়েছিলেন লেখক।

লেখকের স্বীকারোক্তির সময় লেখিকার মিটিমিটি হাসি; বলে দিচ্ছিল তিনি এসবে অভস্থ্য। কয়েকদশক আগে হলে আর বয়স কম হলে হয়ত; এই নিয়েই হইচই পরে যেত কলকাতায়। তবে বিদগ্ধ বুদ্ধদেব গুহ-র অকপট স্বীকারোক্তি মুগ্ধ করেছিল; রবীন্দ্র সদনের প্রেক্ষাগৃহে সেদিন হাজির মানুষদের। আর বুদ্ধদেব গুহ-র এই স্বীকারোক্তি আবার পরিষ্কার করে দিয়েছিল; নবনীতা দেব সেনের ক্রেজ ও তাঁর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বর কথা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন