দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টালবাহানা, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়ােগ করেনি মালদা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ

2008
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টালবাহানা, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়ােগ করেনি মালদা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টালবাহানা, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়ােগ করেনি মালদা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টালবাহানা, একযুগ কেটে যাওয়ার পরেও; কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়ােগ করেনি মালদা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নানান টালবাহানা চলছে; মালদা প্রাথমিক পর্ষদের। একবার পরীক্ষা নিচ্ছে, তারপর রেজাল্ট বেরােবার আগেই; তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশে; মেধাতালিকা বের হয়। মেধা তালিকায়; ১৩৩১ জনের নাম আসে। হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও, ২০০৯-১০ টেট উত্তীর্ণদের নিয়ােগ করছে না; মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়ােগের দাবি তুলে; মালদার জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্রকে স্মারকলিপি তুলে দেন শতাধিক টেট উত্তীর্ণরা। পদপ্রার্থীদের অভিযােগ, প্রাইমারি শিক্ষা সংসদ জানাচ্ছে; মালদা জেলায় কোনও শূন্যপদ নেই। অথচ ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণদের; নিয়ােগ হয়ে যাচ্ছে। হাইকোর্টের রায়, শূন্যপদ না থাকলেও; তা তৈরি করে নিয়ােগ করতে হবে। কিন্তু হাইকোর্টের রায়কেও; মান্যতা দিচ্ছে না শিক্ষা সংসদ।

আরও পড়ুনঃ মাধ্যমিকে ঝুড়ি ঝুড়ি নম্বর, একাদশে পছন্দের বিষয় নিয়ে ভর্তির সুযোগ সবাই পাবে তো

এদিকে মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষে জানানাে হয়; এ জেলায় কোনও শূন্যপদ নেই। ২০২০ সালে প্রাথমিকের শূন্যপদ নিয়ে; আরটিআই করা হয়। আরটিআইয়ের রিপাের্টে জানা গিয়েছে; জেলায় ১৪২০ টি শূন্যপদ রয়েছে। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী; অবিলম্বে শূন্যপদ তৈরি করে নিয়ােগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যা এখনও নিয়ােগ করেনি; মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। এবিষয়ে মালদা জেলাশাসক জানিয়েছেন; “আমার হাতে কিছু নেই”।

এই বিষয়ে তিয়াস চৌধুরী নামে এক টেট উত্তীর্ণ, সংবাদমাধ্যমকে জানান; “২০০৯ সাল থেকে এই পদের জন্য; পরীক্ষা দিয়ে হয়রানি হচ্ছি। সরকার পরিবর্তনের পর; এই প্যানেলের নিয়ােগ স্থগিত করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ আন্দোলন করেও; সরকারের টনক নড়েনি। শেষে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের; শরণাপন্ন হতে হয় আমাদের। সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়; নিয়ােগের পক্ষে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে; ডিভিশন বেঞ্চে যায় সরকার। সেখানে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়; পুনর্বহাল রাখা হয়। তাতেও নিয়োগ হয়নি।

আরও পড়ুনঃ শুধু ইন্টারভিউ হবে নিয়োগ বন্ধ, আবার আটকে গেল উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ

বাম আমলে ২০০৯-১০ সালে, মালদা জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে; ১৩৩১ টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর ৷ তারপরই রাজ্যে; ক্ষমতার পালাবদল ঘটে ৷ নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর; সেই বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করে ৷ এনিয়ে আদালতে; বহু মামলা হয়েছে ৷ এই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে; তিনবার লিখিত পরীক্ষা হয়। শেষবার সেই পরীক্ষা হয়; ২০১৪ সালের মার্চ মাসে।

১১ বছর পর ২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে, ঠিক ভোটের আগে প্রকাশিত হয়; প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের তালিকা ৷ যদিও প্রকাশিত তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে; প্রশ্ন তুলে ফের আদালতে যান পরীক্ষার্থীরা ৷ তাঁদের অভিযোগ, প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী; অনেক অযোগ্যকে চাকরি করে দেওয়া হয়েছে ৷ তাই এই তালিকা বাতিল করে; স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছেন তাঁরা ৷ ২০০৯ এর নিয়োগ কবে হবে; কেউ জানে না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন