মমতাকে ডি-লিট দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য ছিলেন আলাপনের স্ত্রী

11666
মমতাকে ডি-লিট দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য ছিলেন আলাপনের স্ত্রী
মমতাকে ডি-লিট দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য ছিলেন আলাপনের স্ত্রী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ডি-লিট দিয়েছিল; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। আর তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন আলাপনের স্ত্রী সোনালী চক্রবর্তী। সেই নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বিতর্ক হয়েছিল, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়া নিয়েও। এমনকি এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে; একটি মামলাও হয়। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়; প্রথমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি রেজিস্ট্রার থেকে একেবারে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (Vice-Chancellor) বা উপাচার্য পদে উন্নীত হন এবং এখনও ওই পদে বহাল আছেন।

সেই সময় শুরু হয়েছিল জোর বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার; একটি প্রশাসনিক পদ বা Administrative পোস্ট। অন্যদিকে Vice-Chancellor বা উপাচার্য; মূলত Teaching পোস্ট বা শিক্ষকতা পদ। তাই রেজিস্ট্রার থেকে Vice-Chancellor পদে, উন্নীত হওয়াটা সম্পূর্ণ বেআইনি; এমনটাই দাবি ওঠে রাজ্যের সব মহল থেকেই।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রের শো-কজের জবাব, মোদী সরকারকে চিঠিতে কি লিখছেন আলাপন

সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে উপাচার্য হন; অর্থাৎ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের Vice-Chancellor হন। আর ওই বছরেরই অক্টোবর মাসে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়; D. Litt ডিগ্রি দিয়ে সম্মানিত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। Give & Take নীতি; অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা।

সাহিত্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানকে; স্বীকৃতি দেয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রীকে সাম্মানিক ডিলিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে; শুরু হয় বিতর্ক। কেন মুখ্যমন্ত্রীকে ডিলিট দেওয়া হবে? তাই নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়; মামলাও হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

আরও পড়ুনঃ “আলাপন সিক্রেট জানে, তাই তাঁকে আড়াল করতে মরিয়া মমতা” বিস্ফোরক শুভেন্দু

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ছিল; “সরকার এমন একজনকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করেছে; যিনি কোনও দিন কলেজে পড়াননি। তিনিও প্রতিদানে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন”! বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছিলেন; “যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার অনুদান দিচ্ছে, সেই সরকারেরই প্রধানকে; বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট দিচ্ছে, অদ্ভুত ব্যাপার”!

ঘটনায় দুঃখ পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও। ডি-লিট পাওয়ার পরে, নিজের ভাষণে মমতা বলেছিলেন; তাঁর জীবনটাই অবহেলার, অসম্মানের। এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন তাঁকে এই সম্মান দেওয়ার ঘোষণা করেছেন; তা নিয়েও তাঁকে কম অসম্মান করা হয়নি। তিনি আদৌ এই সম্মান গ্রহণ করতে আসবেন কি না; তা নিয়েও দোটানায় ছিলেন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন