জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে মেয়ো রোড গান্ধী মূর্তি, মমতার মিছিলের খরচ ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা

9884
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে মেয়ো রোড গান্ধী মূর্তি, মমতার মিছিলের খরচ ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে মেয়ো রোড গান্ধী মূর্তি, মমতার মিছিলের খরচ ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে মেয়ো রোড গান্ধী মূর্তি; রাস্তার হিসাবে যেটা ৩.৮ কিমি। আর এই রাস্তা হাঁটতেই; খরচ হল ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ছোট্ট মিছিলের জন্য; রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বেরিয়ে গেল; ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। গত বছর, ১২ ই জুলাই; কলকাতায় মিছিল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জল রক্ষার অঙ্গীকার করে; পথ হেঁটেছিলেন দিদি। যার জন্য, সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা খরচা করা হয়েছে জলের মত। কিন্তু তা বলে; একটা মিছিলের জন্য কোটি টাকা খরচা! উঠছে বড় দুর্নীতির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই টাকা পেয়ে গেছে; অভিযুক্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা।

আরও পড়ুনঃ “সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে কৃষকদের ভুল বুঝিয়েছে তৃণমূল”, দাবি করা সিপিআইএম কৃষক আন্দোলন করছে সেই তৃণমূলের সঙ্গেই

সরকারের উদ্যোগে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে মেয়ো রোড গান্ধী মূর্তি পর্যন্ত; সেই মিছিল হয়েছিল। কিন্তু সেই মিছিলে যে টাকা খরচ হয়েছে; তা শুনে অনেকেই চোখ কপালে তুলছেন। রাজ্য পূর্ত দফতরের নথি বলছে; গোটা অনুষ্ঠানের বরাত পেয়েছিল শরৎ বোস রোডের একটি সংস্থা। ‘এক্সিবিটস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের ওই সংস্থাই; মিছিলের সব আয়োজন করেছে। আর ওই মিছিল এবং মিছিল শেষে সভা করতে; তারা সরকারের কাছ থেকে নিয়েছে; ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

রবীন্দ্রনাথের জন্মভিটে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে; মেয়ো রোডের গান্ধীমূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র ৩.৮ কিলোমিটার। পূর্ত দফতরের ওই নথিতে লেখা রয়েছে; মঞ্চ বাঁধা, ব্যারিকেড দেওয়া, অতিথিদের আপ্যায়ণ, সাজানো গোছানো, গোটা মিছিল এবং সভার লাইভ স্ট্রিমিং; সবটা করতে এই টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু তা বলে, ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৬ টাকা! টাকার অঙ্ক শুনেই; চোখ কপালে উঠেছে সবার।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রের সব প্রকল্পের টাকা দিতে হবে রাজ্য সরকারের হাতে, মমতার দাবি শুনে অবাক কেন্দ্র সরকার

যদিও রাজ্য পূর্ত দফতরের কোনও কর্তা; এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি। অনেকেরই প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা যে রোজ বলেন; “আমাদের টাকা নেই; আমাদের টাকা নেই। এত এত ঋণের বোঝা”। তাহলে, কেন একটা মিছিলের জন্য এত খরচ? এই অর্থের পরিমাণ শুনেই, নবান্নের বিরুদ্ধে; বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন; “মমতার সরকারটাই দুর্নীতির সরকার; সরকারের টাকা মেরে তৃণমূলের তহবিল গড়াই এদের কাজ”। কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন; “কোন ভাইপো এর পিছনে আছে দেখুন; কাদের টাকা পাইয়ে দিল মমতা”। বাম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন; “যে শুনবে সে-ই বলবে, এই পরিমাণ অর্থ একটা মিছিলে খরচ হতে পারে না। বাংলায় রানির দুর্নীতির রাজত্ব চলছে”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন