‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু করতে মোদী সরকারকে চিঠি দিলেন মমতা

1896
‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু করতে মোদী সরকারকে চিঠি দিলেন মমতা
‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু করতে মোদী সরকারকে চিঠি দিলেন মমতা

শেষ পর্যন্ত হুঁশ ফিরল মমতার। ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’; বাংলায় চালু করতে মোদী সরকারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’; এই দুই কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু না হওয়ায়; বহুবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। এবার এই দুই প্রকল্পই রাজ্যে চালু করতে চেয়ে; কেন্দ্রকে চিঠি পাঠাল রাজ্য সরকার। তবে, সবটাই দেশের সুপ্রিম কোর্টের জন্য; বলছে আমজনতা।

এই বিষয়ে জানতে পড়ুন; মমতার গোঁয়ার্তুমির জন্য, আয়ুষ্মান ভারত ও কৃষক সম্মান যোজনার টাকা পাচ্ছে না বাংলার মানুষ

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড.‌ হর্ষ বর্ধনকে; চলতি মাসের ৯ তারিখ এই চিঠি দুটি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে পাঠানো চিঠিতে, মমতা পরিষ্কার জানিয়েছেন; যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প নিয়ে আসার অনেক আগে থেকেই; কৃষক বন্ধু ও অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। আর মন্ত্রী ড.‌ হর্ষ বর্ধনকে পাঠানো চিঠিতে, রাজ্যের পক্ষ থেকে মমতার সাফ জানিয়েছেন; কেন্দ্রীয় সরকার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে আসার অনেক আগে থেকেই; পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে জানতে পড়ুন; ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ বাংলায় চালু হয়নি কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট

‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’; বাংলায় চালু হয়নি কেন? জানতে চেয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে; নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ নিয়ে বহুদিন ধরেই; কেন্দ্র রাজ্য চাপানউতোর চলছে। এবার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৪ রাজ্যকে; নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। করোনা পরিস্থিতিতেও, জনসাধারণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প; ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু করা হয়নি কেন? প্রশ্ন তুলে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, তেলেঙ্গানা ও ওড়িশা সরকারের কাছে; কারণ জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ।

মমতার গোঁয়ার্তুমির জন্য, আয়ুষ্মান ভারত ও কৃষক সম্মান যোজনার টাকা পাচ্ছে না বাংলার মানুষ
মমতার গোঁয়ার্তুমির জন্য, আয়ুষ্মান ভারত ও কৃষক সম্মান যোজনার টাকা পাচ্ছে না বাংলার মানুষ

প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায়; ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বিমার সুবিধা পাওয়া যায়। ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ প্রকল্পটি নিয়ে; গত লোকসভা ভোটে জমে উঠেছিল; তৃণমূল বিজেপির লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষকে; বঞ্চিত করার অভিযোগ আনে বিজেপি। তার পাল্টা রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কথা; তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা করেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প; রূপায়ণ হবে না রাজ্যে।

কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের আওতায়; বর্তমানে ৫০ কোটি মানুষ এই বিমার সুবিধা পাচ্ছেন; ও বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা অবধি প্রয়োজনে চিকিৎসায় খরচা করতে পারছেন। এরপর এই প্রকল্পের সাহায্যে বেসরকারি হাসপাতালে; বিনামূল্যে চিকিৎসা করানো যাবে। তবে এই প্রকল্প বাংলায় চালু করতে; রাজি ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।

আরও পড়ুনঃ প্রথমবার ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুই মহিলা অফিসার, নতুন পদক্ষেপ ভারতীয় নৌসেনার

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নিধি যোজনায়; তিনটি কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা করে পান ভারতের কৃষকরা। ইতিমধ্যেই দেশের কয়েক কোটি কৃষক এতে উপকৃত হয়েছেন; বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে সামিল হতে চাননি; বলে অসন্তোষ গোপন করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ”মমতার সিদ্ধান্তের জেরে বঞ্চিত হচ্ছেন; এই রাজ্যের কৃষকরা”। তার পাল্টা রাজ্য জানিয়েছে; “পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব প্রকল্প চালু রয়েছে। মোদীর প্রকল্প চাই না”। গোটা দেশে ৫ শতাংশ কৃষককেও সুবিধা দিতে পারেনি কেন্দ্র; অভিযোগ ছিল মমতার।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড.‌ হর্ষ বর্ধনকে পাঠানো চিঠিতে; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে সরকারের ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। জানানো হয়েছে, বাংলার প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ; এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত। তিনি জানিয়ে দেন, ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু করতে হলে; তার ১০০ শতাংশ খরচ বহন করতে হবে কেন্দ্রকে। এবং এর পুরো ফান্ড, রাজ্যের হাত থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরে পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দিতে হবে। একই কথা বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে পাঠানো চিঠিতে। এ ক্ষেত্রেও ফান্ড সরাসরি রাজ্য সরকারের হাতে; দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন