চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া, করোনা আক্রান্ত অভাবী তরুণী ডাক্তারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা

3354
চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া, করোনা আক্রান্ত অভাবী ডাক্তারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা
চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া, করোনা আক্রান্ত অভাবী ডাক্তারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া; করোনা আক্রান্ত অভাবী তরুণী ডাক্তারের পাশে দাঁড়ালেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা গৃহবধূ। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তাঁদেরই করোনা আক্রান্ত মেয়ের; যে আবার সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার; তাঁর চিকিৎসার প্রথমদিনের বিল ২ লক্ষ টাকা! বেসরকারি হাসপাতালের এই আকাশছোঁয়া বিল; দেওয়ার সাধ্য নেই পরিবারের। খবর পেয়ে এগিয়ে এলেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্যার সমাধান করল; পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নিজের হাসপাতালের ডাক্তারের চিকিৎসার; সব দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকারই।

পরিবার ও সরকারের যোগসূত্র স্থাপন করলেন; ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা কৌশিক চাকি। তিনিই অবিলম্বে যোগাযোগ করেন; রাজ্যের স্বাস্থ্য-সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে। স্বাস্থ্য-সচিব আশ্বাস দেন, কোয়েলের চিকিৎসার; সব ভার নেবে রাজ্য সরকার। এরপরেই এসে যায়; মুখ্যমন্ত্রী মমতার সবুজ সংকেত।

আরও পড়ুনঃ “প্রধানমন্ত্রী আপনার দুটি পা ধরতে পারি”, কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

অভাবি পরিবারের দুই বোনই; সদ্য ডাক্তার। ডাক্তারি পাশ করে, সবে কাজ শুরু করেছে; দুই বোন মোনালিসা মাইতি ও কোয়েল মাইতি। কোভিড রোগীতে থিকথিক শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে; ইন্টার্নশিপ করছিলেন কোয়েল। অগুনতি রোগী দেখতে হচ্ছিল তাঁকে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ জ্বর। টেস্ট করাতে ধরা পরে; করোনা আক্রান্ত কোয়েল। প্রাথমিক অবস্থায় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালেই; ভর্তি করা হয় কোয়েলকে। কিন্তু অক্সিজেন লেভেল; নামছিল হুড়মুড় করে।

বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনে রেখেও; অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ ছুঁচ্ছিল না। তবে উপায়? দিদি মোনালিসা আবার; বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস। মোনালিসার বক্তব্য, “বোনকে নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসছিল ও”। এরপরে, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল থেকে; কোয়েলকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু করে পরিবার। ভর্তি করা হয়; বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে।

আরও পড়ুনঃ ‘পরিকল্পনা করেই অপমান’, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

২৪ ঘন্টার অক্সিজেন সাপোর্ট তো বটেই; কোয়েলকে সুস্থ কর‍তে প্রয়োজন ছিল; বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনের। পঞ্চাশ হাজার টাকা ডিপোজিট; করতে হয়েছিল ভর্তির সময়েই। চিকিৎসকরা জানিয়েই দেন; গুরুতর অসুস্থ কোয়েলের চিকিৎসায় খরচ বিপুল। ইন্ট্রা মাসকুলার যে ইঞ্জেকশন তাঁর প্রয়োজন; তার এক একটার দামই আকাশছোঁয়া। ভর্তির প্রথম ২৪ ঘন্টাতেই; খরচ হয় দুলক্ষ টাকা। খরচের সংস্থান না হলে; মাইতি পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা চালানো অসম্ভব ছিল।

অবস্থা বুঝে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা কৌশিক চাকি; যোগাযোগ করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে। যোগাযোগ করা হয়; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সব শুনেই সবুজ সংকেত দেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মাইতি পরিবারের জন্য; মুশকিল আসান হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিল; তাঁর সব চিকিৎসার দায়িত্ব। নিজের হাসপাতালের ডাক্তারের, করোনা চিকিৎসার ভার নিল রাজ্য সরকারই। মাইতি পরিবার সব কৃতিত্ব দিচ্ছেন; ডা কৌশিক চাকি-কেই। “একজন ডাক্তারের পাশে তো দাঁড়াতেই হবে”; জানিয়েছেন কৌশিক চাকি।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন