ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্যকর্তার পরামর্শে, মমতা সরিয়েছিলেন বাংলার নবজাতক চিকিৎসার জনক অরুণ সিংকে

1248
ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্যকর্তার পরামর্শে, ক্ষমতায় এসেই মমতা সরিয়েছিলেন বাংলার শিশু চিকিৎসার জনক অরুণ সিংকে
ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্যকর্তার পরামর্শে, ক্ষমতায় এসেই মমতা সরিয়েছিলেন বাংলার শিশু চিকিৎসার জনক অরুণ সিংকে

মানব গুহ, কলকাতাঃ বাংলায় নবজাতক চিকিৎসার জনক বলা হয় তাঁকে। ২০০০ থেকে ২০১১; দশ বছরে রাজ্যে; নবজাতক চিকিৎসার; আমূল বদল করে দেন ডাক্তার অরুণ সিং। পিছিয়ে পরা পুরুলিয়ার সরকারি হাসপাতাল থেকে; কলকাতার এসএসকেএম; নবজাতক চিকিৎসায় নবজাগরণ এনেছিলেন অরুণ সিং। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্যকর্তার পরামর্শে; সেই অরুণ সিং-কেই বদলি করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলপন্থী স্বাস্থ্যকর্তার রোষে, পিজি-র সদ্যোজাত-রোগ বিশেষজ্ঞকে; বদলি হতে হয়েছিল সাগর দত্ত হাসপাতালে। যেখানে কোন সদ্যোজাত-রোগ বিভাগই ছিল না!

ডাক্তার অরুণ সিং; বাংলার সদ্যজাত শিশু চিকিৎসার জনক বলা হয় তাঁকে। বাংলায় সেবার স্বপ্ন নিয়ে, ২০০০ সালে তিনি দিল্লি থেকে পিজি-তে এসেছিলেন; সরকারি চাকরি করতে। পরবর্তী ১০ বছরে; বিপ্লব হয়ে যায়, বাংলার নবজাতক চিকিৎসায়। কলকাতা থেকে পুরুলিয়া; রাজ্যের অনেক সরকারি হাসপাতালেই; উন্নতমানের নবজাতক চিকিৎসা শুরু হয়েছিল; অরুণ সিংয়ের হাত ধরেই। পুরুলিয়ার এসএনসিইউ ওয়ার্ড; ভারতের অন্যতম সেরা বলে একসময় খ্যাতিলাভ করে।

আরও পড়ুনঃ মমতাকে ডি-লিট দিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য ছিলেন আলাপনের স্ত্রী

ডাঃ সিং, এসএসকেএম হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশুরোগ বিভাগের প্রধান থাকার সময়; একদা মমতা ঘনিষ্ঠ শিশুরোগ চিকিৎসক ডাঃ ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়। বাংলার রাজনৈতিক মহল আজও মনে করে, তৎকালীন তৃণমূলপন্থী ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছাতেই; মমতা ‘চোখ কান বুজে’ বদলি করে দেন অরুণ সিংকে। কারণ চিকিৎসাই ছিল তাঁর মানবসেবা; নেতা নেত্রীদের তেল দিতে পারতেন না; অন্যান্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্তাদের মত।

বাংলায় সদ্যোজাত-রোগ বিভাগের উত্‍কর্ষের স্বপ্ন; তাঁর আংশিক অধরাই থেকে যায়। তাঁর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই; তাঁকে যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অনৈতিক ভাবে। ক্ষতি হয় সমাজের; ক্ষতি হয় বাংলার মানুষের। মমতা বদলি করে দিয়েছিলেন; বাংলার শিশু চিকিৎসার জনক অরুণ সিংকে। ধাক্কা খায় নবজাতক-চিকিত্‍সা। মমতা ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরেই; ডাঃ সিংকে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়। যেখানে কোন নবজাতক শিশু চিকিৎসা বিভাগই ছিল না।

আরও পড়ুনঃ ৪ বছরে ২১ বার ফ্রি বিমানযাত্রা, একমাত্র ‘ভারতরত্ন’ হিসেবে নজির গড়লেন অমর্ত্য সেন

শুধু তাই নয়, ডাঃ সিংয়ের সময়কালে; এসএসকেএম হাসপাতালে অনুদানের টাকা খরচ নিয়ে; অনিয়ম প্রসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেয় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (National Health Mission) দায়িত্ব নিয়ে; রাজ্য ছেড়ে যেতে চাইলেও, সরকার নানা বাহানায় তাঁকে ছাড়তে চায়নি। এমনই অভিযোগ উঠেছিল। অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল রাজ্যকেও। পরে তিনি রাজ্য ছেড়ে; ফিরে যান দিল্লিতে।

২০২১ ভোটের আগে, শিশুমৃত্যু ঠেকাতে তৈরি মুখ্যমন্ত্রীর টাস্ক ফোর্সের প্রাক্তন প্রধান ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়-কে; বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা; ডাঃ সিং-কে ফের বাংলায় ফেরাতে উদ্যোগী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেছেন; “আমরা পিজি হাসপাতালে ‌ইনস্টিটিউট অব পেরিনেটোলজি তৈরি করছি। সেখানকার প্রধান পরামর্শদাতা হচ্ছেন; ডাঃ অরুণ সিং। শীঘ্রই এই ইনস্টিটিউটটির কাজ শুরু হবে”।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের নতুন প্রস্তাবে, ডাক্তার অরুণ সিং কি করবেন; তা জানা যায়নি। তবে ২০১১ থেকে ২০২১; ১০টা বছর; বাংলার নবজাতক চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে ‘অকালছেদ’ করেছে ‘মা মাটি মানুষের সরকার’; তার ফল ভোগ করছে বাংলার মানুষ। আলাপন ইস্যুতে যতই, কেন্দ্র সরকারের খবরদারির অভিযোগ করুন মমতা; তাঁর বিরুদ্ধেও এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন