সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া বারণ কেন

2174
সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া বারন কেন/The News বাংলা
সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া বারন কেন/The News বাংলা

সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া বারণ কেন? এই প্রশ্ন আমাদের সবার মনেই কম বেশি আসে। ছোট থেকেই; এই নিয়ম মেনেই আসছি আমরা। কুলের প্রতি যতই লোভ থাকনা কেন; সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া থেকে আমরা নিজেদের বিরত রাখি। আসুন জেনে নেওয়া যাক; সরস্বতী পূজার আগে কুল না খাবার পৌরাণিক কাহিনী। পুরান থেকে আমরা জানতে পারি; দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করার জন্য মহামুনি ব্যাসদেব বদরিকাশ্রমে তপস্য শুরু করেন।

মহামুনি ব্যাসদেব বদরিকাশ্রমে তপস্য করেছিলেন। তপস্যা শুরু করার আগে; তপস্যার জায়গার কাছে একটি কুল বীজ রেখে দেবী একটি শর্ত দেয়। সেই শর্তে বলা হয়; এই কুলবীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা থেকে বড় গাছ হবে। তারপর সেই গাছের ফুল থেকে নতুন কুল হবে। যেদিন সেই কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে; সেইদিন তপস্যা পূর্ণ হবে বা সরস্বতী দেবী তুষ্ট হবেন।

আরও পড়ুনঃ শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার অজানা জীবনী

ব্যাসদেবও সেই শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করলেন। ধীরে ধীরে বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। ধীরে ধীরে কুলবীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা; চারা থেকে বড় গাছে রূপান্তরিত হয়। গাছে ফুল থেকে নতুন কুল হয় এবং একদিন তা পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পড়ে। তখন ব্যাসদেব বুঝতে পারে যে; দেবী সরস্বতী তার প্রতি তুষ্ট হয়েছেন।

কুল এর আর এক নাম বদ্রী; তপস্যার সাথে বদ্রীর সম্পর্ক থাকায়; ঐ জায়গার নাম বদরিকাশ্রম নামে প্রচার হয়ে যায়। যেদিন তপস্যা সম্পূর্ণ হয়; সেই দিনটি ছিল শ্রীপঞ্চমী। সেদিন বেদমাতা সরস্বতী কে বদ্রী বা কুল ফল নিবেদন করে বন্দনা করে তিনি ব্রহ্মসূত্র রচনা আরম্ভ করেন।

আরও পড়ুনঃ কৌশিকী অমাবস্যায় তারা মায়ের পুজো করলেই, জীবনে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি

শ্রীপঞ্চমীর দিন; সরস্বতী দেবী তুষ্ট হয়েছিলেন। তাই সেই দিনের আগে; আমরা কুল খাই না। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবীকে কুল নিবেদন করার পরেই কুল খাওয়া হয়। এই নিয়ম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন