‘ম্যাডাম’-এর মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ, দুর্গা পুজোয় কে এই ‘ম্যাডাম’

421
'ম্যাডাম'-এর মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ, দুর্গা পুজোয় কে এই 'ম্যাডাম'
'ম্যাডাম'-এর মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ, দুর্গা পুজোয় কে এই 'ম্যাডাম'

ম্যাডামের মুখের আদলেই; করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ। মানুষের দাবি ও চাহিদা ছিল এটাই। কিন্তু কে এই ম্যাডাম? ওটাই তো রহস্য! এই ম্যাডাম আর কেউ নয়; মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করলেই, বেরিয়ে আসে বাংলার সোনার যুগের; সোনার অক্ষরে লেখা পুজো ‘নস্টালজিয়ার’ গল্প। পঞ্চাশ-ষাটের দশকের; বিখ্যাত দমকলের ঠাকুর। শিল্পী রমেশ পালের ঠাকুর দেখতে; সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে দমকল স্টেশনে যেতেন সবাই।

অনবদ্য প্রতিমা, শাড়ীর রং আগুন কমলা, কি অপূর্ব শিল্প, কি অপূর্ব চিন্তাধারা। কলকাতা দমকল বাহিনী; এই পুজো করত; যা দেখতে ভিড় উপচে পড়ত; দর্শনার্থীর ঢল নামত। তখনকার কলকাতার বিখ্যাত পুজো; এই পুজো বন্ধ হয় আনুমানিক ১৯৬৩ সালে। পূজা বন্ধ করার কারণ, যদি দমকল বাহিনী নিজেদের পূজা ব্যস্ততার কারনে; ঠিকমত পরিষেবা, কলকাতার অন্য প্যান্ডেলে যদি দিতে না পারে!

আরও পড়ুনঃ “ওপেনিং ব্যাটসম্যান থেকে একেবারে টুয়েলভ ম্যান”, সামনের আসন থেকে পিছনের সারিতে

একটা সময়ে দুর্গার মুখ মানেই; ‘ম্যাডাম’ সুচিত্রা সেন। তখন সুচিত্রা ফুলফর্মে; প্রথম হায়েস্ট পেড নায়িকা। তাই দর্শক থেকে পুজো উদ্যোক্তারা সবাই চাইত; প্রতিমা হবে ম্যাডামের মুখের আদলে। আর তারই সযত্নে রূপ দিতেন শিল্পী রমেশ পাল; এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দেবী দুর্গার মুখে; সুচিত্রা সেনের আদল। রক্ষনশীল বাংলা সমাজে সম্ভবত সেই প্রথম; মা দুর্গার মুখ করা হত; ম্যাডাম মিসেস সেনের মুখের আদলে।

Madam Suchitra Sen Face on Goddess Ma Durga Face for Public Demand
'ম্যাডাম'-এর মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ, দুর্গা পুজোয় কে এই 'ম্যাডাম'

প্রথম দিকে লক্ষী, সরস্বতীর মুখের আদল করা হত; সুচিত্রার মুখের মত। তারপর জনতার দাবি মেনে; মা দুর্গার মুখে বসানো হল ম্যাডামের মুখ। আর তাই দেখতে ভিড় করতেন; হাজার-হাজার মানুষ। দমকলের ‘সুচিত্রা প্রতিমা’ দেখতে; কলকাতায় আসতেন বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ। দমকল বাহিনীর পুজো বন্ধ হয়ে যাবার পর; এই পুজোর বেশ কিছু উদ্যোক্তাই পরে; মহম্মদ আলি পার্কের পুজো চালু করেন।

৫০ এর দশক থেকে প্রায় ৭০ এর দশক পর্যন্ত; বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘রাজ’ করেছেন মহানায়িকা। উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিকে; বাংলা সিনেমার ‘Golden Era’ বা সোনার যুগ বলা হয়। কিন্তু দুর্গা পুজোপ্রেমী মানুষ ও সাধারণ দর্শকদের চাপে; মা দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের মুখের আদল দেওয়া হচ্ছে; এটাই ছিল সেই যুগের অবিস্মরণীয় একটা অধ্যায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন